| |

ধর্মপাশায় জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় আরও এক নারীর মৃত্যু

ধর্মপাশা  প্রতিনিধি : জমি দখলকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুধবহর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গত মঙ্গলবার বিকেলে অন্তত ছয়জন আহত হন । আহতদের মধ্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার সকাল নয়টার দিকে হাছেন বানু (৭০) ও গতকাল শনিবার সকালে সাহারা খাতুনের (৩৫) মৃত্যু হয়েছে। এ সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হাছেন বানুর ছেলে মুখলেছ মিয়া বাদী গত বুধবার বিকেলে পাঁচ জনের নামোল্লেখ করে ও অজ্ঞাত নামা আরও দুই-তিনজনকে আসামি আসামি করে ধর্মপাশা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী , এলাকাবাসী, ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুধবহর গ্রামের সামনে প্রায় ৪৮শতক আমন জমি দখল নিয়ে একই গ্রামের   মুখলেছ মিয়ার (৪০) ও আল আমিনের (৩২) মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ¦িবরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আদালতে মামলা মোকাদ্দমাও রয়েছে। দুই পক্ষই আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এতোদিন এই জমিটি ভোগ দখল করে আসছিলেন। গত মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে আব্দুল মোতালিবের পুত্র আল আমিন (৩২) দেশীয় অস্ত্র সহ লোকজন নিয়ে ওই জমিতে ধানের চারা রোপন করতে যান। এ সময়  প্রতিপক্ষ মুখলেছ মিয়ার স্ত্রী সাহারা খাতুন ও তাঁর মা হাছেন বানু এতে বাঁধা দেন। এ নিয়ে  সংঘর্ষ বেধে গেলে এতে অন্তত ছয় জন আহত হন। আহতদের মধ্যে সাহারা খাতুন (৩৫) ও হাছেন বানু (৭০) কে ওইদিন বিকেলে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানে অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় ওইদিন রাতে মুমূর্ষ অবস্থায় তাঁদের দুইজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকাল নয়টার দিকে হাছেন বানু ও গতকাল শনিবার সকাল ছয়টার দিকে সাহারা খাতুন মারা যান। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় ধর্মপাশা থানা পুলিশ ওই রাতেই মোহনগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়েরন সামনের সড়ক থেকে আল আমিনকে আটক করে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁকে ধর্মপাশা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। কিন্তু আদালত দুইদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। এ দিকে শনিবার দুপুরে সুনমগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার  (পশ্চিম) আব্দুল মমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ওসি (তদন্ত) মো.গোলাম কিবরিয়া বলেন,এ ঘটনায় থানায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার এজহারভুক্ত আসামি আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে দুইদিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে ।