| |

ঝিনাইগাতী’র রাবারড্যাম পাল্টে দিয়েছে কৃষকের ভাগ্যের চাকা -সংসদ সদস্য ফজলুল হকের পরিদর্শন

খোরশেদ আলম : শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীর নলকুড়ার রাবারড্যাম পাল্টে দিয়েছে কৃষকদের ভাগ্যের চাকা। এ রাবারড্যামের পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে অনাবাদি জমি আবাদের আওতায় আসায় কৃষকদের মাঝে নেমে এসেছে স্বস্তির নিশ্বাস। জানা গেছে, সেচ সুবিধার অভাবে যুগযুগ ধরে এসব জমি অনাবাদি থাকতো। চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে এ রাবারড্যামের পানিতে প্রায় ১ হাজার হেক্টর অনাবাদি জমি আবাদের আওতায় আনা হয়েছে। মহারশি নদীর নলকুড়ায় এ রাবারড্যামটি নির্মাণের পূর্বে যুগযুগ ধরে এসব জমি অনাবাদি থাকতো। এ উপজেলার কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ভাগ্য উন্নয়নের স্বার্থে সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক এ রাবারড্যামটি নির্মাণ কাজ হাতে নেন। জানা গেছে, জাইকা’র ৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এলজিইডি’র তত্ত্বাবধানে ২০১৩ সালে এ রাবারড্যামটি নির্মাণ কাজ শুরু হয়। চলতি বোরো মৌসুমের পূর্বেই রাবারড্যাম নির্মাণ সম্পন্ন হয়। ফরিদপুরের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফিয়া কন্সট্রাকশনের স্বত্ত্বাধীকারী ইমতিয়াজ হোসেন রুবেল ড্যাম নির্মাণ কাজটি সম্পন্ন করেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রষারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোঃ কোরবান আলী বলেন, চলতি মৌসুমে এ রাবারড্যামের পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমি আবাদ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এতে প্রায় ২ হাজার কৃষকের ভাগ্যের চাকা পাল্টে গেছে। রাবারড্যামের পানিতে বোরো আবাদ করতে পেরে এ এলাকার কৃষকরা এখন খুশিতে আত্মহারা। তবে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও মহারশি নদীর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিঃ এর কর্মকর্তাদের সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও উদ্যোগের অভাবে ৫শতাধিক হেক্টর জমি অনাবাদি রয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ রাবারড্যাম নির্মাণ করা হলেও, ড্রেন নির্মাণের অভাবে আরো অনেক জমি আবাদের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। কৃষকরা জানায়, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ড্যাম নির্মাণের পূর্বেই পরিকল্পনা করে পানি প্রবাহের জন্যে ড্রেন নির্মাণের ব্যবস্থা করা হলে অনাবাদি জমিগুলো এ বছর বোরো আবাদ করা যেত। শেরপুরের এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী ভাস্কর কান্তি চৌধুরী বলেন, অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ড্রেন নির্মাণ সম্ভব হয়নি। তবে পরবর্তীতে ড্রেন নির্মাণ করে আগামীতে পরিধি বাড়িয়ে ২ হাজার হেক্টর জমি আবাদের আওতায় আনা হবে। সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক গতকাল ৩০ মার্চ বুধবার রাবার ড্যাম ও ড্যামের পানিতে আবাদি জমি পরিদর্শন করেন। তিনি কৃষকদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষক বান্ধব সরকার। কৃষি উন্নয়নের স্বার্থে কৃষিক্ষেত্রে ভর্তুকি দিচ্ছেন। আগামীতে কৃষকদের উন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর।