| |

ময়মনসিংহ গালর্স ক্যাডেট কলেজে পলিন হত্যা মামলা ৩ সেনা কর্মকর্তা সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছে আদালত

রবীন্দ্র নাথ পালঃ ২০০৫ সনে ময়মনসিংহ গালর্স ক্যাডেট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী শর্মিলা শাহরিন পলিন হত্যার অভিযোগে আজ জেলা ময়মনসিংহের বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ ড. মুহাম্মদ আমির উদ্দিন ও সেনা কর্মকর্তা সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চার্জ গঠন করেছেন। দীর্ঘ ও জটিল আইনী পক্রিয়া শেষে পলিনের বাবা অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট সার্জেন্ট আবুল বাশার পাটোয়ারী আদালতের এ নির্দেশে পেয়ে পরমকরুনাময়ের নিকট শুকরিয়া আদায় করেন।
মামলার বিবরণে প্রকাশ,২০০৫ সনের ১১ ই ফেব্র“য়ারী শর্মিলা শাহরিন পলিন কলেজের বাথরুমে ফাঁস লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় কোতুয়ালী থানায় একটি ইউডি মামলা করা হয়। পরে পলিনের বাবা আবুল বাশার পাটোয়ারী কোতুয়ালী থানায় তার মেয়েকে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করতে গেলে কোতুয়ালী থানার তৎকালীন ওসি আদালতের নির্দেশ ছাড়া মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান। এর আগে কলেজের অধ্যক্ষ ১১ ই ফেব্র“য়ারী কোতুয়ালী থানাকে একটি চিঠি দিয়ে জানান,পলিন আত্মহত্যা করেছে। তবে পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টে পলিনের গলায় আঘাতের চিহ্ন থাকায় তার পরিবার একটি পরিকল্পিত হত্যা মনে করে আদালতে মামলা করে। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে কোতুয়ালী পুলিশ পলিনের বাবার এজাহার গ্রহণ করলেও তদন্ত শেষে পুলিশ ফাইনাল রিপোর্ট দেয় ২৯ শে সেপ্টেম্বর ২০০৫ ইং। বাদী পলিনের বাবা আবুল বাশার পাটোয়ারী পুলিশের ফাইনাল রিপোটের বিরুদ্ধে নারাজীর আবেদন করেন ১৬ই অক্টোবর। বিজ্ঞ আদালত বাদীর নারাজীর আবেদন মঞ্জুর করে সি আইডিকে অধিকতর তদন্তের জন্য নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডি ২০০৯ সনের ৪ সেপ্টেম্বর ফাইনাল রিপোর্ট দেয়। বাদী সিআইডি’র ফাইনাল রিপোর্টের পর আবারো ২০০৯ সানের ২৪ নভেম্বর আদালতে নারাজী দেয় । বিজ্ঞ আদালত নারাজী আবেদন মঞ্জুর করে ১৫ই ডিসেম্বর ২০০৯ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর হোসেনকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। তিনি ২০ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য নেয়ার পর ২০১৩ সনের ২৮ জানুয়ারী বদলী হয়ে যান। পরে জুডিসিয়াল মেজিস্ট্রেট মোঃ আল আমিন স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেন ২০১৩ সনের ১৪ই মে । ২২শে মে ২০১৩ সনে ম্যাজিস্ট্রেট আল আমিন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে বিজ্ঞ আদালত তা আমলে নিয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানার আদেশ দেন, যার সি আর মামলা নং-২২০/২০১৩ইং। উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আসামী এ্যাডজুট্যান্ট মেজর নাজমুল হক ( বর্তমানে লে:কর্ণেল), মোঃ আবুল হোসেন প্রাক্তন সহযোগী অধ্যাপক, গালর্স ক্যাডেট কলেজ প্রাক্তন সার্জেন্ট মোঃ নওশের উজ জামান ( বর্তমানে ওয়ারেন্ট অফিসার) গালর্স ক্যাডেট কলেজ, ডরমেটরী বেয়ারার হেনা বেগম ও মেজর মুনির আহাম্মদ চৌধুরী, ডিএজি, ময়মনসিংহ গালর্স ক্যাডেট কলেজ, ময়মনসিংহ ( বর্তমানে পলাতক ) গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। প্রথম দু’ জন হাইকোট থেকে পরবর্তী দুজন আমলী আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।
এ মামলায় বাদী রাষ্ট্রপক্ষে আবুল বাশার পাটোয়ারীর আবেদন দীর্ঘ মামলার জট ছাড়িয়ে আজ ( বৃহস্পতিবার) বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে শুনানী শেষে ৩ সেনা কর্মকর্তা সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পিপি এড. মোঃ ওয়াজেদুল ইসলাম,সাবেক পিপি এড.বিশ্ব নাথ পালও এডভোকেট শফিকুল ইসলাম,আসামী এড.এ এইচ খালেকুজ্জামান ও এড নজরুল ইসলাম চুন্নু মামলা পরিচালনা করছেন।