| |

করিমগঞ্জে এক যুবককে শিকল দিয়ে গাছে বেঁেধ নির্যাতন

নজরুল ইসলাম খায়রুল,: জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার জঁয়কা ইউনিয়নের কুকীমাদল গ্রামে বশির বাহিনীর তান্ডবে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ বাহিনী পার্শ্ববর্তী কান্দাইল বাগপাড়া গ্রামের ইউনিয়ন বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগের সহ সভাপতি সোহান আহমেদ বাবুল (২৭) নামের এক যুবককে প্রকাশ্য দিনে দুপুরে রাস্তা থেকে জোর পূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে শিকল দিয়ে গাছের সাথে হাত পা বেধে মধ্যযুগীয় কায়দার বর্বর নির্যাতন করে। শুক্রবার দুপুরে এ বর্বর, লোমহর্ষক ও বেদনাদায়ক ঘটনাটি ঘটে। জানা যায় এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত বশির বাহিনী গত বছরের ২১ জুলাই কান্দাইল বাগপাড়া গ্রামের সোহান আহমেদ বাবুলের বাড়িতে হামলা করে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী শালিস দরবারের মাধ্যমে তাদের ক্ষতিপূরণ বাবত ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য্য করেন। কিন্তু ক্ষমতা ও প্রভাব প্রতিপত্তির দাপটে শালিস দরবারের ধার্য্যকৃত সাকুল্য টাকা বশির বাহিনী দেয়নি। এরপরও তারা নিরীহ বিধায় এ বিষয়ে আর কোন প্রতিবাদ করেনি। এদিকে দরবারে জরিমানা করায় তারা চরম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এ ঘটনার জের হিসেবে তারা প্রতিনিয়ত এ নিরীহ পরিবারটির উপর একের পর অত্যাচার ও নির্যাতন করে আসছে। কিন্তু এরপরও তারা ক্ষান্ত হয়নি। বাবুল ঢাকায় একটি কোম্পানীতে চাকুরী করে। আগের দিন তার নানী মারা যাবার খবর পেয়ে বাড়িতে আসে। নানীর দাফন কাফনের পর দিন সে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে অটো রিকশা যোগে রওনা দেয়। বাড়ি হতে বালিয়ার বাড়ি আসার পর বশির বাহিনীর লোকজন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রে-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অটো রিকশাটি আটক করে তাকে জোর পূর্বক ছিনিয়ে প্রায় ১ কিঃ মিঃ দূরে তাদের বাড়িতে নিয়ে তার হাত পা শিকল দিয়ে গাছের সাথে বেধে মধ্যযুগীয় কায়দার বর্বর নির্যাতন চালায়। বেধড়ক নির্যাতনের যন্ত্রনায় সে বুকফাটা চিৎকার করতে থাকলে আশপাশের স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে এ বাহিনী তাদের উপরও চড়াও হয়। এমনকি এ দৃশ্য দেখে সন্ত্রাসী বশির এর মা তাকে ফিরাইতে আসলে তারা তাকেও লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে এক পর্যায়ে তারা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে বাম পায়ে হাটুর নীচে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত সারা শরীর লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও ইট দিয়ে থেতলিয়ে দেয়। পরে অজ্ঞান হয়ে সে মাটিতে লুটে পড়ে। এ অবস্থায় তারা তাকে মৃত ভেবে একটি অটো রিকশায় লাশ হিসেবে তুলে দেয়। পরে পথচারী লোকজন দ্রত তাকে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করার পর দু’দিন পর তার জ্ঞান ফিরে আসে। হাসপাতালে গিয়ে তার সাথে কথা বললে এ দৃশ্যর কথা বললেই সে হাউ মাউ করে কেদে আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। বশির বাহিনী তার সঙ্গে থাকা ১ লক্ষ ৭ হাজার টাকা ও ১টি মোবাইল সেট নিয়ে যায়। তবে এ ঘটনার পর পরই বাবুলের পিতা আঃ শহিদ বশির বাহিনীর প্রধান বশির ও হোসেন, কামালসহ ৫ জনকে আসামী করে করিমগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। এদিকে স্থানীয় লোকজন জানান বশির বাহিনীর হিংস্রতার দাপটে এলাকার সর্বত্রই আতংক বিরাজ করছে। সাধারণ লোকজন তো দূরের কথা দাপুটে এ বাহিনীর বিরুদ্ধে এলাকায় কেহ টু শব্দটি করতে পারেনি। তারা এলাকায় হরহামেশাই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়ায়। কেহ মামলা মোকদ্দমা করলে তার আর রক্ষা নেই। এ অবস্থায় নিরীহ পরিবারটি নিরাপত্তা ও দোষী ও দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন।