| |

ফুলবাড়ীয়ায় যৌতুকের জন্য স্বামী ও শাশুরীর নির্যাতনের শিকার ডলি

ফুলবাড়ীয়া ব্যুরো অফিস : আরও যৌতুকের টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করায় স্বামী ও শাশুরীর নির্যাতন শিকার হয়েছেন নিরীহ ডলি আক্তার। ঘটনাটি ঘটেছে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ৮নং রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের বাবুলের বাজার সংলগ্ন মৃত হাজী তমির উদ্দিন আকন্দ (তনু হাজী) এর পুত্রের সংসারে।
জানা যায়, প্রায় ১০বছর পূর্বে ইসলামী শরীয়ত মতে ফুলবাড়ীয়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের জাকির হোসেনের মেয়ে ডলি আক্তারের বিয়ে হয় একই উপজেলার ৮নং রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের বাবুলের বাজার সংলগ্ন মৃত হাজী তমির উদ্দিন আকন্দ (তনু হাজী) এর পুত্র নূরুল ইসলামের সাথে। বিয়ের পর কিছু দিন যেতে না যেতেই নূরুল ইসলাম ও তার মা বেগম নেছা মিলে বিভিন্নভাবে নির্যাতন শুরু করে ডলির উপর। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে ডলির পিতা জাকির হোসেন ৫০হাজার টাকার জিনিসপত্র তুলে দেন জামাই ও শাশুরীর হাতে। এদিকে দাম্পত্য জীবনে নতুন অতিথি হিসেবে তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে আসে। হঠাৎ আবারও শুরু হয় নির্যাতন, দাবী একটাই ১লাখ টাকা বাপের বাড়ী থেকে আনতে হবে।
কিন্তু তা কোনদিনই সম্ভব নয়, কারণ ডলির বাপের অবস্থা এতটা স্বচ্ছল না। নির্যাতনের বিষয়ে আইনি সহায়তার জন্য চলতি মাসের প্রথমদিকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করলে নূরুল ইসলাম আপোষ মিমাংসার প্রস্তাব দেয়। সর্বশেষ সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম মো. নূরে আলম এর উপস্থিতিতে নির্যাতন করবে না এবং করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিলে তার কোন আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না বলে একটি মুসলেকা নিয়ে আবার ডলি সংসারে ফিরে যায়। কিন্তু চোর শুনেনা ধর্মের কাহিনী। আবারও গত সপ্তাহে জামাই-শাশুরী মিলে ডলি উপর অমানষিক নির্যাতন করে। ডলির গায়ে আঘাতের চিহৃই তার স্বাক্ষী।
ডলির বাবা বলেন, আমরা গরিব মানুষ আর টাকা দিয়ে মানুষের মন রক্ষা করা যায় না। আমার মেয়েকে যে নির্যাতন ওরা করেছে, একজন মানুষ তা করতে পারে না।