| |

নেত্রকোনায় বসন্তকালীন সাহিত্য উৎসব আজ

সৌমিন খেলন : নেত্রকোনাবাসীর প্রাণের উৎসব বসন্তকালীন সাহিত্য উৎসব আজ। শনিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি ও ১ ফাল্গুন ১৪২২) সকালে মোক্তারপাড়ার মসজিদ কোয়াটার এলাকার পুরাতন কালেক্টরেট প্রাঙ্গণ থেকে ‘হরফের নুপুরে নাচি আমরা সবাই…’ শ্লোগানে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রায় ফাল্গুনকে বরণের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। গত ১৮ বছর ধরে বর্ণিল আয়োজনে এই উৎসব উদযাপনের পাশাপাশি নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজ খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরুষ্কার প্রদান করে আসছেন। এরই মধ্যে দেশের খ্যাতিমান লেখক, কবি, সাহিত্যিক ও নাট্যকারকে খালেকদাদ সাহিত্য পুরুষ্কার হাতে তোলে দিয়েছে নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজ। কথাসাহিত্যে অসামান্য অবদান রাখায় এবছর ২০তম বসন্তকালীন সাহিত্য উৎসবে কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদারকে খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরুষ্কারটি তোলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি কবিতায় অবদানের জন্য খালেকদাদ চৌধুরী ১৯তম সাহিত্য পুরুষ্কারে ভূষিত হবেন কবি মোহাম্মদ রফিক। নেত্রকোনা সাহিত্য সমাজের সম্পাদক কবি সাইফুল্লাহ্ ইমরান স্বদেশ সংবাদকে বলেন, আয়োজনের দ্বার উন্মোচন করবেন কবি ড. তরুণ কান্তি শিকদার। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সকাল ৯টায় থাকছে জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকাসহ সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলন। ভাষা সৈনিক ও সকল শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের স্মরণে নীরবতা পালন। সকাল ১০টায় বসন্ত বরণ, সাড়ে ১০টায় আনন্দ শোভাযাত্রা, শিশুদের মুক্ত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা। সংগঠনের পক্ষ থেকে মধ্যাহ্ন ভোজের পর অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিকাল ৩টা থেকে দিনব্যাপী কবি শিমূল মিলকীর সঞ্চালনায় স্বরচিত কবিতা ও গল্প পাঠের আসর। এরমধ্যে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন কবি সরোজ মোস্তফা, প্রধান অতিথি হয়ে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো আলী আকবর। মুখ্য আলোচক অধ্যাপক যতীন সরকার ও আলোচক আহমেদ স্বপন মাহমুদ, ইয়াজদানী কোরায়শী কাজল, মামুন খান, মানস সান্যাল উপস্থিত থাকবেন। সন্ধ্যায় মনোনিতদের হাতে তোলে দেওয়া হবে খালেকদাদ চৌধুরী সাহিত্য পুরুষ্কার ১৪২১ ও ১৪২২। রাতে স্থানীয় শিল্পীদের বাউল গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে। এদিকে সংগঠনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের একদিন আগেই মুক্তমনা মঞ্চে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। উৎসব উপলক্ষ্যে এরই মধ্যে জেলা, উপজেলা ও ঢাকা থেকে আগত কবি, সাহিত্যিকদের সমাগম ছিলো চোখে পড়ার মতো। বসন্তকালীন সাহিত্য উৎসবকে ঘিরে পুরো শহরজুড়ে বিরাজ করছে এক আনন্দমুখর পরিবেশ।