| |

ফুলবাড়ীয়ার এস আই মাসুদ শিকদার খবরদারি করতো এলাকায়

ফুলবাড়ীয়া ব্যুরো অফিস : ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ৯নং এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর পূর্বপাড়া মাসদু শিকদারের গ্রামের বাড়ী। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ ফুলবাড়ীয়ায় তাদের অবস্থান। তার বাবার নাম মৃত সিরাজ আলী শিকদার, মাতা মোছা. ফজিলাতুন্নেছা। তার বাবা ৩টি বিয়ে করেন। ৩য় তরফের ৩ভাইয়ের মধ্যে মাসুদ শিকদার সবার বড়। তার জন্ম সম্ভবত ১৯৮০সালে। তার ছোট ২ভাই শহিদ শিকদার, আলাদীনস পার্কে চাকুরি করেন ও হামিদ শিকদার মালদ্বীপ প্রবাসী বলে পরিবারের দাবী। কিন্তু এ ভাইকে নিয়ে রয়েছে এলাকায় নানা গুঞ্জন। ছোট ভাই, পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও এলাকাবাসীর তথ্য মতে-
শিক্ষাগত যোগত্যা : ১৯৯৫সালে টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর থানার ঘুনারচালা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি পাশ করেন। চাকুরীরত অবস্থায় তিনি দূর প্রশিক্ষণ কোন টিউটেরিয়াল কেন্দ্র থেকে এইচ এস সি পাশ করেন।
চাকুরী জীবন : ১৯৯৭সালে পুলিশ কনষ্টেবল পদে চাকুরীতে যোগদান করে ২০০৭সালে এ. এস. আই এবং ২০০৯সালে এস. আই পদোন্নতি প্রাপ্ত হন।
বিয়ে ও সন্তানাদি : ২০০০ সালে পার্শ্বের বাড়ীর আমছর ডাকাতের মেয়ে রুমা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে ২ছেলে ও ১মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে ৭ম এবং ছোট ছেলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। একমাত্র মেয়ে সবার ছোট।
রাজনীতি : মাসুদ শিকদার ছাত্র রাজনীতি না করলেও তার বংশগত আ’লীগ পরিচয়ে চাকুরীতে যোগদান করে চাকুরীর পাশাপাশি উৎপ্রোতভাবে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করেন।
চাকুরীতে পদোন্নতি পেয়ে মাসুদ শিকদার এলাকায় একটি বাহিনী তৈরি করেন। এদের দিয়ে তিনি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগকে ২গ্রুপে বিভক্ত করে আন্ডার গ্রাউন্ডে কাজ করেন তিনি। আর তা পরিচিত লাভ করে মাসুদ বাহিনী নামে। এস আই হয়ে তিনি সোয়াইতপুর বাজারে ৫শতক জমি ক্রয় করে চারদিকে বাউন্ডারী এবং হাফ বিল্ডিং বাড়ী নির্মাণ করেন আনুমানিক ৩৫লাখ টাকা ব্যয়ে। সেখানে ভাড়াটিয়া তুলেছেন যারা নারীদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করেন বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। আর তিনি যেদিন আসতেন সেদিন তার গ্রুপের নেতৃত্বে সেখানে মদ ও গাজার আসর জমতো। স্থানীয় ছাত্রলীগের সোহেল, সবুজ ও জুলহাসের নেতৃত্বে গঠিত গ্রুপ দিয়ে মাসুদ শিকদার ঢাকায় চাঁদাবাজি শুরু করেন। তদন্তে প্রমাণ পাওয়ায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভায় সর্ব সম্মতিক্রমে এনায়েতপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সোহেল, সবুজ ও জুলহাসকে অব্যহতি দিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়।
কৃষক পরিবারের জন্ম নেয়া মাসুদ শিকদার এলাকায় চলাফেরা ও উঠতি বয়সের যুবকদেরকে টাকা
পয়সা ছড়ানো দেখে মনে হয় কোটিপতির ঘরে জন্ম তার। মাসুদ শিকদার একজন ঘুষখোর হয়েও মাঝে মধ্যে তার ফেইসবুক আইডিতে উপদেশ মুলক স্ট্যাটাজ দিতেন। যা নিয়ে পরিচিত পাঠক সমাজে হাসিরপাত্র হতেন মাসুদ শিকদার। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তিনি ‘এনায়েতপুর টামকার্ড’ নামে একটি ভুয়া আইডি চালাতেন। এলাকাবাসীর চাপের মুখে সেটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন মাসুদ শিকদার। তিনি ঢাকায় চাকুরী করেও তার ইউনিয়ন এনায়েতপুরের সকল বিষয়ে নাক গলাতেন বলে বিভিন্ন মহলে প্রচার রয়েছে। ফলে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও রাজনীতিবিদদের তার সম্পর্কে ভাল জানতেন না। সম্প্রতি ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বিকে নির্যাতন ও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবীর ঘটনা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারেন এলাকাবাসী। এ ঘটনা জানাজানির পর থেকে সোয়াইতপুর গ্রামসহ গোটা দেশ জুড়েই ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে। সাংবাদিক, শিক্ষক, রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ঘটনাটির সুষ্ঠ তদন্ত করে বিচার দাবী করেছেন।