| |

নেত্রকোনায় পৃথক ৩ অগ্নিকান্ড পুড়ে ছাই হলো কোটি টাকার মালামাল!

সৌমিন খেলন : নেত্রকোনায় পৃথক তিনটি অগ্নিকান্ডের ঘটনায় অন্তত কোটি টাকার মালামাল পুড়ে চাই হয়ে গেছে। ক্ষতির পরিমান উল্লেখ করে এমনই দাবি করেছেন অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থরা। বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্য রাত থেকে শুরু করে শুক্রবার দুপুরের মধ্যে অগ্নিকান্ডের এসব ঘটনা ঘটেছে। নেত্রকোনা ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর নির্মল চন্দ্র সরকার জানান, পৃথক এই তিনটি অগ্নিকান্ডের মধ্যে প্রথম অগ্নিকান্ডটি হয় নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের বেখৈরহাটি বাজারে। এতে ওই বাজারের মনোহারি, বস্ত্রালয়, সার কীটনাশক, রড-সিমেন্ট-ঢেউটিন, মোবাইল, ফার্মেসীসহ ১৫টি দোকন ঘর পুড়ে যায়। পুড়ে যাওয়া এসব দোকান ঘর বা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে লুৎফর টেড্রার্স, মের্সাস শাহ পরান টেড্রার্স, মায়ের দোয়া টেড্রার্স, আহমদ টেড্রার্স, মেসার্স তাইয়েবা এন্টার প্রাইজ, সাগর স্টোর, বিসমিল্লাহ্ বস্ত্রালয়, সুবাস বস্ত্রালয়, সিরাজ মেডিকেল হল। লুৎফর টেড্রার্সের প্রো: লুৎফর রহমান, তাইয়েবা এন্টার প্রাইজের আনিসুর রহমান, মেসার্স শাহ পরান টেড্রার্সের ইসলাম উদ্দিন জানান, অগ্নিকান্ডে দোকানের সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় তারা প্রত্যেকেই এখন সর্বশান্ত। ক্ষতির পরিমাণ হিসেব করলে কোটি টাকাতে গিয়ে দাঁড়াবে বলে দাবি করেন ওই ব্যবসায়ীরা। কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অগ্নিকান্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার দুপুরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মুশফিকুর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোতাসিমুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীদেরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। এদিকে মধ্য রাতের একই সময়ে দ্বিতীয় অহিগ্নকান্ডটি হয় নেত্রকোনা পৌর শহরের পাড়লা এলাকার সবুজ মিয়া’র অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জের দোকান ঘরে। ব্যটারি চার্জ দিতে গিয়ে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। ঘরে। এসময় আগুনে সবুজ মিয়ার দোকানের ৫০ হাজার টাকার মতো মালামাল পুড়ে যায়। সর্বশেষ অগ্নিকান্ডটি হয় পৌর শহরের তেরী বাজার এলাকার মনিরুদ্দিনের পলাশ টেলিকমে। এব্যপারে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানিয়েছেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে এতে কোনো ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর নির্মল আরও জানান, প্রতিটি অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে দ্রুত সময়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে কর্ম দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। তবে কেন্দুয়া উপজেলা অগ্নিকান্ডে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হতো যদি শহর থেকে বেখৈরহাটি বাজারের দূরত্ব কম হতো।