| |

বৃহস্পতিবার ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে উচুঁ সড়ক নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে আসছেন রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ

নজরুল ইসলাম খায়রুল-ঃ রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঢাকী ইউনিয়নে ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের উচুঁ সড়ক নির্মাণকাজে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে আসছেন। প্রথমবারের মতো দীর্ঘ উঁচু সড়ক নির্মিত হচ্ছে কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চলে। এর মাধ্যমে হাওরের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম এ তিনটি উপজেলা সরাসরি সড়ক যোগাযোগের আওতায় আসবে। এ সড়ককে কেন্দ্র করে অফুরন্ত সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছেন হাওরবাসী। “বর্ষায় নাও, শুকনায় পাও” প্রবাদের এই কথাটিই এতদিন বিশ্বাসের ভিত্তিমূল ছিল কিশোরগঞ্জের হাওরবাসীর জীবনে। হাওরে কখনো সারা বছরের উপযোগী সড়ক নির্মিত হবে-সেটা কল্পনাও করেননি এখানকার কেউ। এই প্রবাদকে মিথ্যা প্রমাণিত করে এবার হাওরে নির্মিত হচ্ছে উঁচু সড়ক। রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে এলাকা পরিদর্শন কালে জেলা প্রশাসক মো.আজিমুদ্দিন বিশ্বাস জানান, প্রত্যন্ত হাওর উপজেলা ইটনা ,মিঠামইন এবং অষ্টগ্রাম । এই অঞ্চলের দীর্ঘ দিনের মানুষের স্বপ্ন ছিল যে, সারা বছর চলাচলের জন্য যেন একটি সড়ক হয় । তাদের স্বপ্নটি আজ বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি ইটনা ,মিঠামইন এবং অষ্টগ্রাম সারা বছর চলাচল উপযোগী রোডটি করার ব্যাপারে তিনি খুবই আন্তরিক ছিলেন এবং আমাদের যে নির্দেশনা দিয়েছেন সে মোতাবেক সড়ক ও জনপথ বিভাগ এই রোডটি বাস্তবায়ন করবে। রাষ্ট্রপতি সড়কটি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার পর নির্মান কাজ শুরু হবে। এতে এলাকার দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। আশা করি এলাকার আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির আমুল পরিবর্তন ঘটবে। যাহা মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর প্রায় ছয়শ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৯.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের এ সড়কটি নির্মাণ করছে। সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের সাথে ১০ টি বড় ও ৭টি ছোট সেতু নির্মিত হবে। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সড়ক ও সেতু নির্মান হলে এলাকা বা প্রকৃতির কোন ক্ষতি হবে কিনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.শফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এই সড়কটি নির্মিত হলে হাওরের প্রকৃতির কোন ক্ষতি হবে না । এই হাওরঞ্চলের জনগন যাতে সারা বছর চলাচল করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া তিনি আরো জানান ভবিষ্যতে এই রাস্তা দিয়ে ব্রাম্মনবাড়িয়া,নাসিরনগরের সাথে সংযোগ কারার পরিকল্পনা রয়েছে । এদিকে সড়কটি সম্পর্কে এলাকার কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এই সড়কটি হলে আমাদের গ্রামের লোকজনের চলাচলের সুবিধা হবে। ব্যবসা-বানিজ্য করতে সহজ হবে। আমরা বহুদিন ধইরা কষ্ট করতাছি,এই সড়ক হইলে আমাদের এলাকার মানুষের অনেক সুখ-শান্তি হবে।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম, কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি একে নাছিম খান, সহ-সাধারণ সম্পাদক ও জিটিভির জেলা প্রতিনিধি মুনিরুজ্জামান খান চৌধুরী সোহেল, কিশোরগঞ্জ জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি,ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি সাইফউদ্দিন আহমেদ লেনিন, এসএসএফ, ডিজিএফআই, এনএসআই র‌্যাব ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।