| |

ঝিনাইগাতীতে ভূয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য

ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি : শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় ভূয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি প্রতারক, সিন্ডিকেট, ভূয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য চালিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের পূর্বে প্রতিষ্ঠিত সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করার ঘোষনা দেন। এ ঘোষনার পর স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট রাতারাতি ভূয়া কাগজপত্র সৃজন করে নামে-বেনামে প্রাথমিক বিদ্যালয় দেখিয়ে শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য শুরু করে। তথাকথিত এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫/৭জন করে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে নিয়োগকৃত প্রতিজন শিক্ষকের কাছ থেকে নেয়া হয় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা। প্রকাশ, প্রধানমন্ত্রীর ওই ঘোষনার পর এ উপজেলায় ৩৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় দেখিয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরে অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়। সরেজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, আবেদনকৃত এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন ভবণ নেই। নেই কোন নিজস্ব জমি। আবার কোন কোন প্রতিষ্ঠান ভবন ভাড়া করে প্রতিষ্ঠানের নামে দেখানো হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে জমির যে সব দলিলপত্রাদিসহ অন্যান্য কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে তাও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভূয়া সৃজনকৃত। এসব বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যেই এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা শিক্ষা কমিটির বরাবরে লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে। জানা গেছে, শিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদনকৃত ৩৯টি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ওই প্রতারক সিন্ডিকেট তয়-তদবিরের মাধ্যমে প্রথম দফায় ইতিমধ্যেই ৮টি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের অনুমতি লাভ করে। অপেক্ষমান ৩১টি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বিদ্যমান আছে কি না তা সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তর উপজেলা শিক্ষা কমিটিকে নির্দেশ দেন। উপজেলা শিক্ষা কমিটি সরেজমিনে তদন্তে গেলে এসব জাল-জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়। উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু বকর সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদনকৃত বেসরকারী এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ওই সিন্ডিকেটের একই ব্যক্তি। ভূয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে সৃজনকৃত এসব বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জড়িত প্রতারক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না তা জানতে চাওয়া হলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বলেন, তদন্ত শেষে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।