| |

ফুলবাড়ীয়ায় অবাধে চলছে অনুমোদন বিহীন ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান

ফুলবাড়ীয়া ব্যুরো অফিস : সরকারী কোন প্রকার অনুমোদন ছাড়াই ফুলবাড়ীয়া পৌরসভাসহ উপজেলা জুড়ে হাট বাজার ও সড়কগুলোতে কয়েক হাজার ব্যাটারী চালিত রিকশা-ভ্যান অবাধে চলাচলা করছে। ফলে প্রতিদিনই সড়ক দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
এসব রিকশা-ভ্যান চালকদের নেই কোন অক্ষর জ্ঞান, ড্রাইভিং লাইন্সেসের কোন বালাই নেই, গাড়ীরও কোন ফিটনেসের প্রয়োজন হয় না। চালক বসার কোন স্থান নির্ধারিত নেই। ফলে কেউ দাড়িয়ে আবার কেই বসে অথবা কেউ সাইড হয়ে চালিয়ে যাচ্ছে। ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পূর্বের পা চালিত রিকশা-ভ্যানগুলো ব্যাটারী চালিত রিকশা-ভ্যানে পরিণত হয়েছে। অপ্রতিরোধ্য বা বাধাহীন গতির স্বীকার উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বিভিন্ন সাইকেল, রিকশা-ভ্যানের গ্যারেজগুলোতে প্রতিদিনই নতুন নতুন ব্যাটারী চালিত রিকশা, ভ্যান তৈরী হচ্ছে। পা চালিত রিক্সা-ভ্যানে ব্যাটারী লাগানো বাবদ খরচ ৩০হাজার টাকা। নতুন একটি রিক্সা-ভ্যান ও ব্যাটারী বাবদ ৪০হাজার টাকা। গ্যারেজ মালিকরা আগে পা চালিত ভ্যান-রিক্সা দৈনিক ৩০ টাকায় ভাড়া দিতেন। ব্যাটারী বা অটো লাগানোর পর ২শ টাকায় বৃদ্ধি করেছেন। আর কিছুদিন পর পা চালিত রিক্সা-ভ্যান পাওয়া দুস্প্রাপ্য হবে।
চালকরা এতটাই বেপরোয়া যেন যাত্রীর চেয়ে চালকের ব্যস্ততা বেশী। আর এসব ব্যাটারী চালিত রিকশা, ভ্যানের স্প্রিড কন্ট্রোলিং (ব্রেক) অত্যন্ত দুর্বল কারণ ঐব্রেকগুলো পা উপযোগি করে তৈরি করা আর বডির ধরন একই। ফলে গ্রাম-গঞ্জে দূর্ঘটনার মাত্রা বেড়েই চলছে। প্রায় ৩মাস আগে পলাশতলী রাস্তায় ভ্যান দিয়ে ফুলবাড়ীয়া বাজার হতে একজন ঢেউটিন নিয়ে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি যাত্রী বোঝাই ভ্যানকে অতিক্রম করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢেউটিন যাত্রীর পা দিয়ে ঢুকে পড়লে মারাতœক আহত হন। তার শরীর থেকে এত রক্ত প্রবাহিত হয়েছে ২ভ্যানের কেউই ঘটনাস্থলে নেই। পরে আশপাশের লোকজন লোকটি কে হাসপাতালে নিলে কর্তরত চিকিৎসক তাকে পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে সে একটি পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব জীবন করছে। আর এরকম সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। সম্প্রতি কয়েকজন পথচারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। অকালেই জীবনের তরে প্রতিবন্ধি হচ্ছে অনেকে। যাত্রীরা টেম্পু, সিএনজি কিংবা অন্য যানবাহনের বিকল্প হিসেবে বাধ্য হয়ে এসব রিকশা, ভ্যানে অত্যন্ত ঝুকি নিয়ে আরোহন করে থাকে। ব্যাটারী চালিত রিকশা, ভ্যান চালকদের রাস্তার ভাড়া নির্ধারিত না থাকায় যাত্রীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বনানী বিশ্বাস বলেন, ব্যাটারি চালিত ভ্যান রিক্সা বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে এবং এটি চলমান।