| |

কৃষকের জন্য বৃষ্টি আর্শিবাদ -বিলাস চন্দ্র পাল

সৌমিন খেলন : ফসল উৎপাদনে কৃষকের জন্য বৃষ্টি আর্শিবাদ হয়ে এসেছে বলে দাবি করেছেন নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিলাস চন্দ্র পাল। স্বদেশ সংবাদে দেওয়া এক তথ্যে তিনি এ দাবি জানিয়েছেন। বৃষ্টি হওয়ার ফলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমে এসেছে। এমনকি এই বৃষ্টি ভালো ফসল উৎপাদনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত দেন ওই কৃষি কর্মকর্তা। এদিকে হঠাৎ বৃষ্টিতে বেড়েছে শীতের দাপট। বৃষ্টি ও হাড় কাপানো শীতকে উপেক্ষা করে ভোরের কুয়াশা থেকে হীম বাতাসে সন্ধ্যা পর্যন্ত গায়ে কাদা মেখে ইরি-বোরো আবাদে ব্যস্ততায় সময় পাড় করছেন নেত্রকোনার প্রতিটি কৃষক। কারন একটাই চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ। জেলা সদরসহ প্রতিটি উপজেলা ঘুরে কৃষকদের ব্যস্ততা এমনই চিত্র চোখে পড়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লক্ষ ৮০ হাজার ৩ শ’ ৩ হেক্টর জমি। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৬ লক্ষ ৯৭ হাজার ৭ শ’ ৭০ মেট্রিক টন। কেন্দুয়া উপজেলার আশুজিয়া গ্রামের কৃষক তায়েব আলী স্বদেশ সংবাদে আলাপকালে বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় একটু ব্যস্ততা নিয়েই রোপন কাজ সেরে ফেলতে চেষ্টা করছেন তিনি। ইতোমধ্যে তার ৪৭ কাটা জমিতে বোরো রোপন করাও শেষ হয়েছে। জল্লী গ্রামের কৃষক নুরুল হক বলেন, গত মওসুমে ফসল উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় ক্ষতির সম্মখিন হয়েছি। যে ক্ষতি এখন পর্যন্ত কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়নি। তবে এবার ১১০ কাটা জমিতে ইরি-বোরো রোপন করা হয়েছে। আল্লাহ্ চায় তো আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে। এবছরে ফসলের ভালো ফলন হলে পূর্বের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া যাবে বলে মনে করেন কৃষক নুরুল হক। আমরা শীতকে ভয় পেয়ে ঘরে বসে থাকলে দেশের মানুষ খাবে কি আর আমার সংসারই বা চলবে কি ভাবে এমন কথা বলে জেলার বারহাট্টা উজেলার কৃষক স্বদেশ সংবাদে জানান, ঋণ নিয়ে ইতোমধ্যে তিনি ৩৩ কাটা জমিতে বোরো রোপন করেছেন। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ ছাড়া ফসল ঘরে তুলতে পারলে আলোর মুখ দেখা যাবে যোগ করেন। পূর্বধলার গোয়ালাকান্দা গ্রামের কৃষক ইসলাম উদ্দিন বলেন, কৃষক বাজারে যদি ধানের ন্যায্য মূল্য পায় তবে এবারের উৎপাদনে লাভবান হবে জেলার প্রতিটি কৃষক। নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র স্বদেশ সংবাদে জানায়, জেলায় ১ লক্ষ ৬৯ হাজার ১ শ’ ৯৩ হেক্টর জমিতে উফশী, ১০ হাজার ৪ শ’ ৫৯ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড এবং ৬ শ’ ৫১ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হবে স্থানীয় জাতের ধান। জেলায় ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ১ লক্ষ ৮০ হাজার ৩ শ’ ৩ হেক্টর জমি। তারমধ্যে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লক্ষ ৯৭ হাজার ৭ শ’ ৭০ মেট্রিক টন। সবশেষে নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, পরবর্তীতে প্রাকৃতিক বড় কোনো দুর্যোগ দেখা না দিলে জেলায় এবার ধানের বাম্পার ফলন হবে। বুধবার পর্যন্ত জেলায় ১লাখ ৫ হাজার হেক্টর জমি আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী ও কলমাকান্দা উপজেলা হাওরাঞ্চলগুলোতে আবাদ সম্পূর্ণ হয়েছে বলেও জানিয়েছেন উপ-পরিচালক।