| |

নির্মাণের ২ বছর না যেতেই দুর্গাপুর বিরিশিরি- শ্যামগঞ্জ মহা সড়কে খানাখন্দে ভরাঃ দূর্ভোগ যাত্রীদের চরমে। দেখার যেন কেউ নেই।

মোঃ মোহন মিয়া : কবির ভাষায় দুঃখে যাদের জীবন গড়া তাদের আবার দুঃখ কিসের। আর এই বাস্তব কথাটি বাস্তবায়িত হয়ে আসছে নেত্রকোণার সুসং মহারাজার স্মৃতি বিজরীত ও আদিবাসী অধ্যুষিত উপজেলা দুর্গাপুরে। ৪ লাখ জনগোষ্ঠির বসবাস এই উপজেলায়। পাশেই রয়েছে কলমাকান্দা ও ধোবাউড়া উপজেলার ৫ লাখ লোকের সড়ক যোগাযোগের একমাত্র দুর্গাপুর বিরিশিরি-শ্যামগঞ্জ সড়ক। প্রায় ৪’শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কটি ২ বছর যেতে নাযেতেই জায়গায় জায়গায় উচু নিচু-ছোট বড় গর্ত আর খানা খন্দে ভরপুরে জনসাধারণের দুর্ভোগ এখন চরমে। প্রায় ৫০ বছর ধরে যাতায়েতে দুঃখ কষ্ট বহন করে অনেক আন্দোলন ও মানব বন্ধন শেষে ২০১১ সালে মার্চ মাসে বর্তমান রাষ্ট্রপতি (সাবেক স্পিকার) মোঃ আব্দুল হামিদ খান শ্যামগঞ্জ থেকে দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদ পর্যন্ত ৩৬ কিঃমিঃ সড়কটি ১২ ব্রীজসহ ৪শত কোটি ব্যয়ে নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিক ভাবে শুভ উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে এলাকার মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বপ্নের সেতু “শুকনাকড়ী ব্রীজ” ও সোমেশ্বরী নদীর উপর বিরিশিরি ব্রীজ এর জন্য ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঢিলেঢালাভাবে এর কাজ সম্পন্ন হলেও শুকনাকড়ী ব্রীজের অর্ধেক কাজ করে প্রায় ৭ বছর ঝুলে থাকার পর বর্তমান সরকারের সাবেক জনপ্রিয় এমপি মোস্তাক আহাম্মদ রুহির ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় ৩ বছর পূর্বে ব্রীজটির কাজ সম্পন্ন করা হয়। তখন মানুষের আনন্দ ও খুশির জোয়ার ভেসে আসে। এরপর থেকে শুরু হয় শত শত ভাড়ী ট্রাক, লড়ি চলাচলের প্রতিযোগীতা। বিজয়পুরের সাদা মাটি, কয়লা, সোমেশ্বরী নদীর বালু, নূরী পাথর অতিরিক্ত বোঝাই করে চলাচল করায় সড়কটির অবস্থা ১২টা বেজে যায়। সৃষ্টি হয় ময়মনসিংহ থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত ৪০ স্থানে উচুনিচু গর্ত ও খানাখন্দ। এতে জনগণের দুর্ভোগ আরো বেড়ে যায়। বর্তমানে এই সড়কদিয়ে দৈনিক যাত্রীবাহী বাস ৪০টি, সিএনজি ৫০টি ও ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেল চলাচল করে থাকে। রাতে খানাখন্দ গুলি দৃশ্যমান না হওয়ায় গর্তে পরেগিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হন। তা ছাড়া জরুরী রোগী জেলা সদরে নেওয়ার সময় পথিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে এমন রোগীর সংখ্যাও কমনয়। এই দৃশ্য চোখে না দেখলে বোঝা যাবেনা। জেলার সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ সরাসরি দুর্গাপুরে আসতে না পারায় বিকল্প রাস্তা কলমাকান্দা হয়ে আসেন এখানে। মন্ত্রী এমপিসহ সরকারি কর্মকর্তাগণও এখানে এসে বিভিন্ন সেমিনার সমাবেশে বলে থাকেন রাস্তাটি খুব খারাপ আসতে দেরী হয়েছে। ক্ষমা করবেন বলেই খ্যান্ত। অনেক বিদেশী পর্যটকরা দুর্গাপুরের সুন্দর লীলাভূমি দেখতে এসে মাঝপথ থেকে ফিরে যান। এটি দেখার যেন কেও নেই। এরপরেও সড়কটি মেরামতের কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। অপরদিকে সোমেশ্বরী নদীর উপর বিরিশিরি সেতু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দুই পার্শ্বের অংশ ভেঙ্গে গেছে। লোহার প্লেটগুলিও চুরি হয়েগেছে। ব্রীজের উপরে প্রচুর বালু জমে ‘মরুভূমি বালুরচরে পরিনত হয়েছে’ এতে যানবাহন চলাচলে মরাত্মক বেঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। মাঝেমধ্যে শ্যামগঞ্জ সড়কের আংশিক অংশ মেরামত করে সরকারি লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া ছাড়া আর কিছুই নেই বলে জানান এলাকার পর্যবেক্ষক মহল। তারা আরো মনে করেন, একটি টেকসই প্রকল্প হাতে নিয়ে সরকার নতুন করে সম্পুর্ণ সড়কটি নির্মাণ করলে একদিকে যেমন সরকারি অর্থ সঠিক ব্যয় হবে অপরদিকে জনগণের দূর্ভোগ স্থায়ীভাবে লাঘব হবে, এমনটিও তারা জানান। নইলে দুর্গাপুর আর দুর্গাপুর না হয়ে দুর্গমপুর নামেই থেকে যাবে। নেত্রকোণার সড়ক ও জনপদ প্রকৌশলী মোঃ মাসুদ খান বলেন একটি টেকসই প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কটি নতুন করে নির্মাণ না করলে কোনো কাজে লাগবে না। উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত করে একটি টেকসই সড়ক নতুন করে নির্মাণ করার জন্য বর্তমান জনপ্রিয় সড়ক ও সেতু মন্ত্রী মাননীয় ওবায়দুল কাদেরের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন দুর্গাপুরবাসী।