| |

ভালুকার কাদিগড় জাতীয় উদ্যান পর্যটক ও ভ্রমন বিলাসীদের জন্য সুখবর

নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ ভালুকার কাদিগড় জাতীয় উদ্যান পর্যটক ও ভ্রমন বিলাসীদের জন্য অচিরেই একটি সুখবর নিয়ে আসছে। ভালুকার কাচিনা ইউনিয়নের পালগাঁও ও কাদিগড় মৌজায় প্রায় ৯শত ৫০ একর বন ভূমিতে কাজ চলছে কাদিগড় জাতীয় উদ্যানের। ভালুকা হবিরবাড়ী রেঞ্জের কাদিগড় বিটের অর্ন্তগত জাতীয় উদ্যানের কাজ শুরু হয় ২০১৩ সাল থেকে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহা সড়কের ভালুকার হবিরবাড়ী সীডষ্টোর বাজার থেকে সখিপুর সড়কে অনুমান ৬ কিলোমিটার পশ্চিম থেকে পাকা সড়কে ২ কিলোমিটার উত্তরে পালগাঁও চৌরাস্তায় জাতীয় উদ্যানের প্রধান প্রবেশদ্বার। রাজেন্দ্রপুর ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও শ্রীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্কে দর্শনার্থীদের ভিড়ে যখন ভ্রমন উৎসুকদের মাঝে উৎসাহের ভাটা পড়েছে সেই মুহূর্তে ভালুকার কাদিগড় জাতীয় উদ্যান একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। কাদিগড় বনবিট কর্মকর্তা আবু তাহের জানান এ পর্যন্ত উদ্যানের প্রধান গেট ১ টি, অফিস ভবন ১ টি, ইকো কটেজ ২ টি, গোলঘর ২ টি, ওয়াচ টাওয়ার ১ টি, সেন্টি পোষ্ট ২ টি, পিকনিক স্পট ১ টি, রাস্তা পাকা ৭শ মিটার, রাস্তা ব্রিক সলিং ১ হাজার মিটার, একটি ছোট লেক নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে উদ্যানের জন্য প্রাণী ও পাখী জোন, আর ও পিকনিক স্পট, লেক ও যাবতীয় সরঞ্জাম প্রয়োজন। এছাড়া নিরাপত্তার জন্য লোকবল এবং নানা উপটৌকন প্রয়োজন। তবে এই উদ্যানের উন্নয়ন কাজের বাজেট কেটে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার কারনে কাজের গতি অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে।
ময়মনসিংহ জেলার দক্ষিন ও গাজীপুর জেলার উত্তর সীমান্ত এক সময়ের বন ভাওয়াল নামে পরিচিত শালগজারী বনাবৃত নদী ,খালবিল আর সবুজঘেড়া ভালুকা ছিলো নিভৃত পল্লী। যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এই এলাকার মানুষের চিত্তবিনোদনের কোন সু ব্যবস্থা ছিল না। দেশ স্বাধীনের পূর্বে এলকায় একটিও কলেজ ছিলনা। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা বর্ষাকালে নৌকায় চড়ে দুরের কোন নদী সংলগ্ন মাঠ কিংবা হাটে বাজারের খোলা মাঠে বন ভোজনে যেতেন। নৌকা লঞ্চ দিয়ে ক্ষীরু নদীর বুক চিরে কাউরাইদ রেল ষ্টেশন তারপর রেলগাড়ী চরে ঢাকা-ময়মনসিংহ। কমপক্ষে দুদিন সময় নিয়ে জেলা কিংবা রাজধানী শহরে যেতে হতো এ এলাকার মানুষকে। সেই দুর্যোগময় দিনের অবসান ঘটেছে ঢাকা ময়মনসিংহ মহা সড়ক ভালুকার উপর দিয়ে চলে যাওয়ায়। বর্তমানে নিজ জেলা ময়মনসিংহ ৪০ কিলোমিটার যেতে লাগে ৩৫ মিনিট আর রাজধানী ঢাকা ৮১ কিলোমিটার পথ পারি দিতে সময় লাগে মাত্র দেড় থেকে দুইঘন্টা। আশির দশকে আদা পাহাড়ী,টেকটিলা,বন্যামুক্ত বনাঞ্চল ঘেরা নির্জন পল্লী ভালুকার দিকে নজর দেন শিল্পপতিরা। স্থানীয় ব্যাবসায়ী ও ভূমি দালালদের সহায়তায় উপজেলার কাঁঠালী, ভরাডোবা, হবিরবাড়ী,ভালুকা সদর সহ বিভিন্ন গ্রামে শিল্প কারখানা নিমার্ণের জন্য শুরু হয় জমি ক্রয়। বর্তমানে শতাধিক মিল ফ্যাক্টরী রয়েছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। এসব ফ্যাক্টরীতে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারী রয়েছেন যারা সপ্তাহের কাজের ফাকে অন্তত হাতের কাছেই কাদিগড় জাতীয় উদ্যানে অবকাশ যাপনের সামান্য স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন। উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের পালগাঁও এলাকায় কাদিগড় বন বিটের অর্ন্তগত শাল-গজারী বনাবৃত বিশাল এলাকা জুরে সরকারী ভাবে কাজ চলছে কাদিগড় জাতীয় উদ্যানের। যেখানে রয়েছে বন্য প্রাণীর জীববৈচিত্রে ভরপুর আর অতি পুরোনো শাল-গজারী গাছের সবুজ বন । স্থানীয় বন বিভাগের তত্বাবধানে গনপূর্ত বিভাগ উদ্যানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্ত সেটি চলছে কচ্ছপ গতিতে। উদ্যানটি চালু হলে এখানকার মানুষের জীবন মানের পরিবর্তন ঘটবে তৈরী হবে বেকার মানুষের কর্মক্ষেত্র। দেশ বিদেশের মানুষ ভীড় করবে উদ্যান এলাকায় আর নিভৃত পল্লীর মানুষের মাঝে ফিরে আসবে নতুন করে জীবন চলার অদম্য বাসনা। এলাকাবাসীর দাবী জাতীয় উদ্যানের সকল কার্যক্রম ত্বরান্বিত করে অতি অল্প সময়ের মধ্যে এটিকে জনগন ও দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন।