| |

অন্ত:স্বত্বা ধর্ষিতার আকুতি !

ঈশ্বরগঞ্জ প্রতিনিধি : প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে মামুন শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। অন্ত:স্বত্বা হয়ে পড়লে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। ওই অবস্থায় মামলা করার পর মামুনের পরিবার বিয়ে করিয়ে ঘরে তুলতে রাজী হয়। হয় আপোস মীমাংসার আলোচনা। কিন্তু জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর আবার অস্বীকার করে। তাকে ঘরে তোলার কথা বলায় মামুনের পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়রা তাকে ও তার অনাগত সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। ওই অবস্থায় অতঙ্কে দিন কাটছে নির্যাতিতা ও তার পরিবারের। এমন ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে।
পৌর সদর চরনিখলা গ্রামের আবদুছ ছাত্তারের ছেলে মামুন মিয়া (২২) প্রতিবেশী ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে গত আগস্ট মাসে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুললে কিশোরীটি অন্ত:স্বত্বা হয়ে পড়ে। মামুন ওই কিশোরীকে গ্রহণ করতে রাজী না হওয়ায় গত ২০ নভেম্বর ওই কিশোরী বাদি হয়ে মামুন এবং তার দুই ভাই জব্বার ও কারিমকে অভিযুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। ওই মামলায় মামুন ও তার দুই ভাইকে ২০ নভেম্বর গ্রেফতার করে পর দিন আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়। মামুন ও তার দুই ভাই জেলে যাওয়ার নির্যাতিতা কিশোরীকে বিয়ের মাধ্যমে ঘরে তোলার আশ্বাস দেয়। কিন্তু ৩০ নভেম্বর মামুন ও তার দুই ভাই জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর দৃশ্যপট পাল্টে যায়। মামুনের পরিবার কিশোরীটিকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। এদিকে জামিনে ছাড়া পেয়ে মামুন এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। বর্তমানে মামুনের পরিবারের লোকজন নির্যাতিতার পরিবারকে অব্যহত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। হুমকি দেওয়ায় নির্যাতিতা কিশোরীর ভাই গত ১ জানুয়ারি ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন।
অভিযুক্ত মামুনের বাবা আবদুছ ছাত্তার বলেন, ডিএন পরীক্ষার মাধ্যমে কিশোরীর গর্ভের সন্তান তার ছেলের প্রমাণিত হয়ে তাকে বিয়ে করিয়ে ঘরে তুলবেন।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, কিশোরীর দায়ের করা মামলায় ইতোমধ্যে চার্জশীট দেওয়া হয়েছে। এর পরেও কোনো ঘটনা ঘটলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।