| |

শহরতলী দিঘারকান্দায় সশস্ত্র হামলা লুটপাট গুলাগুলির ঘটনায় মামলা দায়ের ঃ ময়নাতদন্ত শেষে নিহত শিমুলের নামাজে জানাযা ও দাফন সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ময়মনসিংহের শহরতলী দিঘারকান্দায় মরহুম আব্দুল কাদের চেয়ারম্যানের বাড়িতে গত শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) দিবাগত রাতে সশস্ত্র হামলা লুটপাট গুলাগুলি ও গুলিতে পথচারী নিহতের ঘটনায় গতকাল রোববার (৭ ফেব্রুয়ারী) কোতোয়ালী মডেল থানায় এজাহার দিয়েছেন বাড়ির কর্তৃ হামলায় আহত বৃদ্ধা ফাতেমা কাদের। দায়েরকৃত এজাহারে বলা হয়েছে নিকটস্থ পূর্বপরিচিত রনি (৩২), যমজ ইমরুল (৩৪) ও কামরুল (৩৪), সোহেল (৪৬) সর্বপিতা মৃত হাছান আলি, ফারুক (৩৪), শিবলী (৩২) উভয় পিতামৃত রুস্তম আলি (লোচ্চা), রিপন (৩২) পিতা আজ্ঞাত সর্বসাং দিঘারকান্দা, সোহান (২৪) সাজন (২২) উভয় পিতা মাহমুদুর রহমান সাং কেওয়াটখালি ওয়াপদামোড় সহ অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জন রামদা, কিরিচ, পিস্তল, হকিস্টিকে সজ্জিত অবস্থায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাড়ির পশ্চিম ভিটির একতলা বিল্ডং এর সদর দরজা দিয়ে অতর্কিতে ভিতরে ঢুকে। বাড়ির মালিক বৃদ্ধা ফাতেমা কাদেরকে সামনে পেয়েই হামলাকারী রনি বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে উপর্যুপরি কিলঘুষি মেরে আতংকের সৃষ্টি করে এবং কোন প্রকার ডাক-চিৎকার করতে নিষেধ করে। এই সময়েই অন্যান্যরা ঘরে থাকা সাড়ে ৭ ভরি ওজনের বিভিন্ন স্বর্ণালংকার ও নগদ ৩ লাখ টাকা সহ মোট ৬ লাখ ১৫ হাজার টাকার মালামাল ভর্তি লোহার বাক্স ধরাধরি করে নিয়ে যায়। এতো টাকার সম্পদ লুট ছাড়াও ১ লাখ টাকার আসবাব পত্র ভাংচুর করে। হামলাকারীরা ফেরার পথে এলোপাথারী গুলিছুড়তে ছুড়তে ত্রাস সৃষ্টি করে পাশে ঢাকা রোডে উঠে। নির্বিঘেœ চলে যাওয়ার লক্ষ্যে এলাপাথারী আরো গুলী ছুড়তে থাকে। ওদের ছুড়া গুলিতে পথচারী শিমুল নিহত হয় এবং হামলাকারীদের মধ্যেও কেহ কেহ আহত হয়। অনেকে এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে। অথচ গুলির ভয়ে কেউ সামনে দাড়াতে সাহস পায়নি বলে জানা গেছে। অপর দিকে জানা যায়, এই ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছেন । তারা হতাহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে কোতোয়ালী থানা পুলিশের তত্বাবধানে ময়নাতদন্তের জন্য নিহত শিমুলের লাশ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে প্রেরণ করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল রোববার (৭ ফেব্রুয়ারী) আড়াইটায় নিহতের লাশ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহত শিমুল কেওয়াটখালী ওয়াপদা রোডের বাসিন্দা অবসর প্রাপ্ত পুলিশ নূরুল ইসলামের একমাত্র পুত্র। সে সদ্য বিলুপ্ত জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জসিম উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সহচর ও তার প্রাইভেট কার চালক ছিল। এদিনেই বাদ আছর বাকৃবি’র পোল্টি ফার্ম সংলগ্ন কেওয়াটখালী সরকার বাড়ি মসজিদ প্রাঙ্গনে নামাজে জানাযা শেষে ওই মসজিদ সংলগ্ন গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। অপর একটি সুত্র জানায় নিকটস্থ তিতাসগ্যাস অফিসের একটি ঠিকাদারী কাজের উপর বখরা চেয়ে তা না পাওয়ার জের হিসেবেই এই সশস্ত্র হামলা, মারধর, লুটপাট ও হতাহতের ঘটনা ঘটানো হয়।