| |

ঝিনাইগাতীর গারো পাহাড় থেকে অবৈধভাবে পাথর ও বালু লুটপাটের মহোৎসব

ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি : শেরপুরর ঝিনাগাতী উপজেলার গারো পাহাড় থেকে অবৈধভাবে পাথর ও বালু লুটপাটের মহোৎসব চলছে। স্থানীয় এক শ্রেণির অসাধু পাথর ও বালু ব্যবসায়ীরা উপজেলার বিভিন্ন নদী ও গারো পাহাড় থেকে অবাধে পাথর লুটপাট করে আসছে। পাহাড় কেটে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন করায় গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। ঐতিহ্যবাহী এ গারো পাহাড়ে ব্রীটিশ আমাল থেকে পাথর উত্তোলন করা হতো। নিয়মতান্ত্রিকভাবে পাথর উত্তোলন করায় এলাকার শ্রমিকদের বেকারত্ব দূর হবার পাশাপাশি সরকারের কোষাগারে যেত বিপুল পরিমাণে রাজস্ব। দেশ স্বাধীনের পর থেকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারনে নিয়ম বর্হিভূতভাবে পাহাড় কেটে পাথর উত্তোলন করায় গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়ে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার্থে পাহাড় কেটে পাথর উত্তোলন করে নিষিদ্ধ ঘোষানা করে। ওই সরকারের পট পরিবর্তন হয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে নির্বিচারে আবারো শুরু হয় পাহাড় কেটে পাথর লুটপাটের মহোৎসব। এতে গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিরান ভূমিতে পরিণত হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে পাহাড় কেটে পাথর উত্তোলন পুনরায় বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু সরকারিভাবে পাহাড় কেটে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হলেও স্থানীয় এক শ্রেণীর অসাধু পাথর ব্যবসায়ী অবৈধভাবে পাথর ও বালু লুটপাট করে আসছে। কোন কোন সময় ক্ষমতাশীন দলের প্রভাব খাটিয়ে পাথর ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে পাথর ব্যবসা করে আঙ্গুল ফোলে কলাগাছ বনে গেছেন। সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে গারো পাহাড় ঘুরে দেখা গেছে হালচাটি, বাকাকুড়া, তাওয়াকুচা, পানবর, গজনী, ছোট গজনী, শিলঝোড়া, মঙ্গলঝোড়া, সোমেশ্বরী, আয়নাপুর, কালঘোষা নদীর গান্ধিগাওসহ গারো পাহাড়ের বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে পাথর ও বালু লুটপাট করা হচ্ছে। এসব পাথর ও বালু স্থানীয় ভাবে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট নির্মানে ব্যবহারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে। মাঝেমধ্যেই অবৈধ পাথর আটকও করা হচ্ছে। কিন্তু এসব অবৈধ পাথর ও বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন মামলা হয় না। রহস্যজনক কারনে আটককৃত পাথর ছেড়ে দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে প্রকাশ অবৈধ পাথর ব্যবসায়ীরা স্থানীয় বিভাগীয় এক শ্রেণীর অসাধু বন কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজষে অবাধে এসব পাথর ও বালু লুটপাট চালিয়ে আসছে। গারো পাহাড় থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করায় একদিকে যেমন গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অপরদিকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বিপুল পরিমাণের রাজস্ব আয় থেকে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সেলিম রেজার সাথে কথা হলে বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানান।