| |

ফুলবাড়ীয়ায় ৪০-৫০ফুট রাস্তার জন্য সারুটিয়া গ্রামের কর্মকার বাড়ীর মানুষ জিম্মি

ফুলবাড়ীয়া ব্যুরো অফিস : উপজেলার ৪নং বালিয়ান ইউনিয়নের তেলীগ্রাম বাজার সংলগ্ন চামারবাজাইল নূরুল ইসলাম হাজী বাড়ী হতে সারুটিয়া কর্মকার বাড়ী পর্যন্ত ৬-৭শ ফুট লম্বা রাস্তার ৪০-৫০ফুট অংশে রাস্তা না দেয়ায় কর্মকার বাড়ীসহ ঐ এলাকার দেড়শ পরিবার ছামেদ আলীর ফকিরের কাছে জিন্মি হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে ২০১৫সালের প্রথমদিকে নূরুল ইসলাম হাজী বাড়ী হতে সারুটিয়া কর্মকার বাড়ী পর্যন্ত রাস্তাটুকু এলাকাবাসীর অর্থায়নে কাজ শুরু করে এলাকাবাসী। কাজ প্রায় শেষের দিকে কিন্তু হঠাৎ ছামু ফকিরের পুত্র ছামেদ আলী ফকির রাস্তা নির্মানে বাঁধা দেন। ফলে বন্ধ হয়ে যায় রাস্তার কাজ। চামারবাজাইল নূরুল ইসলাম হাজী বাড়ী হতে ৪০-৫০ফুট জায়গার জন্য ৬/৭শ ফুট রাস্তার সুফল পাচ্ছে না শত শত মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন বয়স্ক ও শিশুরা। স্থানীয়দের মতে, প্রতিদিন তেলীগ্রাম বাজার, তেলীগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়, তেলীগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, মসজিদ, কর্মকার বাড়ীতে মন্দিরসহ বিভিন্ন কাজে শত শত স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রী ও পথচারী যাতায়াত করে থাকেন। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় বর্ষাকালে। এসময় ছেলে মেয়েরা এক হাতে বই অন্য হাতে জুতা নিয়ে ডুবে যাওয়া আইল দিয়ে চলাচল করে। অনেক মেয়েরা লজ্জায় অন্য রাস্তা দিয়ে ৫মিনিটের রাস্তা ঘুরে ৩৫/৪০মিনিটে যাতায়াত করে।
রাস্তা নির্মানকালে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে গত ১০.০১.২০১৫ইং সালে সমস্যার সমাধানকল্পে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেছিলেন। তাতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এড. মফিজ উদ্দিন মন্ডল ও উপজেলা চেয়ারম্যান এড. আজিজুর রহমান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সুপারিশও করেছিলেন। কিন্তু তা আর কোন ফল বয়ে আনেনি।
হাজী নুরুল ইসলাম (৫৫) জানান, আমরা সবাই রাস্তার জন্য জমি ছেড়ে দিয়েছি। কারণ এখানে একটি কর্মকার বাড়ী রয়েছে, তাদের বাড়ীতে পূজা হয় অনেক দূর-দূরান্ত হতে লোকজন আসে, এ রাস্তা দিয়ে তাদের চলাচল করা কষ্ট হয়। ঐ সমাজের মানুষ এরাও আমাদেরই এটা আমরা বুঝলেও ছামেদ আলী ফকির সাহেব বুঝে না।
কলেজ পড়–য়া ছাত্র রাশেদুল ইসলাম জানান, ৫মিনিটের রাস্তা আধঘন্টায় যেতে হয় কিছুই করার নেই।
বিল্লাল হোসেন (৪৫) বলেন, বর্ষাকালে ছাত্র-ছাত্রীরা যখন কাঁদা দিয়ে যায়, তখন আমাদের কষ্ট হয়। আমরা চাইলেও শুধু একজনের জন্যে সম্ভব হচ্ছে না। তেলীগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী নারগিছ (৮ম), আফরোজা (৮ম), আক্তারা (৬ষ্ঠ) রুবিনা (৬ষ্ঠ) বলেন, বর্ষাকালে আমাদের বইগুলো ভিজে যায়, আমাদের অনেক কষ্ট হয়। আমরা চাই প্রশাসনের হস্তেক্ষেপে আমরা রাস্তাটি পাবো।
এলাকাবাসীর দাবী অধিকাংশ হয়ে যাওয়া রাস্তাটি পূর্ণতা ফিরে আনতে উপজেলা প্রশাসন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।