| |

এনজিও ফোরামের উদ্যোগে বস্তিতে উন্নতমানের স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা

স্টাফ রিপোর্টার ঃ এনজিও ফোরামের উদ্যোগে ময়মনসিংহ পৌরসভায় দুর্যোগ সহনশীল নগর প্রকল্প ও বাংলাদেশে একিভূত দুর্যোগসহনশীলতাবৃদ্ধি–ডিপিকো ৮ প্রকল্পের বিগত দিনের কার্যক্রম, সাফল্য ও শিক্ষা সম্পর্কে এবং দুর্যোগে সাংবাদিকদের ভূমিকা সর্ম্পকে মতবিনিময় সভা এবং প্রকল্প কার্যক্রম পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়। গতকাল ২১ জানুয়ারী সকাল ১০টায় এনজিও ফোরামের আঞ্চলিক ট্রেনিং সেন্টারে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সমবিনিময় সভা শেষে বিদ্যালয় ও বস্তিতে প্রকল্পের বাস্তবায়িত বিভিন্ন স্যানিটেশন, রাস্তা নির্মান ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম পরির্দশন করেন গনমাধ্যম কর্মী। মতবিনিময় সভায় প্রকল্প বিষয়ে বক্তব্য রাখেন এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেল্থ ময়মনসিংহ অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক শিশির কুমার রায়, এনজিও ফোরামের দুর্যোগ সহনশীল নগর প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী সাওদা সুলতানা, পাবলিক রিলেশান এন্ড এডভোকেসি অফিসার আক্তার হোসে মিঠু, ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক মোঃ বাবুল হোসেন, সাবেক সাধারন সম্পাদক আতাউল করিম খোকন, গোলাম মোস্তফা, সহ-সাধারন সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম, কালের কণ্ঠ পত্রিকার ময়মনসিংহ অফিসের স্টাফ রিপোর্টার নিয়ামূল কবির সজল, একুশে টিভির আতাউর রহমান জুয়েল, সময় টিভির মোঃ হারুন-অর-রশিদ, প্রথম আলো পত্রিকা কামরান পারভেজ, আরটিভির বিপ্লব বসাক, দৈনিক স্বজনের মোঃ কামাল হোসেন, স্বদেশ সংবাদের জগনাথ সরকার। বিদ্যালয় ও বস্তি পরিদর্শনের সময় বলাশপুর আবাসন প্রকল্পের সভাপতি আব্দুল মোতালেব বলেন, আমাদের আবাসনে স্যানিটেশন ও ওয়ার্টার পয়েন্ট এর আগে কোন সুব্যবস্থা ছিল না। এনজিও ফোরামের মাধ্যমে আমরা উন্নতমানের স্যানিটেশন ও ওয়ার্টার পয়েন্টের মাধ্যমে সুপেয় ও বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছি।
এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ এর বাস্তবায়নে অক্সফামের অর্থায়নে ময়মনসিংহ পৌরসভার সাথে যৌথভাবে দুই বছর ধরে দুর্যোগ সহনশীল নগর প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। এনজিও ফোরাম ময়মনসিংহ পৌরসভা ২ বছর (এপ্রিল ২০১৪ Ñ মার্চ ২০১৬) পর্যন্ত ৮,১০,১১,১২,১৩ ও ১৪ নং ওয়ার্ডে (৬টি ওয়ার্ড) ৩টি বিদ্যালয় এবং ২৬টি বস্তিতে ৩,৯৩,৪৯,৩৫৪/- টাকা ব্যায়ে দুর্যোগ ঝুঁকি-হ্রাস, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ওয়ার্ডবাসী বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠির জন্য নানাবিধ সেবা এবং সচেতনতামূলক কাজ করে আসছে।
কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ঃ পৌরসভা, ওয়ার্ড এবং বিদ্যালয় পর্যাায়ে উদ্বোধনী কর্মশালা ১০টি, পৌরসভা ও ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন ৭টি, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন ৬টি, ওয়ার্ড ও বস্তি ভিত্তিক স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন ৩২টি, সিবিও ফোরাম গঠন ৬টি।
প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে ঃ নগর ঝুঁকি নিরুপণ প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ৬টি, নগর ঝুঁকি হ্রাস কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন ৬টি, যৌথ অর্থায়নে ঝুকি হ্রাস পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ৬টি, সাড়া প্রদান কর্মপরিকল্পনা বিষযক প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ৬টি, সাড়া প্রদান কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ৬টি, স্বেচ্ছাসেবকদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার বিষয়ক লাইফ স্কিল প্রশিক্ষণ ৪টি (২৮০জন), স্বেচ্ছাসেবকদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার বিষয়ক সতেজিকরণ লাইফ স্কিল প্রশিক্ষণ ৩টি (১৫০জন)।
সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে জিআইএস ম্যাপ তৈরী ২১টি ওয়ার্ড, দুর্যোগ সচেতনতা ও প্রস্তুতিমূলক মহড়া ১২টি , দুর্যোগ ও স্যানিটেশন বিষয়ক পথ নাটক ও গণ সংগীত ৯টি,, ওয়ার্ড ভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান ১২টি, ওয়ার্ড ভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পাইলট প্ল্যান ১টি, স্যানিটেশন ক্যাম্পেইন ২৭টি, হাইজিন সেশন (শিশু) ৭২৮টি, হাইজিন সেশন (নারী ও কিশোরী) ৭২৮টি, কার্টুন ও দুর্যোগ বার্তা প্রচার ২টি।
বিদ্যালয়ের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ঃ বিদ্যালয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা বিষয়ক প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ১টি, বিদ্যালয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন ৩টি, যৌথ অর্থায়নে বিদ্যালয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ৩টি, দুর্যোগও স্যানিটেশন বিষয়ক প্রতিযোগীতা ৬টি, দুর্যোগ বিষয়ক পথনাটক ও সংগীত ৩টি, মহড়া ৩টি, দুর্যোগ বিষয়ক চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগীতা ও প্রদর্শনী ১৫টি ও হাইজিন ক্যাম্পেইন ৫টি।
কন্সট্রাকশনের মধ্যে রয়েছে আট চেম্বার বিশিষ্ট লেট্রিন ১টি, পৌরসভা সাপ্লাই পানির লাইন ৪০ টি, ৫ চেম্বার বিশিষ্ট কমিউনিটি ল্যাট্রিন ও মহিলাদের গোসলখানা ১টি, ১ চেম্বার বিশিষ্ট কমিউনিটি ল্যাট্রিন ১০টি, ড্রেইন ১১৮৭ মিটার, ফুটপাত ১৭৫৪ মিটার, ২ চেম্বার বিশিষ্ট কমিউনিটি ল্যেট্রিন ৫টি, ২ চেম্বার বিশিষ্ট মহিলাদের গোসলখানা ৭টি, ২ চেম্বার বিশিষ্ট ল্যাট্রিন ও ২ চেম্বার বিশিষ্ট গোসলখানা ১টি, ওয়াটারপয়েন্ট ৪টি, ময়লা আবর্জনা বাহী মিনিট্রাক (দেড় টন) ১টি, ময়লাবাহী সাইকেল ভ্যান ১২টি, পাবলিক হিয়ারিং ১টি, আর্কিটেক্টডের দুর্যোগ সহনশীল কন্সট্রাকশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ ১টি।