| |

অবশেষে বদলী হলেন কিশোরগঞ্জের বিতর্কিত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মাওলা

নজরুল ইসলাম খায়রুল: অবশেষে বদলী হয়েছেন কিশোরগঞ্জের বিতর্কিত সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: গোলাম মাওলা। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) শামস উদ্দিন আহমেদ এর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি করা স্বাক্ষরে তাকে নেত্রকোণা জেলায় বদলীর প্রজ্ঞাপন জারী করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তিনি দায়িত্বভার হস্তান্তর করবেন। অন্যথায় ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বা স্ট্যান্ড রিলিজ মর্মে গণ্য হবেন। জনস্বার্থে এ আদেশ জারী করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
কিশোরগঞ্জে অবস্থানকালে গোলাম মাওলার বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি ছিল বদলী বাণিজ্য। এ বদলী বাণিজ্যের বিষয়ে এক শিক্ষক নেতার সাথে তার ঘুষ লেনদেনের ফোনালাপ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যা বিভিন্ন গণ মাধ্যমে প্রকাশিত হলেও তিনি সেটা ধামাচাপা দিতে সমর্থ হন। জেলার হাওর উপজেলাগুলো থেকে তিনি অন্তত শতাধিক শিক্ষককে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাদের পছন্দের অন্য উপজেলায় বদলী করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ সদরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়ের করা অভিযোগ বর্তমানে বিভাগীয় পর্যায়ে তদন্তাধীন রয়েছে।
গোলাম মাওলা ২০১০ সালের ২৬ জুন কিশোরগঞ্জে ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে নিকলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে তার পদায়ন হলেও তিনি নিকলীতে যোগদান না করেই ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কিশোরগঞ্জে চলে আসেন। এরমধ্যে মেহেরুন নেসা, ফজলুল হক ও দিলীপ কুমার বণিক নামে তিনজন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জে আসলেও তারা ছয়মাসের বেশি থাকতে পারেননি। অভিযোগ রয়েছে, ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মাওলা বিভিন্নভাবে তদবির করে তাদেরকে এখান থেকে সরিয়ে দেন। এছাড়াও সহকারী শিক্ষক নিয়োগের আগে শূন্য পদে পছন্দের প্রার্থীদের বদলী বানিজ্য করে থাকেন। উপজেলা শিক্ষা কমিটির মতামত ও তোয়াক্কা করেন না। প্রভাবশালী মহলের তদবির বানিজ্য রক্ষা করে থাকেন নিয়মিত।
বদলী বিষয়ে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, এখনো নেত্রকোণায় যোগদান করেননি। তিনি এ বদলী পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন জানিয়ে বলেন, নেত্রকোণার যোগযোগ ব্যবস্থা ভাল নয়। সে কারণে ভাল কোন জেলায় বদলীর চেষ্টা করছেন।