| |

ময়মনসিংহ জেলা জাসদের সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী আপোষহীন জাসদ মহাজোটের ছাতার নীচে থেকেই দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবে

স্টাফ রিপোর্টার ঃ গতকাল রোববার (৩১ জানুয়ারী) ময়মনসিংহ জেলা জাসদের সম্মেলনের উদ্বোধন কালে প্রধান অতিথি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সরকারের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন জাসদ মুক্তিযুদ্ধের, গনতন্ত্রের, সমাজতন্ত্রের, গণমানুষের দল। দলটি জাতির প্রয়োজনে ঐক্য করে-বিরোধীতাও করে। তবে দেশবিরোধী, গনবিরোধীদের সঙ্গে ঐক্য করে না। বাংলার মেহন্তি বঞ্চিত মানুষের ভাগ্যবদলের জন্য জাসদ কে লড়াই করতে হয়েছে, লাড়াই করছে ও সামনেও লড়াই করতে হবে। সমাজ বদলের সমাজতন্ত্রের লড়াই। বহু বছর চড়াই উৎরাইয়ের পর জাসদ বিগত ৭ বছর ধরেই মহাজোটের সঙ্গে ক্ষমতায় থেকে রাষ্ট্রের ও জনগনের স্বার্থে ও কল্যানে ভূমিকা রাখছে। ক্ষমতার অংশীদার হয়েও ভাগবাটোয়ায় বিশ^াস না করে মেহ্নতী, শ্রমিক, নারী সহ সর্বস্তরের মানুষের জন্য কাজ করছে। কোন কোন সময় জাসদ একাই কাজ করে। জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু আরো বলেন- দেশে বর্তমানে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। ধর্মনিরপেক্ষতা, অসাম্প্রদায়িকতা, সুশাসন, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও শান্তির বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে হানাদার পাকিস্তানীদের দোসর সন্ত্রাসী-বোমাবাজ, জঙ্গীবাদ, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধীদের যুদ্ধ।পাকিস্তানীদের চক্রান্তে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশবিরোধীরা চোরাগুপ্তা হামলা চালিয়ে, আগুনে পুড়িয়ে দেশ প্রেমিকদের হত্যা করছে, সিনেমা হলে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা করে ধর্মের উপর আঘাত করছে, ব্রীজভেঙ্গে-রেললাইন উৎপাটন করে-অফিস-আদালতে হামলা করে জাতীয় সম্পদ বিনাশ করছে, দেশময় নাশকতা অন্তর্ঘাত চালাচ্ছে। ইতিহাস স্বীকৃত ঘটনাবলীকে বিকৃত করে দেশের ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা করছে। ওরা বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, বাঙ্গালী জাতি, জাতীয় সংগীত, গনতন্ত্র ও গনমানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তথ্য মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বের মহাজোট সরকার দেশ বিরোধী এই যুদ্ধের মোকাবেলা করছে। সঠিক ধারায় সঠিক ইতিহাস প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন দেশে চলমান যুদ্ধ কোন্ পথে যাবে বুঝতে হলে বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপট নিয়ে ভাবতে হবে। গ্রগতিশীলের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়াশীলরা মাথা চারা দিয়ে উঠছে। পৃথিবীর উন্নতদেশগুলোর মতো বাংলাদেশও উন্নতি-প্রগতির দিকে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশে প্রতিক্রিয়াশীল সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদদের স্থান হবে না। এদেশের মানুষ ‘৫২, ৭১,’৭৫, ’৯০- এ ধাপে ধাপে তার প্রমান দিয়েছে। পরবর্তীতে আগুন সন্ত্রাসী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জঙ্গীবাদীরা ফের বেপরোয়া হয়ে উঠলে ২০০৬ সালে তাদের উৎখাত করে ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে আবার প্রমান করা হয়। মুক্তিযুদ্ধকালের পাক ঝঞ্জাল পরিষ্কার করার লক্ষ্যে যুদ্ধাপরাধীসহ সকল অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিচারের উদ্যোগ নিলে আগুন সন্ত্রাসী খালেদা ফের ক্ষমতা দখলে পুরানো পথ বেছে নিয়ে নানা চক্রান্ত শুরু করেন ও দেশময় ধ্বংসলীলা চালান। মহাজোট সরকার তা দমন করতে সমর্থ হয়। বাংলাদেশকে আরো এক ধাপ এগুতে হলে রাজাকার আলবদর জঙ্গী সমর্থক খালেদা জিয়ার বিএনপি-জামায়াত জোটকে আর এদেশের ক্ষমতায় আসতে দেয়া যাবে না। অবিলম্বে জামায়াতেকে নিষিদ্ধ করে জঙ্গীবাদদের নির্মূল করলেই দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। অন্যথায় খালেদার নেতৃত্বে ওরা ফের মাথাচারা দিয়ে উঠবে এবং ক্ষমতা দখল করে পাক ভাবধারায় দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাবে। এটা হয়না। এটা দেশের জন্য আতœঘাতের বিষয়। প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্রের সঙ্গে কোন কিছুর আপোষ নেই। রাষ্ট্র বিরোধী সন্ত্রাসবাদ জঙ্গীবাদের নেতা খালেদার সঙ্গে কোনই আপোষ হতে পারেনা। এই চক্রকে চিরতরে নির্মূল করে বাংলাদেশকে শান্তি, বাংলাভাষা, সম্প্রীতি, সুশাসন, বৈষম্য, গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চারনেতা, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের পথেই চালাতে হবে-পাকিস্তানী, তালেবানী সন্ত্রাস জঙ্গীবাদের পথে নয়। এবারের যুদ্ধ এমন ভাবে করতে হবে যেন খালেদার হাত ধরে আর কোন জঙ্গীর উত্থান না হয়। জাসদ জঙ্গীদমনের এই যুদ্ধে আছে, যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। বর্তমান মহাজোট সরকার জঙ্গী দমনের সরকার, বৈষম্যহীন সমাজ বদলের সরকার, জাসদের সরকার। জঙ্গী দমনের জাতীয় যুদ্ধ, বৈষম্যদূরের ও উন্নয়নের জাতীয় যুদ্ধ জাসদকে চালিয়ে যেতেই হবে। সামরিক আর রাজাকারের সরকার এদেশে হবেনা। আগুন সন্ত্রাস রাজনৈতিক শয়তানী এদেশে চলবেনা। দেশ সংবিধানের পথেই চলবে। ২০১৯ সালেই নির্বাচন হবে। রাজনৈতিক শয়তান খালেদাকে বিদায় করবোই। এসব বিষয়ে জাসদ আপোষহীন। মহাজোটের ছাতার নীচে থেকেই জাসদ যুদ্ধ চালাচ্ছে, যুদ্ধের মাঠে আছে, যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।
জেলা জাসদ সভাপতি এডভোকেট গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যোর মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি জাসদ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া, জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরীন আখতার এমপি, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফা তাহের এমপি, জাতীয় নারী জোট আহবায়ক আফরোজা হক রীনা, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত রায়হান, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, মোখলেছুর রহমান মোক্তাদির, কেন্দ্রীয় নেতা শফিউদ্দিন মোল্লা, জেলা জাসদের রতন সরকার, সৈয়দ শফিকুল ইসলাম মিন্টু, এডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু প্রমুখ। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন জেলা জাসদ সাধারন সম্পাদক এডভোকেট এসএম সাদিক হোসেন।
জাসদ সাধারন সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া বলেন-বর্তমান ১৪ দলীয় সরকার জাতির জন্য অনেক বড় বড় কাজ করেছে অনেক সফলতা এনেছে। ‘জয়বাংলা’ আজ দলীয় থেকে জাতীয় শ্লোগানে পরিনত হয়েছে। এই শ্লোগানে বাঙ্গালী জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। ঐক্যবদ্ধ এই জাতিকে পুরানো কলা কৌশলে নয় নতুন ভাবে নতুন উদ্দীপনায় চালাতে হবে। প্রতিটি রাজনীতিবিদকেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে যেতে হবে, স্বপ্নের দেশ ও দেশের মানুষকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। জাসদকেও সত্যিকারের জনগনের দলে পরিনত করতে হবে। পার্থিব কোন ক্ষমতাই জঙ্গীনেতা খালেদাকে ক্ষমতায় আনতে পারবেনা ইনশাল্লাহ।
স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরীন আখতার এমপি বলেন, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আমার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা দাড়িয়ে আছি মুক্তিযুদ্ধের উপর, বাঙ্গালী জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের উপর। মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের রক্তের উপর। শহীদদের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাসদ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি তাই পাকিস্তানী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করছি। তিনি বলেন, পাক প্রতিনিধি মেজর জিয়ার মতো খালেদা জিয়াও এদেশের খলনায়ক। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে তিনি বাধা। জাসদ সকল ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে। জাসদের শক্তি শহীদদের রক্ত, শ্রমজীবী নারীরা, প্রবাসীরা, মেহনতী-শ্রমিক কৃষকরা। এদের দিকে তাকিয়েই জাসদের রাজনীতি। আজ জাসদকে নতুন করে ভাবতে হবে।