| |

ফলুবাড়ীয়ায় বিদ্যুতের সটসার্কিটে আগুনে পোড়ার একমাস পর পারিবারিক বিরোধে আগুন দেওয়ার মামলা দায়ের ॥ এলাকায় ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জেলার ফুলবাড়ীয়ায় বিদ্যুতের সটসার্কিটের সৃষ্ট আগুনে বসতবাড়ী পোড়ার একমাস পর পারিবারিক বিরোধে আগুন দিয়ে বাড়ীঘরসহ মালামাল পোড়ানোর মামলা দায়ের হয়েছে। এ মামলায় স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে হয়রানী করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ফুলবাড়ীয়ার কান্দানিয়াসহ আশপাশ এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গত ৬ মার্চ সকাল ১১টার দিয়ে উপজেলার কান্দানিয়া গ্রামের হাজী আব্দুল হালিমের বাড়ীতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ফুলবাড়ীয়া, ত্রিশাল ও ভালুকার ৪টি দল দীর্ঘ সময় চেষ্ঠা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফুলবাড়ীয়া ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে বিদ্যুতের সট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হয় এবং প্রায় ৬০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে যাওয়ার খবর পরদিন ৭ মার্চ জাতীয় দৈনিক যুগান্তর, সমকালসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ পায়। এ ঘটনার প্রায় একমাস পর গত ১ এপ্রিল হাজী আব্দুল হালিমের ব্যবসায়ী, অর্থবিত্ত ও প্রভাবশালী ছেলে আবু সাঈদ তাদের বসতবাড়ীটি শক্রতাবসত আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ফুলবাড়ীয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। যার নং ০১ তাং ০১/০৪/১৬। মামলায় আবু সাঈদ বলেন, তাঁর ছোট ভগ্নিপতি স্থানীয় ফরিদের পাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও একই গ্রামের আলতাব আলীর ছেলে আবুল কাশেম পারিবারিক বিরোধের জের ধরে ঘটনার দিন মোটরসাইকেল যোগে এক সহযোগী নিয়ে তাঁদের বাড়ীতে যায় এবং বসতঘরে গিয়ে খাট, আলনা,বাঁশের তৈরী সিলিংসহ কাপড় চোপড় ও অন্যান্য আসবাবপত্রে কেরোসিন ঢেলে তাঁর হাতে থাকা দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে আবুল কাশেম দ্রুত আবারো মোটরসাইকেলযোগে তাঁর সহযোগীকে নিয়ে পালিয়ে যায়। অপরদিকে বিদ্যুতের সট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত এবং আগুনে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ফুলবাড়ীয়া স্টেশন একটি রিপোর্টও প্রদান করে বলে সুত্রে জানা গেছে। এ ঘটনার একমাস পর ফুলবাড়ীয়া থানায় পারিবারিক বিরোধে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বসতবাড়ী পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এ ধরণের মামলা দায়ের হওয়ায় এলাকায় ক্ষোভের সঞ্চারসহ তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার আসামী ও ফরিদের পাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম বলেন, তাঁর প্রথম স্ত্রী ও হাজী আব্দুল হালিমের মেয়ে হালিমা খাতুন ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪/১/২০০৯ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পর হাজী আব্দুল হালিম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁর (আবুল কাশেম) উপর চাপ প্রয়োগ করে বিনা চিকিৎসায় হালিমাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মৃত্যুর আগে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ, গরুসহ বিভিন্ন মালামাল শ্বশুর বাড়ীর লোকজন আবুল কাশেমের কাছে গচ্ছিত রাখেন এবং নানা সময়ে তাঁর কাছে রাখেন বলে অভিযোগ করে একাধিক মামলা করা হয়। এ নিয়ে ২/৩/২০০৯ তারিখে গ্রাম্য শালিশে সমঝোতার মাধ্যমে শ্বশুর হাজী আব্দুল হাজী আব্দুল হালিমের ছেলে আবু সাইদের কাছে আবুর কাশেম ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন এবং শালিশে মিট মিমাংশা করেন। আবুল কাশেম আরো জানান, এর পরও প্রভাবশালী হাজী আব্দুল হালিমের পরিবার তাকে নানাভাবে শায়েস্তা করবে বলে হুমকি দমকি দিয়ে আসছিল। বিদ্যুতের সটসার্কিটে হাজী আব্দুল হালিমের বসতবাড়ী পোড়ার দিন তিনি দাপ্তরিক কাজে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে ছিলেন। তিনি জানান, ফরিদের পাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৬ সনের ৩৪টি এনরোলম্যান্ট ফরম ও ১৬টি আপিল ফরম জমা দিতে আগে থেকে আবেদনের মাধ্যমে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে অবহিত করে তিনি ঐ দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে উপস্থিত থেকে দাপ্তরিক কাজ সমাপ্ত করেন। এ মামলাটি দায়েরের পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাসরিন আক্তার একটি প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেছেন। একই সাথে সংশ্লিষ্ঠ ভবানীপুর ইউপি চেয়ারম্যান এক প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করেছেন ফায়ার সার্ভিস, পত্র পত্রিকা ও স্থানীয় জনগনের ভাষ্যমতে বিদ্যুতের সটসার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে। এছাড়া আবুল কাশেম প্রাতিষ্ঠানিক কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিসে অবস্থান করার কথাও উল্লেখ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান। একই সাথে আগুনে পোড়ানোর ঘটনা সাজিয়ে দীর্ঘ একমাস পর পারিবারিক বিরোধের জের ধরে আবুল কাশেমকে হয়রানী করার অজুহাতে মিথ্যা মামলা দায়ের করায় এলাকার শত শত নিরীহ সাধারণ মানুষ, ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধাগণ তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। গত ৬ মার্চ কান্দানিয়া গ্রামের হাজী আব্দুল হালিমের বসতবাড়ীতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা সম্পর্কে গতকাল বিকালে মোবাইলে ফুলবাড়ীয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে জানতে চাইলে ফায়ারম্যান মিজানুর রহমান জানান, আগুনের খবর পেয়ে ফুলবাড়ীয়া, ত্রিশাল ও ভালুকা স্টেশনের ৪টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই এবং দীর্ঘ সময় চেষ্ঠা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তিনি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয় বিদ্যুতের সটসার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছিল। এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পেরণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে প্রণরায় তদন্ত করা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।