| |

কিশোরগঞ্জের জমির উর্বর মাটি পুড়ছে ইটভাটায় কৃষি উৎপাদন হ্রাস, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) থেকে সুবল চন্দ্র দাস ঃ কিশোরগঞ্জ জেলার কিশোরগঞ্জ সদরসহ পাকুন্দিয়া, কটিয়াদী, ভৈরব, বাজিতপুর ও কুলিয়ারচর উপজেলায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই অসংখ্য ইট ভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। এতে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে এবং ভাটার আগুনে পুড়ছে কোটি কোটি ঘনফুট উর্বর মাটি। ফলে আবাদি জমি কমে আসায় একদিকে কৃষির ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে অন্য দিকে ধ্বংস হচ্ছে এখানকার জীববৈচিত্র্য, পরিবেশ এবং হুমকিতে পড়ছে জনস্বাস্থ্য। জেলা প্রশাসক অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার পুলেরঘাটে সোনালি ব্রিক ফিল্ড, পাটুয়াভাঙ্গায় এইউবি, হোসেন্দী পূর্বপাড়ায় মেসার্স নিশাদ, আতৎকাপাড়ায় মেসার্স নিউ ব্রিক্স, সনমানিয়াতে মেসার্স খান ব্রিক্স, ছোট আজলদীতে মেসার্স নোভা ব্রিক্স্, এগারসিন্দুরের খামায় একতা ব্রিক্স মেনুফেকচার, মজিদপুরে এমআর ব্রিক্স ও সৈয়দগাঁও বাগান বাড়িতে এইচএমবি ব্রিক্স, কটিয়াদী উপজেলার বিকেবি ব্রিক্স, এমআরএইচ ব্রিক্স, একতা ব্রিক্স ফিল্ড, সদর উপজেলার এমএসএস ব্রিক্সসহ একাধিক ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জনবসতি থেকে কমপক্ষে দুই কিলোমিটার দূরে ইটভাটা তৈরি করার কথা এবং সেটা হতে হবে অবশ্যই ফসলি জমি বাদে পতিত জমিতে। কিন্তু অধিক মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা তাদের প্রায় সব গুলো ভাটাই উর্বর দুই-তিন ফসলি জমিতে গড়ে তুলেছেন। ফলে জেলায় আশংকাজনক হারে ফসলি জমি কমে যাওয়ায় বাড়ছে উৎপাদন ঘাটতি ও পরিবেশ দূষণ। এক পরিসংখ্যানে দেখা জানা যায়, এখানকার প্রতিটি ইটভাটায় গড়ে ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ ইট তৈরি করতে প্রায় ছয় কোটি ঘনফুট মাটি ও বালি ব্যবহার করা হয়। আর ঐ মাটির সিংহভাগই ফসলি জমির উপরিভাগ থেকে কেটে নেয়া হয়। সচেতন মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে ফসলি জমিতে ইট ভাটা তৈরি বন্ধ বা অভিযুক্তদের আইনের আওতায় না এনে এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে জেলার কোন জমিতে ফসল উৎপাদন তো দূরের কথা এ অঞ্চল বিরান ভূমিতে পরিণত হবে। কৃষিতে ইটভাটার কু-প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা কৃষি অফিসার জানান নিয়ম ভঙ্গ করে ইটভাটা তৈরি করায় কৃষিতে এর ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়েছে। কারণ ভাটা তৈরির ফলে ফসলি জমি কমে যাচ্ছে, আবার এর আশপাশের জমিগুলোতেও ফসল উৎপাদন কম হচ্ছে। অন্যদিকে জমির উপরি ভাগের উর্বর মাটি কেটে ইট তৈরি করা সহ অধিক কার্বন নিরসনের ফলে ফলদ গাছে ফলন কম হচ্ছে। ফসলি জমিতে কিভাবে ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মো. খাইরুজ্জামান জমির উপরি ভাগের মাটি কেটে ইট তৈরির কথা অস্বীকার করে বলেন, পুকুরের মাটি ও উঁচু টিলার মাটি দিয়ে ইট তৈরি করা হয়। কিশোরগঞ্জ জেলা নরসিংদী পরিবেশ অধিদপ্তরের আওতাধীন। ওই অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিনা আক্তার জানান, ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপন করলে আগুনের তাপে আশপাশের জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব বিষয় বিবেচনা করেই ছাড়পত্র দেয়া হয়। এরপরেও কেউ যদি আইন অমান্য করে তাহলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।