| |

গফরগাঁওয়ে গরীব শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার খরচ খেয়ে ফেললেন উপজেলা পরিযদের ভাইস চেয়ারম্যান

গফরগাঁও প্রতিনিধি ঃ গফরগাঁও উপজেলা পাগলা থানার ঐতিহ্যবাহী কান্দিপাড়া আস্কর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের টাকা তসরুফ করলেন উপজেলা পরিষদের আওয়ামীলীগ দলীয় ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি। স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্যরা টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বার বার তাগাদা দেওয়ার পরও তিনি কোন কর্নপাত করছেন না। এঘটনায় অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পরচিালনা কমিটি সূত্রে জানা যায়, এলাকায় শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিগত ১৯০৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন কান্দিপাড়া গ্রামের ধনাঢ্য শিক্ষানুরাগী মরহুম আস্কর আলী সরকার। তিনি এলাকার হত দরিদ্র মানুষের সন্তানদের বিনা পয়সায় লেখা পড়ার কথা চিন্তা করে নিজস্ব জমিতে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কান্দিপাড়া বাজারটি বিদ্যালয়ের নামে ওয়াকফ করে দেন। এই বাজার ইজারার টাকায় দরিদ্র শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার খরচ বহনসহ বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালিত হয়ে আসছিল। ফলে এ পর্যন্ত কেউ এই বাজার নিয়ন্ত্রণ বা ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে কোন অনৈতিক হস্তক্ষেপ করেনি। এবারই প্রথম গত ১৪২১ বাংলা সালের কান্দিপাড়া বাজার ইজারার প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা মনিরুজ্জামান মনি বিদ্যালয়ের তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। এ নিয়ে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও তিনি টাকা না দেওয়ায় এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কান্দিপাড়া আস্কর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবক বলেন, আগে জানতাম উনি ভাল মানুষ। কিন্তু বিদ্যালয়ের টাকা মেরে দেওয়ায় প্রমাণ হলো তিনি নিম জাতের তিতার মানুষ। যেমন ঘি দিয়ে ভাজলেও নিম পাতার জাতের তিতা দুর হয়না। তেমনি ভাবে বিদ্যালয়ের টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন বলেন, বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও ২ বছর যাবৎ উনি টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। কবে দিবেন তারও কোন নিশ্চয়তা নেই বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন,গরীব শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার খরচ খেয়ে ফেললেন আ’লীগ দলীয় উপজেলা পরিযদের ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা শফিউল বাশার মনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাগাদা দেওয়ার পরও টাকা ফেরত না দেওয়ায় সম্প্রতি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির এক সভায় টাকা আদায়ের জন্য প্রধান শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাজার ইজারার টাকা দিয়েই আমরা বিদ্যালয়ের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা করি। এব্যাপারে যোগায্গো করা হলে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি টাকা আত্মসাতের বিযয়টি অস্বীকার করে বলেন, অচিরেই টাকা ফেরৎ দিয়ে দিব।