| |

কলমাকান্দায় জনমনে আতংক অজ্ঞাত রোগে শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু!

সৌমিন খেলন : নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নে জনমনে ছড়িয়ে পড়েছে মৃত্যু আতংক। হঠাৎ মানুষের গায়ে ফুসকা পড়ে ও কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এসে ইতোমধ্যে শিশুসহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এব্যপারে শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে কৈলাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, এধরণের লক্ষনে জামসেন গ্রামে আক্রান্ত হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এ ব্যপারে সরকারী কোনো স্বাস্থ্যকর্মী কিংবা চিকিৎসকদের ভ্রুক্ষেপ নেই। সাবেক ওই চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে জাহাঙ্গীর আলম, উসমান আলী নামে দুই গ্রামবাসী জানান, রোগে আক্রান্ত হওয়া ও মৃত্যুর ভয়ে গ্রামের কারো চোখে ঘুম নেই। এপর্যন্ত পাঁচটি প্রাণ ঝরে যাওয়ার পরও স্বাস্থ্য বিভাগের কি কোনো দায়িত্ব নেই ? তাহলে দেশে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রয়োজনীয়তা কি? প্রশ্ন রাখেন তারা। রবণ খাঁ (৭২), ফজলুল হক (৪৫), ফৌজদার মিয়ার মেয়ে মাসুদা আক্তার (১৩) ও ছেলে রফিকুল ইসলাম (৫), চতুর্থ শ্রেণীতে পড়–য়া হাশেম উদ্দিনের মেয়ে মারুফা আক্তার (৯) এই অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে তাদের পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ। তাদের প্রত্যেকেরই আক্রান্ত হওয়ার লক্ষন ছিলো গায়ে হঠাৎ ফুসকা পড়া ও কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা। এর মধ্যে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মৃত্যু হয় শিশু মারুফার। স্বদেশ সংবাদে জানিয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার। ওই ইউনিয়নের জামসেন গ্রামে ওই ধরণের রোগে আক্রান্ত রয়েছে হাতে নাম পাওয়া এমন ব্যক্তিরা হলেন হাসিম উদ্দিনের ছেলে অলিউল্লাহ (৭), আলাল উদ্দিনের ছেলে আরিফ বিল্লাহ (৮ মাস), মুক্তার উদ্দিনের ছেলে সোহরাব মিয়া (১০), গুটি বসন্তে মৃত্যু বরণকারী রবণ খাঁ’র ছেলে নূর ইসলাম (৮), নয়ন মিয়ার ছেলে সাগর (৮) জাকিয়া (২) ও তাদের মা হলুদা আক্তার (৩০), আবু তাহেরের মেয়ে হীরা মনি (৬) তার বোন নীলা মনি (৪), কালাম মিয়ার ছেলে শরীফ মিয়া (৬) মুক্তা আক্তার (৮) রেখা আক্তার (২১) রুখসানাসহ (১০) বিভিন্ন বয়সের ১৬ জন। নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডা. বিজন কান্তি সরকার শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে স্বদেশ সংবাদে বলেন, কলমাকান্দায় অজানা এক রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে এমন খবর পেয়ে ওই এলাকায় মেডিকেল টিম কাজ করছে। রোগ নির্নয় করার জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে। ইতোমধ্যে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের মৃত্যুর কারণ জানতেও ঢাকা থেকে মেডিকেল আসবে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।