| |

“ময়মনসিংহ বিভাগ ঃ উন্নয়ন ভাবনা”-শীর্ষক সংলাপে হুইপ আতিক ময়মনসিংহ বিভাগ হওয়ায় উন্নয়নের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ময়মনসিংহ টাউন হলের অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে গতকাল ২ এপ্রিল (শনিবার) সকালে ‘ময়মনসিংহ বিভাগ ঃ উন্নয়ন ভাবনা’-শীর্ষক নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঐকবদ্ধ ভাবে কাজ করে দেশের সদ্য প্রতিষ্ঠিত অষ্ঠম বিভাগ ময়মনসিংহকে উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ বিভাগ হিসাবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ নিয়ে আয়োজিত এই সংলাপ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের হুইপ, সংসদ সদস্য, অন্যান্য জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ অংশগ্রহণ করেন। বিগত ২৬ বছর ধরে ময়মনসিংহ বিভাগ আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলন এবং ময়মনসিংহ বিভাগ বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খানের সভাপতিত্বে সংলাপে অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন, জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিক এমপি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডাঃ ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির এমপি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান সমন্বয়ক মুহ. আব্দুল হান্নান খান, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার জি.এম সালেহ উদ্দিন, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী, নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ড. মোঃ মুশফিকুর রহমান, জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ দেলোয়ার হায়দার, শেরপুরের জেলা প্রশাসক মোঃ জাকির হোসেন, ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মইনুল হক, নেত্রকোনার পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী, জামালপুরের পুলিশ সুপার মোঃ নিজাম উদ্দিন, শেরপুরের পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম, ময়মনসিংহ পৌর মেয়র ইকরামূল হক টিটু, এফবিসিসিআই পরিচালক আমিনুল হক শামীম, নালিতাবাড়ীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা, সিবিএমসিবি’র অধ্য প্রফেসর ডাঃ মীর্জা হামিদুল হক, এডভোকেট এএইচএম খালেকুজ্জামান, এডভোকেট বাধঁন কুমার গোস্বামী, এহতেশামূল আলম, নেত্রকোণার এড খানে আলম, শেরপুরের মনিরুল ইসলাম লিটন, জামালপুরের সৈয়দ আতিকুর রহমান সানা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন কালাম ময়মনসিংহ বিভাগ উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন নিয়ে ২২টি প্রস্তাবনা সম্বলিত ধারণাপত্র পাঠ করেন। এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ও এডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান সমন্বয়ক মুহ. আব্দুল হান্নান খান বলেন, শিা ও সংস্কৃতির শহর ময়মনসিংহ। সংস্কৃতির সাথে সম্পদকে যুক্ত করতে না পারলে ভালভাবে বাঁচা যাবেনা। অবিলম্বে শহর উন্নয়ন ও ব্রক্ষ্মপুত্র নদ রা করে নদীর দুপাড়ে আধুনিক শহর গড়ে তুলতে হবে। তিনি সুনামগঞ্জ থেকে মোহনগঞ্জ হয়েনেত্রকোণা-ঢাকা পর্যন্ত রেললাইনের দাবী করেন। এছাড়া তিনি কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইলবাসীকে ময়মনসিংহ বিভাগের সাথে যুক্ত হতে আহবান জানান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, আজকের সভাটি সময়োপযোগী। তবে ভাল কাজের শুরু আছে শেষ নেই। এ জন্য চাহিদা অব্যাহত রাখতে হবে। আজকে উত্থাপিত দাবী সমুহ জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রেরণ করা হলে আমরা সরকারী কর্মচারীরা উন্নয়নের জন্য ঝাপিয়ে পড়ে দ্রুত উন্নয়ন করবো। তিনি আরো বলেন, বিভাগের সদর দপ্তর স্থাপনে জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর সমন্বয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে। সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডাঃ ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে আমরা বিভাগ পেয়েছি। যা দেশের অষ্টম বিভাগ। এ সময় তিনি বলেন, অষ্টম নয় দেশের অন্যতম এবং ঢাকার সমমানের বিভাগ গড়ে তুলতে কার্যক্রম চলছে। তিনি শহরের এসকে হাসপাতালকে দোতলা করে মহিলাদের জন্য পৃথক হাসপাতাল ও পৃথক আরেকটি মহিলা মেডিকেল কলেজ স্থাপন, ময়মনসিংহে হাইকোর্ট ডিভিশন চালু করার দাবী করেন। জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিক এমপি বলেন, ময়মনসিংহ এক সময় দেশের বড় জেলা ছিল। আজ বিভাগ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা, বিরোধীদলীয় নেত্রীর সহযোগীতায় জেলা নাগরিক আন্দেলনের দাবী ময়মনসিংহ বিভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। সকল এমপিদের সমন্বয়ে উ্ন্নয়নের চিত্র তৈরী করে জাতীয় সংসদে একযোগে উপস্থাপন করা হলে উন্নয়ন তরান্বিত হবে। ফলে দশ বছরের কাজ এক বছরেই করা সম্ভব। তিনি বিভাগের জেলা শেরপুরে মেডিকেল কলেজ, শেরপুর হয়ে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের দাবী করেন। সব শেষে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পুনরায় সভা করে উন্নয়ন চিত্র নিয়ে আবারো বৈঠক করার উপর গুরুত্ব দেন।
ময়মনসিংহ পৌর সভার মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু বরেন, ময়মনসিংহ বিভাগকে দেশের শ্রেষ্ঠ বিভাগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে আমাদের সর্বস্তরের সকলকে ঐকবদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে। এই বিভাগের মহাসড়কগুলোকে দ্রুত সময়ে চারলেনে করতে হবে, ব্রহ্মপুত্র নদ খনন করতে হবে, ময়মনসিংহকে পর্যটন নগরী-শিক্ষানগরী-সংস্কৃতির নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এর জন্য নগরীটিকে দৃষ্টিনন্দন করতে হবে, আরো শিক্ষা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়তে হবে। আরো কর্মসংস্থানের, চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করতে হবে। অবিলম্বে ত্রিশালে প্রস্তাবিত বিমান বন্দর প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এফবিসিসিআই’র পরিচালক বিশিষ্ট শিল্পপতি আমিনুল হক শামীম বলেন, আমরা দীর্ঘ ২ যুগেরও বেশী দিনের আন্দোলনের সুফল ময়মনসিংহ বিভাগ পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তার পূর্ব প্রতিশ্রুত ময়মনসিংহ বিভাগ উপযুক্ত সময়েই দিয়েছেন। এতে সর্বাতœক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন বর্তমান জাতীয় সংসদের বিরোধীনেতা বেগম রওশন এরশাদ এমপি, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজম এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মোঃ আবুল কালাম আজাদ। আমিনুল হক শামীম এই নতুন বিভাগের প্রতিটি জেলায় পরিকল্পিত ভাবে ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব করেন। ডাঃ মীর্জা হামিদুল হক বলেন, ময়মনসিংহ শহর সহ বিভাগের ঐতিহ্যবাহী পুরানো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। দ্রুততম সময়ে শ্রম আদালত প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শহরগুলোর যানজট ও জলজট নিরসনে কাজ করতে হবে।
ক্যাপঃ ময়মনসিংহ বিভাগ উন্নয়ন ভাবনা শীর্ষক সংলাপে বক্তব্য রাখছেন জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিক। ছবিঃ শিবু