| |

ভালুকায় বিদ্যুতের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, জনদূর্ভোগ চরমে

মোখলেছুর রহমান মনির : ময়মনসিংহের ভালুকায় নিরবিছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে প্রায় পৌনে দুই ঘন্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোড শেডিংয়ে অতিষ্ট বিভিন্ন মিলের হাজারো শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বিক্ষোদ্ধ জনতা। ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া মাষ্টার বাড়ি এলাকায় গতকাল শুক্রবার বিকেলে ওই অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। পরে ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আহসান তালুকদার ও ভালুকা মডেল থানার ওসি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই এলাকায় নিরবিছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস দিয়ে প্রায় অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুদ্ধরা। এদিকে দীর্ঘক্ষন মহাসড়ক অবরোধ করে রাখায় বৈশাখের প্রচন্ড গরমে গাড়িতে বসে থেকে অবর্ণনীয় দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাতায়তকারী হাজার হাজার নিরীহ যাত্রী সাধারণকে।
জানা যায়, বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার শিল্পাঞ্চলের বাসাবাড়িতে বসবাসকারী বিভিন্ন কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাগণ। পরে উপজেলা জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় লোডশেডিং বন্ধের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গতকাল বিকেল সোয়া চারটার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নেমে এসে অবস্থান নেয় ওই এলাকার বিক্ষুব্ধ হাজারো জনতা। ওই তারা বিদ্যুতের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। ভালুকায় বিদ্যুতের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধের ফলে উপজেলা জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ির ঘটনাস্থলের দুই দিকে প্রায় ৬০কিলোমিটার লম্বা যানজটের সৃষ্টি হয়। এদিকে বিক্ষুদ্ধ জনতা দীর্ঘ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখায় চরম দূর্ভোগ নেমে আসে ওই মহাসড়ক হয়ে চলাচলকারী হাজার হাজার নিরীহ যাত্রী সাধারণের ভাগ্যে। ওই সময় শিশু ও বয়স্কসহ শত শত যাত্রী সাধারণকে যানবাহন থেকে নেমে এসে মহাসড়কের পাশে গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। দীর্ঘ সময়ের অবরোধে সবচেয়ে বেশী কষ্ট পোহাতে হয়েছে শিশু-বৃদ্ধ ও মহিলা যাত্রী সাধারণকে। পরে খবর পেয়ে ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আহসান তালুকদার ও ভালুকা মডেল থানার ওসি পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ওই সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আহসান তালুকদার পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে অবরোধকারীদের নিরবিছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস দিলে বিকেল ৫টার দিকে মহাসড়ক ছেড়ে যায় অবরোধকারীরা। এরপর ওই সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
বিদ্যুতের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ চালাকালে অবরোধকারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দিনে প্রায় ১৬ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকেনা শিল্পাঞ্চাল হিসাবে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি এলকায়। সারাদিন কাজের শেষে বাসায় ফিরে প্রচন্ড গরমের মাঝে বিদ্যুতের অভাবে প্রতিদিনই অবর্ণনীয় দূর্ভোগ পোহাতে হয় ওই এলাকার পল্লী বিদ্যুতের হাজার হাজার গ্রাহক ও ভাড়াটিয়া দেরকে। বিদ্যুতের অভাবে লেখাপড়া করতে পারেনা শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ দিনেও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে আসতে হয়েছে তাদেরকে। ওই সময় বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী সাধরণের সাথে কথা হলে তারা জানায়, ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করা মানুষের নাগরিক অধীকার। তবে, এক জনের অধিকার হরণ করে অন্যের দাবি আদায়ে কোন যৌক্তিকতা নেই। আমাদেরকে জিম্মি করে দাবি আদায়ে কোন যুক্তি থাকতে পারেনা। কারণ, আমরা কোনভাবেই তাদের কষ্টের কারণ হইনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আহসান তালুকদার স্বদেশ সংবাদকে জানান, বিদ্যুতের দাবিতে শ্রমিকসহ স্থানীয় শত শত জনতা গতকাল উপজেলা জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেছিল । পরে তাদেরকে আশ্বস্ত করা তারা মহাসড়ক ছেড়ে যায়।