| |

হোয়াইট হাউস এক অজানা বিস্ময়

মো. আবুল কালাম আজাদ :
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর অন্যতম। আমরা যতটা না কৌতূহল দেখাই আমাদের বাংলাদেশের নির্বাচন, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, গণভবন আর বঙ্গভবন নিয়ে তার থেকে অনেক বেশি কৌতূহল কাজ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের জীবনাচার, তাদের নির্বাচন এবং সব থেকে বেশি তাদের রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এর সরকারি আবাসস্থল হোয়াইট হাউস এর প্রতি। সদ্য সমাপ্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ফলে এইটি নিশ্চিত হয়েছে যে, আগামী চার বছরের জন্য হোয়াইট হাউসের অধিপতি হতে যাচ্ছেন জো বাইডেন। ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠার পর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট জন অ্যাডামস থেকে শুরু করে ডোনাল্ড ট্রা¤প — সবাই বাস করেছেন এই সাদা বাড়ীতে। বাইরে থেকে হোয়াইট হাউসের চিত্র হয়তো অনেকেরই পরিচিত। কিন্তু সুবিশাল এই ভবনে কী কী চমক রয়েছে! এই ভবনের ভেতরটা কেমন! মার্কিন প্রেসিডেন্টরা কোথায় ঘুমান! কোথায় গোপন বৈঠক করেন! কোথায়ই-বা সিনেমা দেখেন! ইত্যাকার কতই না জানবার কৌতূহল আমাদের!
এক নজরে হোয়াইট হাউস
ক) হোয়াইট হাউস দাঁড়িয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি শহরের ১৬০০ পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউতে।
খ) পুরো ভবনটি মূলত তিনটি আলাদা ভাগে বিভক্ত : ওয়েস্ট উইং, ইস্ট উইং ও এক্সিকিউটিভ রেসিডেন্স।
গ) ভবনের মোট আয়তন প্রায় ৫৫ হাজার বর্গফুট।
ঘ) ১ শত ৩২ টি কক্ষ, ৩৫ টি শৌচাগার ও ৩ টি রান্নাঘর।
ঙ) থিয়েটার হল, সুইমিং পুল, টেনিস কোর্ট, গলফ কোর্ট ও জগিং ট্র্যাকও আছে।
চ) এর দরজার সংখ্যা ৪ শত ১২ টি এবং জানালা ১ শত ৪৭ টি।
ছ) ওঠানামার জন্য আছে ৮ টি সিঁড়ি এবং ৩ টি লিফট।
জ) ভবনগুলোর বাইরের পুরো অংশ রঙ করতে প্রায় ৫ শত ৭০ গ্যালন রঙ লাগে।

ওয়েস্ট উইং :
চারতলা এই ভবনে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। তার মধ্যে অন্যতম হলো প্রেসিডেন্ট রুম, ওভাল অফিস ও কেবিনেট রুম। আগে প্রেসিডেন্ট রুমে সেক্রেটারি দপ্তর ও প্রেসিডেন্ট দপ্তর ছিল। বর্তমানে এই কক্ষ ডাইনিং রুম বা খাবার ঘর হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

ওভাল অফিসটি বর্তমানে প্রেসিডেন্টের প্রধান দপ্তর। ডিম্বাকৃতির এই কক্ষের জানালাগুলো বুলেটফ্রুপ কাঁচ দিয়ে তৈরি। কক্ষটির অন্দরসজ্জা ও আসবাব প্রেসিডেন্টের পছন্দ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়। ওভাল অফিসের বাইরে ডান দিকে হোয়াইট হাইস রোজ গার্ডেন। এটি বিশেষ অনুষ্ঠান এবং বিশেষ অতিথিদের জন্য ব্যবহার করা হয়। কেবিনেট রুমে প্রেসিডেন্ট তাঁর মন্ত্রীসভার সঙ্গে বৈঠক করেন। হোয়াইট হাউসের রীতি অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট সব সময় টেবিলের মাঝখানে বসেন। গ্রাউন্ড ফ্লোরে আছে সিচুয়েশন রুম। ৫ হাজার বর্গফুটের এই ঘরে প্রেসিডেন্ট আসেন সমস্যার মুখোমুখি হলে। এখানে তিনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে শলাপরামর্শ করেন। সিচুয়েশন রুম চালান ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কর্মীরা। প্রেস ব্রিফিং রুম, যেখান থেকে সংবাদ মাধ্যমের সামনে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট।

এক্সিকিউটিভ রেসিডেন্স :

হোয়াইট হাউস চত্বরের কেন্দ্রীয় ভবন হলো এক্সিকিউটিভ রেসিডেন্স। এটি মূলত ওয়েস্ট ও ইস্ট উইংয়ের মাঝখানে অবস্থিত। এই ভবনে আছে সবুজ, নীল ও লাল কক্ষ। এসব কক্ষের জানালার পর্দা, মেঝের কার্পেটসহ গৃহসজ্জার সামগ্রীর রঙ কক্ষের নাম অনুসারে হয়ে থাকে। এই ভবনের তৃতীয় তলায় আছে প্রেসিডেন্সিয়াল বেডরুম স্যুইট। এখানে আছে প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডির ব্যক্তিগত শোবার ঘর, আরেকটি শোবার ঘর এবং সাজসজ্জার ঘর।

ইস্ট উইং :

এক্সিকিউটিভ রেসিডেন্সের পুবদিকে দ্বিতল ভবনটি হলো ইস্ট উইং। ভবনের দ্বিতীয় তলায় আছে ফার্স্ট লেডির দপ্তর। এছাড়া এই ভবনে আছে একটি পারিবারিক থিয়েটার হল, যেখানে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দিনের যেকোনো সময় নিজেদের পছন্দের সিনেমা উপভোগ করতে পারেন। এক্সকিউটিভ রেসিডেন্সের ফার্স্ট ফ্লোরে আছে ক্রস হল। এটি হোয়াইট হাউসের সবচেয়ে প্রশস্ত হলওয়ে। ক্রস হল স্টেট ডাইনিং রুম এবং ইস্ট রুমের সঙ্গে এক্সিকিউটিভ রেসিডেন্সের সংযোগ স্থাপন করেছে।
তথ্যসূত্র : বিজনেস ইনসাইডার ও হোয়াইট হাউস মিউজিয়াম।