| |

ঝিনাইগাতীতে বন-বিভাগের জমি বে-দখলের হিড়িক উদ্ধারের উদ্যোগ নেই

ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি : শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ে বন-বিভাগের জমি বে-দখলের হিড়িক পড়ে গেছে। কিন্তু উদ্ধারের কোন উদ্যোগ নেই। ফলে গারো পাহাড়ের বনভূমি বিলুপ্ত হবার পাশাপাশি সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বিপুল পরিমানের রাজস্ব আয় থেকে। স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা বন-বিভাগের জমি বে-দখলের প্রতিযোগীতায় মেতে উঠেছে। তারা বন-বিভাগের জমি দখল করে চাষাবাদের পাশাপাশি ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। বন-বিভাগের জমিতে বিশাল এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে জনবসতি। শতশত একর জমিতে এখন চাষাবাদ হচ্ছে। সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে গারো পাহাড়ের ডেফলাই, গান্ধিগাও, বাকাকুড়া, পানবর, তাওয়াকুচা, গুরুচরণ দুধনই, ছোট গজনী, হালচাটি, নওকুচি, গজনী, রাংটিয়া, সন্ধ্যাকুড়া, গোমরা, হলদিগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় বন-বিভাগের জমিতে অবৈধ দখলদারদের জনবস্তি স্থাপনের দৃশ্য অবলোকন করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, প্রভাবশালীরা প্রথমে বন-বিভাগের জমিতে কিছু দেশী জাতের চারা রোপন করে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে রাখছে। পরে সুযোগ বুঝে সেখানে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করে শুরু করা হচ্ছে বসবাস। এভাবে বন-বিভাগের শতশত একর জমি বে-দখল হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানেও অবৈধ দখল ও ঘর-বাড়ি নির্মাণের প্রতিযোগীতা চলছে। বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ করা হচ্ছে অবৈধভাবে ঘর-বাড়ি। বিভিন্ন সময় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে বন-বিভাগের পক্ষ থেকে মামলা মোকাদ্দমাও করা হয়েছে। কিন্তু সরকারিভাবে এসব মামলা পরিচালনার জন্যে অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এবং ওই কর্মকর্তা বদলী হবার পর তয়-তদবিরের অভাবে সেসব মামলা গুলো খারিজ হয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পার পেয়ে যাচ্ছে অবৈধ দখলদাররা। ময়মনসিংহ বন-বিভাগের শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের রাংটিয়া রেঞ্জের ৩টি ফরেস্ট বিটের আওতায় বন-বিভাগের প্রায় ৯ হাজার একর বনভূমি রয়েছে। তৎন্মধ্যে শুধু সরকারি হিসেব অনুযায়ী প্রায় ২ হাজার একর বনভূমি বে-দখল দেখানো হলেও বেসরকারি হিসেবে তা দ্বিগুন। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমি দস্যুরা এক শ্রেণীর অসাধু বন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সামাজিক বনায়নের অংশীদারদের যোগসাজষে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে বন-বিভাগের এসব জমি বে-দখল করে আসছে। সরকারিভাবে বে-দখলীয় এসব জমি উদ্ধারের ব্যাপারে স্থায়ীভাবে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। ফলে গারো পাহাড়ের বনভূমি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও প্রাণবৈচিত্র বিলুপ্ত হবার পাশাপাশি সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বিপুল পরিমানের রাজস্ব আয় থেকে। ময়মনসিংহের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোবীন্দ্র রায় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অবৈধ দখলের সাথে কোন বন কর্মকর্তা জড়িত নেই। অবৈধ দখলীয় বেশকিছু জমি উদ্ধারের ব্যাপারে উপর মহলে প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে বে-দখলীয় জমি উদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।