| |

টাঙ্গাইলের চারাবাড়ি-তোরাপগঞ্জ সড়কে ব্রিজ ধসে পড়ার আশঙ্কা ॥ চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

বিভাস কৃষ্ণ চৌধুরী : টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চারাবাড়ি-তোরাপগঞ্জ সড়কে ধলেশ্বরী নদীর উপর এলজিইডি নির্মিত ১৭১ মিটার দীর্ঘ ব্রিজ ও তৎসংলগ্ন সড়ক আসন্ন বর্ষায় ধসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত ও জেলা সদরের সাথে পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ১৫ লাখ মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মাহমুদনগর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, কাতুলী ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান সুমন আহাম্মেদ ও হুগড়া ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন তোফা এদের গত ৫ বছরের কাজে গাফিলতিকে দায়ী করেছেন এলাকাবাসী। তারা এই তিন চেয়ারম্যানের উন্নয়ন কাজে ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
জানা যায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ৩ ইউনিয়ন, নাগরপুর উপজেলার ৭টি গ্রাম ও সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিবিঘœ করতে গত ২০০৬ সালে চারাবাড়ি-তোরাপগঞ্জ সড়কে ধলেশ্বরী নদীর ঘোষবাড়ি মৌজায় এলজিইডির উদ্যোগে ১৭০.৬৪২ মিটার ব্রিজ এবং ২৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়। গত বছর বর্ষায় ধলেশ্বরীর তীব্র¯্রােতে ব্রিজের পূর্বপাশের গোড়ায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়। ব্রিজের মাত্র ১৫০ গজ পশ্চিমে ধলেশ্বরীর আগ্রাসী ছোবলে নদী ভেঙে পাকা সড়কের পাশে ৪-৫ গজের মধ্যে পৌঁছে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন না করলে এবার বর্ষায় ব্রিজের ১৫০ গজ পশ্চিমে প্রথম ভাঙন শুরু হবে এবং সড়ক ভেঙে পড়লে ব্রিজের অস্তিত্বও থাকবে না। ওই ব্রিজ ও সড়ক ভেঙে গেলে কাগমারী-চারাবাড়ি-তোরাপগঞ্জ-মাকোরকোল-শাহজানী সড়কে যাতায়াত বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী, হুগড়া ও মামুদনগর ইউনিয়নের ২৫-২৬টি গ্রাম, নাগরপুর উপজেলার খাশরাজানী, আটাপাড়া, ধনাই, মারমা, ডুমুরিয়া, চান্দক ও আগ-দিঘুলিয়া গ্রাম এবং সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার স্থলপাকুটিয়া, রেহাই পুকুরিয়া ও মিরকুলিয়া ইউনিয়নের ১১-১২টি গ্রামের প্রায় ১৫ লাখ মানুষের যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি। ওই সড়ক ভেঙে ও ব্রিজ ধসে পড়লে জেলা সদরের সাথে পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ১৫ লাখ মানুষের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এছাড়া বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি-জমির ফসল ও গবাদীপশু পানিতে ভেসে যাবে এবং মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, হাট-বাজার বন্যা কবলিত হয়ে পড়বে। এলাকাবাসী বর্ষার পানি আসার আগেই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানায়। এলাকাবাসী বলেন, চেয়ারম্যানরা বিগত ৫ বছরে এলাকার কোন উন্নয়নমূলক কোন কাজই করেনি। সরকারী উন্নয়নের বিভিন্ন বরাদ্দ তারা ভাগবাটোয়ারা করে খেয়েছেন। তারা টেন্ডারবাজী, ভুমি দখল, বালুর ব্যবসা এবং চাঁদাবাজীতে ব্যস্ত ছিল। এসব জনপ্রতিনিধিদের কাজে এলাকার মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, কাতুলী ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান সুমন আহাম্মেদ ও হুগড়া ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন তোফা জানান, ওই ব্রিজ বা সড়ক ভেঙে পড়লে পুরো পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ টাঙ্গাইল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এখনই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। তারা আরও বলেন, বর্ষায় ভাঙনের সময় প্রশাসনের কিছুটা তৎপরতা দেখা যায়, পরে আর কোন খোঁজখবর রাখে না। তারা বিষয়টি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে একাধিকবার কথা উঠিয়েছেন। কিন্তু এ পর্যন্ত, কারো কোন মাথা ব্যথা নেই।