| |

নেত্রকোনায় ধর্ষণের ভিডিও প্রকাশ অবশেষে ধর্ষক মাসুম’র বিরুদ্ধে থানায় মামলা

সৌমিন খেলন : কিশোরীদের ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানীর ভিডিও প্রকাশের পর নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ কর্তৃক ধর্ষক আমিনুল ইসলাম মাসুম’র কম্পিউটারসহ ধর্ষণের ভিডিওক্লিপ জব্দের ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও থানায় কোনো মামলা হয়নি। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিবাদী গ্রামবাসী জনতা রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নেত্রকোনা-কেন্দুয়া সড়কের ফচিকা বাজার এলাকায় ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করে। একপর্যায়ে মানববন্ধন শেষে উত্তেজিত গ্রামবাসী মাসুম’র ‘নিলা ডিজিটাল মডেলিং স্টুডিও’টি ভাঙচুর করে। পরে মিছিল নিয়ে তারা নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. তরুণ কান্তি শিকদার, পুলিশ সুপার (এসপি) জয়দেব চৌধুরী’র কাছে ধর্ষকের বিচার চেয়ে পৃথক স্মারকলিপি তোলে দেন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার গ্রামবাসীকে এব্যপারে বিচারের আশ্বাস দেন। ওইদিনই মধ্য রাতে নেত্রকোনা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলামিন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে স্বদেশ সংবাদকে তথ্য জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুদুল আলম। তবে কম্পিউটার জব্দ ও বিষয়টি প্রকাশের ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও থানায় মামলা না হওয়ার কারন হিসেবে ওসি মাছুদুল গ্রামবাসীর সিদ্ধান্তহীনতাকেই দায়ী করেন। এদিকে পুলিশ সুপার (এসপি) জয়দেব চৌধুরী স্বদেশ সংবাদকে বলেন, আইন সবার জন্যই সমান। অভিযুক্ত মাসুমের বিরুদ্ধে থানায় মামলা নেওয়া হয়নি বিষয়টি ঠিক তা নয়। ওসির বরাত দিয়ে এসপি আরও জানান, থানা মামলার অপেক্ষায়ই ছিলো কিন্তু বারবার গ্রামবাসীকে বলার পরও কেউ বাদি হয়ে মামলা করে নি। এদিকে ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানীর শিকার হওয়া কিশোরীদের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা না করার কারণ হিসেবে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ায় সক্রিয় প্রভাবশালী একটি মহলের বিভিন্ন হুমকির কথা জানান। দৈনিক স্বদেশ সংবাদে এনিয়ে ‘নেত্রকোনায় ধর্ষণের ভিডিও প্রকাশ / গ্রামবাসীর ধাওয়াতে বিজিবি সাবেক সদস্য পলাতক, ভিডিও ক্লিপসহ কম্পিউটার জব্দ’, শিরোনামে সর্বপ্রথম খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নেত্রকোনা জেলা শাখার নেতাকর্মীরা এলাকা পরিদর্শন করে ধর্ষিত ও শ্লীলতাহানীর শিকার কিশোরীদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। এবং এসময় সাধারণ সম্পাদক তাহেজা বেগম ধর্ষকের সর্বোচ্চ বিচারের জন্য সকল ধরনের আন্দোলনের শরীক থাকার আশ্বাস দেন। কাইলাটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নাজমুল হক, ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্পাদক মো. খায়রুল ইসলাম, জেলা অটোরিকশা শ্রমিক লীগের সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, ইউপি মেম্বার সিদ্দিকুর রহমানসহ নারী-পুরুষ সকল গ্রামবাসী ধর্ষক মাসুমের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। এরআগে শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্য রাতে নেত্রকোনার সদর উপজেলা ৭ নম্বর কাইলাটি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ফচিকা বাজারের নিলা ডিজিটাল মডেলিং স্টুডিও থেকে ধর্ষকের ব্যবহৃত কম্পিউটার জব্দ করেছেন নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলামিন। ওই দিন রাতেই ধর্ষণ ভিডিও বিক্রির ঘটনায় গ্রামের মো. আবুল হাশেমের ছেলে মাসুমকে ধরতে ধাওয়া করে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। এরপর থেকেই পলাতক রয়েছে মাসুম। গ্রামবাসীর অভিযোগে স্বদেশ সংবাদ অনুসন্ধানে হাতে পাওয়া একাধিক ভিডিও ক্লিপে কিশোরীদের ধর্ষণ-শ্লীলতাহানীর সত্যতা পাওয়া গেছে। পরে এ নিয়ে স্বদেশ সংবাদে বিস্তারিত খবর প্রকাশ হয়। ইউপি পরিষদের বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানসহ একাধিক গ্রামবাসী দাবি করেন, ধর্ষক মাসুম বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)তে চাকরিতে থাকাবস্থায় কর্মস্থলে অভিযুক্ত হয়ে চাকরিচ্যুত হয়েছেন। পরে গ্রামে এসে স্টুডিও ব্যবসার অন্তড়ালে কৌশলে ও ভয় দেখিয়ে একের পর এক কিশোরীকে শ্লীলতাহানীস এমনকি ধর্ষণ করে সে। মাসুম সংসার জীবনে আট বছর বয়সী এক কন্যা সন্তানের বাবা। মেয়ের নামানুসারেই হয়েছে ওই স্টুডিওটি। মাসুমের মা এসব ঘটনাকে গ্রামবাসীর ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিলেও ধর্ষণের ভিডিওর প্রসঙ্গ তোলে প্রশ্ন করা হলে তিনি নীরবতা পালন করেন। তবে এসময় মাসুমের বাবাকে বাসায় পাওয়া যায়নি। ইউপি মেম্বার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মামুমের বাবা টাকা পয়সা নিয়ে একটি মহলের কাছে দৌড়ঝাঁপ করছেন বিষয়টিকে সুরাহা করার জন্যে। এমনকি মাসুমের বাবা ছেলেকে রক্ষার জন্য আমাকেও এক লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন আমি যেন বুঝিয়ে শুনিয়ে গ্রামবাসীকে বিচার দাবিতে আন্দোলনে যেতে না করি। মাসুমকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার চেষ্টা অ্যাবহত রয়েছে বলেন, নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুদুল আলম।