| |

বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে যাওয়া সেই বরের হুমকিতে শ্বশুড়! গৌরীপুরের কিশোরী মায়ের কোলে শিশুর জন্ম

গৌরীপুর সংবাদদাতা ॥ ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে যাওয়া সেই বরের হুমকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে শ্বশুড়! আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরেফিরে দেখাচ্ছে দম্ভ। নিরাপত্তা চেয়ে বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) গৌরীপুর প্রেসক্লাবে ধর্ষিতার বাবার সংবাদ সম্মেলন। ৭ম শ্রেণির ছাত্রীর সেই কিশোরীর কোলে জন্ম নিয়েছে শিশুপুত্র। ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের নাম অভিযোগপতও থেকে কর্তনের জন্য চলছে তদবির।
উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের বীর আহাম্মদপুর গোয়াইলকান্দিপাড়া গ্রামের ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে তারই চাচাতো ভাই এসএম আলিম ছোটন ধর্ষণের পর ৪মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়। গ্রাম্য সালিশে এ নিয়ে ২০অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের প্রস্তুতি শুরু করে। বিয়ের আসর থেকেই পালিয়ে যায় বর। এ ঘটনায় ধর্ষিতার বাবা মো. আবু ইউসুফ বাচ্চু বাদি হয়ে গৌরীপুর থানায় ধর্ষক ও গ্রাম্য সালিশের মাতব্বরসহ ৫জনকে আসামী করে এজাহার দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ২১ অক্টোবর ১৮নং মামলা হিসাবে এফআইআরভূক্ত হয়। ধর্ষণ ও সহযোগিতার অভিযোগে বীরআহাম্মদপুর গ্রামের এসএম আরিফ রতনের পুত্র এসএম আলীম ছোটন (২৪), মোছাঃ সাজেদা খাতুন (৪৫), এসএম আরিফ রতন (৫০), হায়দার রশিদ জুয়েল (৪২), মো. লিটন মিয়া (৩৬) ও মো. টিটু মিয়া (৩০) কে আসামী করা হয়।
বৃহস্পতিবার প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদি মো. আবু ইউসুফ জানান, মামলাটি প্রত্যাহরের জন্য হুমকি দেয়ার পর থানায় জিডিও করেন। এখন আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, পুলিশ ধরছে না। ১৯জানুয়ারি তার কিশোরী কন্যার কোলে আসে শিশুপুত্র। তার মেয়েটি ও নবজাতক শিশুটির শারীরিক অবস্থাও ভালো না। তিনি ওদের ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারছেন না। ওরা আরো হুংকার দিয়ে বলছে, মামলা উঠাইয়া না আনলে তাকে শেষ করে দিবে। ক’জন আসামী নাম কর্তনের জন্যও চাপ দিচ্ছে। তিনি ও তার মেয়ে এবং পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতা ভোগছে। এ ব্যাপারে গৌরীপুর থানার ওসি মো. আখতার মোর্শেদ ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইদুর রহমানকে কয়েক দফা মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও ভাষ্য নেয়া সম্ভব হয়নি।