| |

ধর্মপাশার গলাভাঙা গুল বিল জলমহাল সেচে মাছ শিকারের অভিযোগ!

ধর্মপাশা প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার গলাভাঙ্গা গুল বিল নামক জলমহালটিতে গত এক সপ্তাহ ধরে তিনটি শ্যালো মেশিন বসিয়ে বিলের তলা শুকিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। ইজারাদারের লোকজন এতে জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে মাছের বংশ নির্বংশ হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের বোরো জমিতে সেচকার্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচেছ।
জয়শ্রী ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গলাভাঙা গুলবিল জলমহালটি জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনাধীন। বাৎসরিক দুই লাখ২৮হাজার ২৫২টাকা ইজারামূল্যে ১৪২০বঙ্গাব্দ থেকে ১৪২৫বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ছয়বছর মেয়াদে সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের নূরপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের নামে এটি ইজারা দেওয়া হয়। এর আয়তন ৬৮একর ৪৩ শতক। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে ওই জলমহালে দুটি শ্যালো মেশিন বসিয়ে বিলের তলা শুকিয়ে সেখান থেকে মাছ শিকার করা হচ্ছে।
সরোজমিনে গত রোববার বিকেল তিনটায় সেখানে গিযে দেখা যায়, জলমহালটির উত্তর পাশের প্রায় দুই একর পরিমান জায়গা শুকিয়ে সেখান থেকে মাছ শিকার করা হয়েছে। জলমহালটির পশ্চিম পাশের আরও এক একর পরিমান জায়গা জুড়ে শুকিয়ে মাছ শিকারের জন্য ৪-৫জন লোককে দুটি শ্যালো মেশিন মেরামত করতে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের অবসর প্রাপ্ত এক স্কুল শিক্ষক বলেন, জলমহালের তলা শুকিয়ে মাছ শিকার করা সম্পূর্ণভাবে বেআইনী। ইজারাদারের নিয়োজিত লোকজন শ্যালো মেশিন দিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে ওই বিলের তলা শুকিয়ে মাছ শিকার করে আসছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে দিন দিন মাছের বংশ নির্বংশ হয়ে যাবে। পাশাপাশি ওই জলমহাল সংলগ্ন ধানকুনিয়া হাওরের শত শত একর বোরো জমিতে সেচ কার্য মারাতœকভাবে বিঘিœত হবে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সুদৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।
নূরপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, জলমহালটিতে সমিতির সদস্যদের পাশাপাশি উপজেলা আওয়ামীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনীন্দ চন্দ্র তালুকদার ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ মুরাদ আমাদের সঙ্গে পার্টনার রয়েছেন। এ নিয়ে আমার সঙ্গে কথা না বলে তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।
শ্যালো মেশিন দিয়ে জলমহালের তলা শুকিয়ে মাছ শিকারের কাজে নিয়োজিত জেলে উপজেলার মাহমুদ নগর গ্রামের আজিজুল মিয়া (৪০), আলীম (৪৫),সুলতান (৩৬),রাজা মিয়া (৩৫) জানান, গলাভাঙ্গা গুল বিলের মালিক আওয়ামী লীগ নেতা মনীন্দ্র চন্দ্র তালুকদারের কাছ থেকে এই বিলটির কিছু অংশ সেচে মাছ শিকারের জন্য জন্য ত্রিশ হাজার টাকা দিয়ে আমরা কিনে নিয়েছি। দুই তিনদিন আগে মালিকপক্ষকে এক লাখ টাকা দিয়ে ওই জলমহালের দুই একর জায়গা শ্যালো মেশিন দিয়ে শুকিয়ে সেখান থেকে মাছ শিকার করা হয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনীন্দ চন্দ্র্র তালুকদার বলেন, জলমহালের তলা শুকিয়ে মাছ শিকারের জন্য আমি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি। নূরপুর মৎস্যজীবি সমিতির সদস্যদের সঙ্গে আমিও ওই জলমহালে সম্পৃক্ত আছি। স্থানীয় কৃষকেরা গলাভাঙ্গা গুলবিলের বাইরে সরকারি ডোবা থেকে জমিতে পানি সেচ করছেন। বিল শুকিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে এ অভিযোগটি সঠিক নয়।
জয়শ্রী ইউনিয়ন ভূমি উপ সহকারি কর্মকর্তা প্রদীপ চন্দ্র দে বলেন, গলাভাঙ্গা গুল বিলের তলা শুকিয়ে কে বা কারা মাছ শিকার করছেন এ বিষয়টি আমার জানা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, জলমহালের তলা শুকিয়ে মাছ শিকার কার অবৈধ ও জলমহালের নীতিমালা পরিপন্থি। খুব শিগগিরই খোঁজ নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।