| |

উগ্রপন্থা দমনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান শেখ হাসিনার

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক : উগ্রপন্থা দমনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের উত্থান এবং এর পেছনে ইউরোপ-আমেরিকা ফেরতদের ভূমিকা তুলে ধরে বুধবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক গার্ডিয়ান; ওই প্রতিবেদনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এ আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও রাজনীতিবিদ, মৌলবাদবিরোধী আন্দোলনের কর্মী ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
ঢাকার নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটিশ জিহাদিরা বাংলাদেশে মৌলবাদের উত্থানের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। তরুণ ধর্মীয় মৌলবাদীদের তারা আইএসের প্রতি সহানুভূতিশীল করে তুলছে। ব্রিটেনের বাঙালি কম্যুনিটিগুলো থেকে উগ্রবাদে অর্থায়নকারী ও লোক সংগ্রহকারীরা স্থানীয়দের আন্তর্জাতিক জিহাদে অংশ নিতে উৎসাহ জোগাচ্ছে এবং সালাফি গোষ্ঠীগুলোতে বাংলাদেশিদের সংখ্যা বাড়ছে।
এ বিষয়ে গার্ডিয়ানকে শেখ হাসিনা বলেন, “মাঠ পর্যায়ে ব্রিটিশ সরকারের আরও উদ্যোগ নেওয়া উচিত। পূর্ব লন্ডনে জামায়াতের বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে। এটা সত্য। তারা টাকা সংগ্রহ করছে, তারা টাকা পাঠাচ্ছে।”
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিম্ন মধ্য আয়ের ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশ ক্রমশ উগ্রপন্থিদের জন্য ‘ঊর্বর’ ভূমিতে পরিণত হতে চলেছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক, গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক সেনা গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞকে উদ্ধৃত করে এতে বলা হয়, “বাংলাদেশের উপর আইএসের নজর রয়েছে। সিরিয়া ও ইরাকে আইএসের পক্ষে লড়াই করতে যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা ৩০ জনের মতো। ভারত থেকে আইএসআইএসে যাওয়ার ট্রানজিট রুটও হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। জঙ্গিবাদে লোক সংগ্রহ করতে ব্রিটেন থেকে আসা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের সংখ্যাও বাড়ছে।”
নিরাপত্তা নিয়ে কর্মরত একটি এনজিওর পরিচালক গার্ডিয়ানকে বলেছেন, “বাংলাদেশজুড়ে মৌলবাদীদের অনেকগুলো শক্তিশালী পকেট রয়েছে। অনেক তরুণ আছে যাদের কোনো চাকরি নেই বা কোনো সম্ভাবনা নেই। তাদের একমাত্র অভিজ্ঞতা মাদ্রাসা ও মসজিদ। গ্রামাঞ্চলে তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবেশের সুযোগও নেই। এরা ব্যবহৃত হতে চায়। তাই খুব সহজেই তাদের নিজেদের কাজে লাগানো যায়।
যুক্তরাজ্য থেকে যখন বাঙালিরা আসে তখন তাদের পক্ষে এদের নিয়ন্ত্রণ করা খুব সহজ হয়ে পড়ে বলে তিনি মনে করছেন।
তিনি বলেন, “জিহাদে লোক সংগ্রহকারীরা লন্ডন থেকে আসছে, জার্মানি থেকে আসছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসছে। তারা শিক্ষিত, তারা বিশ্ববিদ্যালয়েও গিয়েছেন, তাই তারা বেশি পরিশীলিত।”
এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বাতিলও মৌলবাদের জন্য ক্ষেত্র তৈরি করেছে বলে মনে করেন তিনি।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর অবস্থানের সমর্থন জানিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। এর বাইরে তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশের মৌলবাদের দিকে ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি নজরের বাইরে রাখছে তারা।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে সমালোচনা এলেও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অনড় শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও বলছেন তিনি।
গার্ডিয়ানকেে শখ হাসিনা বেলন, “একটি ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ রক্ষায় আমরা লড়াই করছি। আমরা যদি ব্যর্থ হই তাহলে আমরা বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রে পরিণত হব। মৌলবাদী গ্রুপগুলো চেষ্টা করছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। এবং কিছু লোক তাদের উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছি।”
তবে পশ্চিম থেকে বাংলাদেশে মৌলবাদী চিন্তাধারার বিস্তৃতি ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “নিশ্চিতভাবেই আমরা অন্যান্য সব দেশ থেকে সহযোগিতা চাই। তাদের খুব সতর্ক হওয়া উচিত যাতে অবৈধ অর্থ বা অস্ত্র বা সন্ত্রাসীরা অন্য কোনো দেশে সমস্যা সৃষ্টির সুযোগ নিতে না পারে।”
পূর্ব লন্ডনের বাঙালি কম্যুনিটির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্ক সুপ্রতিষ্ঠিত মন্তব্য করে এর পক্ষে যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মতো জামায়াত নেতাদের সেখানে বক্তব্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইহুদি-মুসলিম ‘ইন্টারফেইথ’ সংগঠন স্ট্যান্ড ফর পিসের বক্তব্য অনুযায়ী, “পূর্ব লন্ডন মসজিদ ও ইসলামিক ফোরাম অফ ইউরোপ-দুটোই ব্রিটেনে জামায়াতের সংগঠকরা চালায়। উভয় প্রতিষ্ঠানই ব্যাপকভাবে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা ও তাত্ত্বিক গুরু সৈয়দ আবুল আলা মওদুদীর লেখার প্রচার চালায়।”