| |

নানা কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে ৭দিনব্যাপী দুর্গাপুরে মণিসিংহ মেলা সমাপ্ত। সভায় কক্তারা বলেন—-

মোঃ মোহন মিয়া,: নেত্রকোণার দুর্গাপুরে নানা কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে ৭দিনব্যাপী মণিসিংহ মেলা বুধবার সমাপ্ত হয়েছে। ৭দিনব্যাপী আলোচনা সভায় জাতীয় রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দ, দেশবরের্ণ বুদ্ধিজীবি আলোচনা সভায় অংশ নেন। সিপিবি’র প্রধান উপদেষ্টা প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কমরেড মঞ্জুরুল আহসান খান বলেন কমরেড মনিসিংহ ছিলেন কৃষক-শ্রমিক খেঁটে খাওয়া সাধারণ ও মাটিয়াল মানুষের হৃদয়ের বন্ধু। কোন লোভ লালসা তাকে আদর্শের পথ থেকে সরিয়ে আনতে পারেনি। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর রাজনৈতিক কর্মী থাকায় মণিসিংহ বিভিন্ন আন্দোলনে জড়িত থাকায় বেশ কয়েকবার জেলে যেতে হয়েছে তাকে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তাকে প্রবাসি অস্থায়ী সরকারের উপদেষ্টা করা হয়। জাতীয় জীবনে অসাধারণ অবদান ও অন্যান্য কীর্তির জন্য তিনি “স্বাধীনতা পুরস্কার” এ ভূষিত হন। স্থানীয় এমপি মি. ছবি বিশ্বাস বলেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের কমরেড মণিসিংহের অবধান নিঃসন্দেহে অনস্বীকার্য। মুক্তিযুদ্ধের সময় মণিসিংহ কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি নির্বাচিত হন। তার প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছিল ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ গেড়িলা বাহিনী। বাংলাদেশ সুজন সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন কমরেড মণিসিংহ ছিলেন গণমানুষের নেতা, আজীবন বিপ্লবী। গোপন বিপ্লবী সংগঠন থেকে শুরু করেন শ্রমিক আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আর্ন্তজাতিক রাজনৈতিক শক্তির সমর্থন আদায়ে তিনিই ছিলেন একমাত্র মূল ব্যক্তি। তার কারণে সোভিয়েত ইউনিয়ন, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিক সহযোগীতা করেন তাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমাজত্রান্ত্রিক সিবিরে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক সমর্থন সাহায্য সহযোগীতা আদায়ে কমরেড মণিসিংহের অবদান অবসন্বাদিত। বৈরী সময়কে উপেক্ষা করেই তার রাজনীতি করতে হয়েছে। প্রকাশ্যে রাজনীতি করার সুযোগ না থাকায় আত্মগোপন করে কমিউনিস্ট পার্টিকে সংগঠিত করেছেন। অন্যদিকে নানান কৌশল অবলম্বন করে গণতান্ত্রিক প্রগতিশিল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করে তার জীবন-যৌবন বিলিয়ে দেন সাধারণ মানুষের জন্য। অধ্যাপক এম.এম আকাশ বলেন, দলের সিদ্ধান্তই ছিল তাঁর সিদ্ধান্ত। জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি পদ দখল করে বৈধতা নেয়ার জন্য গণভোটের আয়োজন করেছিলেন। জিয়ার সেই ‘হা’ ‘না’ ভোটের বিরুদ্ধে ছিলেন মনিসিংহ কিন্তু সিপিবি পার্টির সিদ্ধান্ত ছিল ঐ ভোটে অংশ নেয়ার। মনিসিংহের সিদ্ধান্ত পার্টিতে গৃহীত না হওয়ায় তিনি মন খারাপ করেননি। তিনি মনে করেছিলেন তার চেয়ে দল বড় তাই দলের সিদ্ধান্তই মাথা পেতে নিয়েছিলেন। কৃষক শ্রমিক মেহনতী মানুষের শোষন মুক্তির লড়াই-সংগ্রামের পুরোধা ছিলেন কমরেড মণিসিংহ। দীর্ঘ সাতদশক কৃষক শ্রমীক মেহনতী মানুষের সার্ভিক মুক্তির জন্য শোষীত বৈশম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিস্মরনীয় হয়ে থাকবেন মণিসিংহ। সিপিবি’র কেন্দ্রীয় নেতা ডা. দিবালোক সিংহ বলেন, মনিসিংহ এদেশে আদর্শিক রাজনীতির বীজ বপন করেছিলেন। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের লড়াকু সৈনিক, টংক আন্দোলনের মহানায়ক, মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের উপদেষ্টা মনিসিংহ জন্মগ্রহণ করেন কলিতাকাতায় ২৮জুলাই ১৯০১সালে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। বাবা কালি কুমার সিংহের মৃত্যুর পর মা সরলা দেবী ৭ বছরের মনিসিংহকে নিয়ে আসেন ময়মনসিংহের বর্তমান নেত্রকোনা জেলার সুসং দুর্গাপুরে। পরবর্তীতে মনিসিংহ বিয়ে করেন সুসং রাজ বংশের মেয়ে। সেই সূত্রে মনিসিংহ ছিলেন সুসং রাজ পরিবারের ভাগ্নে। তিনি রাজনীতি শুরু করেছেন সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। তিনি মার্কসবাদ, লেনিনবাদে বিশ্বাসী হয়েছিলেন বলেই তিনি একজন দেশপ্রেমিক, আত্মত্যাগী, জনকল্যাণে নিবেদিত প্রাণ। সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সাধাণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন কমরেড মণিসিংহ একজন জীবন দর্শন আর জীবনাদর্শনের প্রতিশব্দ। তিনি একজন সফল সংগঠক ও সংগ্রামের প্রতিকী। উপমহাদেশের শোষন মুক্তি ও জাতীয় মুক্তির সংগ্রামেও কিংবদন্তী নেতা তিনি। ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদের শাসন শোষন এর হাত থেকে ভারতের স্বাধীনতা অর্জনে তিনি ছিলেন অন্যতম বিপ্লবী। অপরদিকে তিনি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান শোষকদের অবশান গটিয়ে একটি সাম্যের সমাজ গঠনের প্রত্যাশা করেছিলেন। সভাপতি বাংলাদেশ ক্ষেতমুজুর সমিতি এডভোকেট সোহেল আহম্মদ বলেন ১৯৪৭সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পূর্ণ গণতন্ত্র ও শোষন মুক্ত সমাজের আদর্শকে যারা সামনে এনেছেন মণিসিংহ ছিলেন তাদের একজন। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ লুৎফর রহমান বলেন কমরেড মণিসিংহ রাজপরিবারের সন্তান হয়ে সম্পত্যির প্রতি তার লোভ ছিলনা কখনও এমনকি নিজের সম্পত্যি গুলিও সাধারণ বুর্ভূক্ষ মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছিলেন বলেই তিনি এখনো নীল আকাশে ধ্র“ব তারারমত দ্বৃপ্যমান। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ রাজনীতিবীদ বাবু দূর্গাপ্রসাদ তেওয়ারী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ এমদাদুল হক খান, বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মোঃ রুহুল আমীন চুন্নু, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল্লাহ হক, সভাপতি সিপিবি নেত্রকোণা জেলা অধ্যাপক মস্তুফা কামাল প্রমূখ ।