| |

ঝিনাইগাতীর মহারশি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু লুটপাটের মহোৎসব

ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি : শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু লুটপাটের মহোৎসব চলছে। স্থানীয় এ শ্রেণীর কতিপয় প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী ১ যুগের অধিক সময় ধরে মহারশি নদীর শালচুড়া, ডাকাবর, ফাকরাবাদ, সন্ধ্যাকুড়া, গোমড়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু লুটপাট করে অবাধ বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। গত ১ যুগে অবৈধভাবে বালু লুটপাট করে ওই প্রভাবশালী অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা আঙ্গুল ফোলে কলাগাছ বনে গেছে। জানা গেছে, স্থানীয় মোঃ রুকুনুজ্জামান ২০০৪ সালে খনিজ মন্ত্রণালয় থেকে মহারশি নদীর রাংটিয়া ও শালচুড়া মৌজার ১০ হেক্টর এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের অনুমতি লাভ করে। পরবর্তীতে সরকারের নির্দেশে সকল বালু মহাল ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে হস্তান্তর করা হয়। এতে খনিজ মন্ত্রণালয় থেকে নেয়া বালু মহালের ইজারাগুলো বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু রুকুনজ্জামান ও তার কতিপয় সহযোগীসহ ওই লিজ বলে গত ১৪ বছর ধরে অবৈধভাবে বালু লুটপাট চালিয়ে আসছে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে নদীর তলদেশ ছাড়াও নদীর পার কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এসব এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বিপুল পরিমানের রাজস্ব আয় থেকে। অভিযোগ রয়েছে রুকুনুজ্জামানসহ ওই অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা ক্ষমতাশীন দলের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে দীর্ঘদিন থকে এসব বালু লুটপাট বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। তা দেখার যেন কেউ নেই। ১৩ ফেব্রুয়ারী শনিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সেলিম রেজা অবৈধভাবে বালু লুটপাট এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ৫ জনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ওই ৫ জনের ১ জন সিরাজুল ইসলাম নামে এক অবৈধ বালু উত্তোলনকারীকে ৫০ হাজার জরিমানা করা হয়। ইউএনও সেলিম রেজা ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ওই জরিমানা আদায়ের পর আর যেন বালু উত্তোলন করা না হয় এ মর্মে নির্দেশ দেন। কিন্তু অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা ১৫ ফেব্রুয়ারী এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইউএনও’র নির্দেশ উপেক্ষা করে অবৈধভাবে বালু লুটপাট অব্যাহত রেখেছে। এ ব্যাপারে ইউএনও মোহাম্মদ সেলিমা রেজা’র সাথে কথা হলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।