| |

মুখে বিষ ঢেলে হত্যার পর আত্মহত্যার প্রচারণা ॥ গৌরীপুরে যৌতুকের বলি হলো গৃহবধূ মিতু

গৌরীপুর সংবাদদাতা ॥ নববধূর হাতের মেহেদির রঙ মুছে যাওয়ার আগেই লাশ হয়ে বাবার বাড়ি ফিরে এলো। অমানসিক নির্যাতনের পর জোর করে মুখে বিষ ঢেলে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে প্রচার চালানোর ঘটনায় অবশেষে বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে হত্যা মামলা হয়েছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানায়। উপজেলা সহনাটী ইউনিয়নের গিধাউষা হাসন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী মিতু আক্তারের বিয়ে হয় মাত্র ৭মাস পূর্বে। বিয়ের সময় স্বর্ণের চেইনসহ দেয়া হয় অর্ধলক্ষ টাকার উপঢৌকন। এরপর থেকেই যৌতুকের চাপ দিলে বর্গাচাষী কৃষক মো. শাহজাহান ছিল নিরুপায়। মো. শাহজাহান জানান, তাঁর মেয়েকে শ্বশুড় বাড়ির লোকজন প্রথমে অমানসিক নির্যাতন করে, এরপরেও যৌতুকের টাকা এনে নিতে রাজি না হওয়ায় জোর করে মুখে বিষ ঢেলে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচারণা চালায়।
শাহজাহান জানান, তাঁর মেয়ে মিতু আক্তার (১৫) এর সাথে প্রায় ৭মাস পূর্বে মাওহা ইউনিয়নের বীরআহাম্মদপুর গ্রামের মঞ্জু বেপারীর পুত্র মাহাবুবুর রহমান (২৫) বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। মেয়েটি তখন গিধাউষা হাসন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণিতে পড়ছিল। মাহাবুবুর রহমানের পিতা মঞ্জু বেপারী বলেছিল, “ওরে বিয়ে দেন আমরা পড়াবো।” তিনি একজন বর্গাচাষী কৃষক। তাঁর সামর্থ্যনুযায়ী স্বর্ণলংকারসহ প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা উপঢৌকন দিয়েছিলেন। বিয়ের মাত্র ৫/৬মাসের মধ্যে শর্ত ভঙ্গ করে লেখাপড়া বন্ধ করে দেয়। তারই সহপাটীরা যখন পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরছে আর তিনি তখন মেয়ের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। নির্যাতনের কারণে দেড় মাস পূর্বে শ্বশুড়বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল। মেয়ে শ্বশুড়বাড়ি ফিরে যেতে চায়নি, গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে মেয়ের শান্তির জন্য আবারও শ্বশুড় বাড়িতে পাঠান। ঘটনারদিন রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) যৌতুকের টাকা জন্য নির্যাতন শুরু করলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে চায়। এ সময় মেয়ের স্বামী মাহাবুবুর রহমান (২৫), শ্বশুড় মো. মঞ্জু বেপারি (৫৫), শাশুড়ী সুফিয়া খাতুন (৪৫), হেনা আক্তার (১৬), মো. শাহজাহান (৪০), সাবিনা আক্তার (২৮), মো. নজরুল (৪৫) শারীরিক নির্যাতন করে মুখে বিষ ঢেলে মেয়েকে হত্যা করেছে। হত্যার পর ওরা এলাকায় ও প্রশাসনের নিকট জানায় আত্মহত্যা করেছে। তিনি আরও জানান, পুলিশ রক্তমাখা জামা-কাপড় উদ্ধার করেছে। গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আখতার মোর্শেদ জানান, মৃত মিতু আক্তারের পরিহিত কাপড়-চোপড়, বিষের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রির্পোট ও তদন্তে হত্যা প্রকৃত রহস্য বেড়িয়ে আসবে।