| |

জামালপুরে আন্তঃনগর ট্রেনের জাল টিকেটের ফাঁদে পরে প্রতারিত হচ্ছে যাত্রীরা

জামালপুর প্রতিনিধি॥জামালপুরে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট জাল টিকিটের ছড়াছড়্।ি এক শ্রেনীর টিকিট কালোবাজারিদের ফাঁদে পড়ে নিয়মিত ট্রেন যাত্রীরা প্রতারিত হচ্ছে। জানাযায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র ট্রেনের টিকেট জাল করায় প্রতারনার শিকার হচ্ছে অসহায় রেল যাত্রীরা।
জামালপুরের মানুষ ট্রেনের ভ্রমণকেই সবচেয়ে বেশী নিরাপদ আর আরামদায়ক মনে করে থাকেন। তাই জামালপুর থেকে আসনযুক্ত টিকেট পেতে যাত্রীরা প্রতিদিনই কাউন্টারে হুমড়ী খেয়ে পরে। জামালপুরে যাত্রী অপেক্ষা সীমিত সংখ্যক টিকেটের বিপরীতে যাত্রী সংখ্যা কয়েকগুন বেশী হওয়ায় টিকেটের জন্য যাত্রীদের হাহাকার সব সময় লেগেই থাকে। এই সুযোগটিকেই কাজে লাগাচ্ছে সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্র। যদিও এর আগে এ ধরনের ঘটনা আর কখনও চোখে পড়েনি।
গত ৯ এপ্রিল শনিবার জামালপুর রেলওয়ে প্ল্যাটফর্ম ছিল লোকে লোকারন্য। সব যাত্রীরা অপেক্ষা করছিল ট্রেনের জন্য। বিকাল সোয়া ৪টায় আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে এসে দাঁড়ানোর সাথে সাথে ট্রেনটিতে উঠার প্রতিযোগিতায় নেমে গেল যাত্রীরা। ওই ট্রেনের ‘ছ’ নাম্বার বগিটির ৪৪ ও ৪৫নাম্বার আসনটিতে বসার জন্য পাঁচ/ছয় যাত্রী অবিকল হুবহু একই আসন নাম্বার সম্বলিত টিকেট হাতে নিয়ে বাক-বিতন্ডায় লিপ্ত হলেন। খবর পেয়ে জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো.তারেক দ্রুত বাগিতে উপস্থিত হলেন। এসময় তিনি একই তারিখ ও আসন নাম্বার সম্বলিত জাল টিকেটগুলো দেখে হতভম্ব হয়ে গেলেন। পরে তিনি ওই বগির এ্যাটেন্ডেন্ট্কে বিষয়টি বুঝিয়ে তাদেরকে ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেন। যাত্রীরা ঢাকা কমলাপুর পৌছে পরে এসে টিকেটগুলো পুনরায় স্টেশন মাস্টার কাছে ফরৎ দেয় যাত্রীরা ।
এব্যাপারে স্টেশন মাস্টার জাল টিকেটগুলো নিয়ে জামালপুরের জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে তাদেরকে বিষয়টি অবহিত করেন। এ ঘটনায় জামালপুর রেলওয়ে থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করা হয়েছে।
স্টেশন মাস্টার মো.তারেক বলেন,স্টেশন কাউন্টার ছাড়া বাইরের কালোবাজারীদের কাছ থেকে টিকেট ক্রয় করলে জাল টিকেটের কবলে পরার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তিনি যাত্রীদেরকে আসন না থাকলেও স্টেশন কাউন্টার থেকেই টিকেট ক্রয়ের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন,জাল টিকেটের আকার ও রং দেখতে হুবহু একই রকম হলেও জাল টিকেট সনাক্ত করার কয়েকটি উপায় রয়েছে। যেমন জাল টিকেট আসল টিকেট হতে অপেক্ষাকৃত পাতলা হবে। জাল টিকেটের নকশা,মনোগ্রাম ও রং কিছুটা হাল্কা দেখা যাবে । জাল টিকেটের দুই পাশের কাটা গোল ঘরগুলো মসৃণ হবে আর আসল টিকেটে দুই পাশের কাটা গোলঘরগুলো দাঁতেরমত খাঁচ কাটা থাকবে।
এব্যাপারে জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী আব্দুল্ল­াহ আল মামুন ও বুকিং সহকারী মো.মিনহাজুল আবেদীন বলেন দীর্ঘ দিন ধরে এই স্টেশনে বুকিং সহকারীর দায়িত্ব পালন করছি কিন্তু এ ধরনের জাল টিকেটের সন্ধান আগে কখনও পাইনি। প্রতারকদের প্রতারনার কবল থেকে রক্ষা পেতে আসন বিহীন হলেও তারা ট্রেনের টিকেট স্টেশন কাউন্টার হতে সংগ্রহ করার কথা বলেন।
জামালপুর রেলওয়ে থানার ওসি মো.আলাউদ্দিন চৌধুরী বলেন জাল টিকেটের ব্যাপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আমার থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছে। তিনি বলেন সংঘবদ্ধ প্রতারকদের ধরতে এরই মধ্যে পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছেন।