| |

ক্ষতিকর শামুক আফ্রিকান জায়ান্ট ল্যান্ড স্নেইল-এর একটি প্রজাতি ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশে

আনোয়ার হোসেন, ময়মনসিংহ
বিচিত্র সব শামুক পৃথিবীর নানা দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। শামুকের কিছু জাত দেখতে অসুন্দর হলেও অনেক জাত আছে যা দেখতে অনেক সুন্দর। আবার কিছু জাত আছে মানুষের জন্য উপকারী তেমনি কিছু জাত আছে মানুষের জন্য ক্ষতিকরও। ক্ষতিকর এমন একটি শামুকের জাত আফ্রিকান জায়ান্ট ল্যান্ড স্নেইল যা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে ।
সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আফ্রিকান জায়ান্ট ল্যান্ড স্নেইল নামে এই প্রাণিটি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠার চিত্র নজরে এসেছে বিজ্ঞানী ও কৃষিবিদদের। গবেষকরা বলছেন আফ্রিকান জায়ান্ট ল্যান্ড স্নেইলকে দমন করা না গেলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পরবে রবি শস্য ও ফলজ বৃক্ষ। জটিল রোগে আক্রান্ত হবে মানুষও। এরই মধ্যে বিশ্বে কৃষি প্রধান দেশগুলোকে আফ্ররিকান এই শামুকটির বিষয়ে সচেতন করতে আন্তর্জাতিক গণ মাধ্যমগুলোও গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
সাধারণত শামুককে পরিবেশের বন্ধু হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। তবে বাংলাদেশ কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দেখা দেয়া এই শামুকটি চিন্তার কারন হয়ে দাড়িয়েছে কৃষি গবেষকদের। আফ্রিকান জায়ান্ট ল্যান্ড স্নেইল নামে নতুন প্রজাতির এ শামুকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু ছড়িয়েই পড়েনি, হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানান উদ্ভিদকে। এদের সংগ্রহ করে ধ্বংশ করা হচ্ছে। তবে সংখ্যায় বেড়ে যাওয়ায় এদের নির্মূল করা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেরা সাইটোলজি গবেষক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন বিভিন্ন সময় বিদেশ থেকে আমাদের দেশে গাছ-পালা আনা হয়। সেখানকার মাটিতে কিংবা গাছের পাতার মধ্যে লুকিয়ে থেকে প্রজাতিটি আমাদের দেশে চলে এসেছে বলে ধারনা করছেন।এ প্রজাতিটি গাছপালা, লতাপাতা, ফলমূল খেয়ে ধ্বংস করে। বিশেষ করে রবি শস্যের জন্য এটি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বড় শংকার কারণ হচ্ছে এর মুখ থেকে নি:শৃত লালা মানুষের জটিল রোগ সৃষ্টি করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ নাজমুল আহসান হলের বাগান পরিচর্যাকারী জানায়, প্রতিবছর শীতকে সামনে রেখে হলের সৌন্দয্যের জন্য বিভিন্ন রকম ফুলের গাছ লাগানো হয়। কিন্তু এ বছর বড় আকারের এ শামুকগুলো গাঁদা,জিনিয়া,সিলভিয়া, বাগান বিলাস, ক্যাকটাস সহ বিভিন্ন গাছের কচি পাতা খেয়ে ফেলছে। গাছ গুলো টিকানো যাচ্ছে না। একবার গাছ গুলো আক্রমনের শিকার হলে সে গাছকে বাচানো যায়না। আমাদের দেশীয় যে শামুক আছে সেগুলো উপকারী। তারা সমতল ভূমিতে উঠে আসেনা, বরং তারা পানিতেই থাকতে পছন্দ করে।
জানা যায়, প্রাকৃতিক ও দেশীয় মাছের প্রধান খাদ্য হচ্ছে শামুকের ডিম ও মাংস। বিশেষ করে কৈ,শিং ,টাকি,ট্যেংরা,মাগুর, মাছের পোনার একমাত্র খাদ্য হচ্ছে শামুকের নরম ডিম। আর এ খাবার না পেলে ওই পোনা মারা যায়। দক্ষিণাঞ্চলের ঘের মালিকরা শামুকের খোলসের ভেতরের নরম অংশ চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু এ প্রজাতিটি গাছপালা,লতাপাতা,ফলমূল খেয়ে ধ্বংস করে। এমনকি দিনের বেলাতেও গাছের পাতা খেয়ে গাছ ধ্বংস করে।
দিনের বেলায় এই শামুকটি সূর্য্যরে আলো থেকে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করে। তাবে রাতে সদলবলে হানা দেয় গাছপালায়। এদিকে (বাকৃবি) কীট তত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. খন্দকার শরীফুল ইসলাম বলেছেন উপযুক্ত পরিবেশ পাওয়ায় এটি ব্যাপক হারে বংশ বিস্তার করছে। ভিনদেশি এই শামুক যাতে হুমকি হয়ে না দাঁড়ায় সেজন্য এখনি গবেষনা চালিয়ে ব্যাবস্থা নেয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে এই আফ্রিকান শামুকটি নতুন হলেও আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গ রাজ্য, ভারত সহ আরো বেশ কয়েকটি কৃষিপ্রধান দেশের জন্য এটি ইতোমধ্যেই ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও শিরোনাম হয়েছে এই শামুক। তাই এখনি সর্তক হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।