| |

মামলা বাড়লে ট্রাইব্যুনালও বাড়ানো হবে : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক : মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সংখ্যা বাড়লে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যাও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “ট্রাইব্যুনালে মামলা যে মুহূর্তে বৃদ্ধি পাবে, সেই মুহূর্তে শুধু দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল নয়, যে কয়টা ট্রাইব্যুনাল লাগে তা গঠন করা হবে।”
গত ১৫ সেপ্টেম্বর আইন মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দুটি থেকে কমিয়ে একটি করে। ওইদিন মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়, দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি সক্রিয় ও অপরটি সরকার সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত ‘অগঠিত’ অবস্থায় থাকবে।
আনিসুল হক বলেন, “ট্রাইব্যুনালে ট্রায়ালের জন্য রেডি মামলা একটি। চার্জ হয়েছে পাঁচটির। সব মিলে ট্রাইব্যুনালের সামনে ছয়টি মামলা রয়েছে। আর তদন্তাধীন মামলা আছে ছয়টি।”
‘সবার সঙ্গে আলোচনা করেই’ একটি ট্রাইব্যুনাল ‘অকার্যকর’ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ক’টি ট্রাইব্যুনাল কাজ করবে তা কাজের পরিধির উপরই নির্ভর করবে।
তিনি বলেন, “তদন্ত সংস্থার কাজের উপর নির্ভর করবে- এর সদস্য সংখ্যা বাড়বে না কি কমবে। মামলা কমে যাওয়ার কারণে প্রসিকিউশনের সদস্য কমানো হবে কি না তাও ভেবে দেখো হবে।”
আনিসুল হক বলেন, “মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার যতক্ষণ শেষ না হবে, ততদিন এই বিচার বন্ধ হবে না।”
দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা কাজ শুরু করলেও আইনি জটিলতার কারণে তা থমকে আছে। বিষয়টি আটকে থাকায় সরকারের সমালোচনাও করেছে বিচারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা।
এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, “আইনের সংশোধনী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো পর তারা সেটি খুটিয়ে দেখেছে। পরে লেজিসলেটিভ বিভাগ সংশোধনী দেখে আবার তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে। শিগগিরই সেটি মন্ত্রিসভায় উঠবে।”
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের কপি দেরিতে প্রকাশ হওয়ায় জটিলতা হয়, কপি দ্রুত দেওয়ার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় কোনো উদ্যোগ নেবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিচার বিভাগ স্বাধীন। তবে আমরা প্রসিকিউশন বা এ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের মাধ্যমে বিচারপতিদের অনুরোধ করতে পারি তারা যেন বিচারের রায়ের কপি তাড়াতাড়ি দেন।’
প্রধান বিচারপতিকে অভিসংশনে রাষ্ট্রপতির কাছে একজন বিচারপতির চিঠি পাঠানো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোনো মন্তব্য করতে চাননি আনিসুল হক।
তিনি বলেন, “চিঠির ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করব না। রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে, রাষ্ট্রপতিই এর জবাব দিতে পারবেন। আমি কোনো জবাব দিতে পারব না।”