| |

১০২ বছর বয়সেও জুলেখার ভাগ্যে জুটেনি বয়স্কভাতা’র কার্ড

খোরশেদ আলম ঃ  ১০২ বছর বয়সেও জুলেখা বেগমের ভাগ্যে জুটেনি বয়স্কভাতা’র কার্ড। জুলেখা শেরপুরের  ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রতাবনগর গ্রামের দিনমজুর মরহুম কলিমুদ্দিনের স্ত্রী। ১৯৭২ সালে স্বামী কলিমুদ্দিনের মৃত্যু হয়। সে সময় থেকেই জুলেখা বেগম ২ শিশু ছেলের অন্য জুগাতে ভিক্ষাবৃত্তি পেশা বেছে নেয়। জুলেখার স্বপ্ন ছিল ২ ছেলে বড় হলে তার দুঃখ দূর হবে। কিন্তু জুলেখার সে আশায় গুড়ে বালি। ছেলে আলাল গার্মেন্টস কর্মী ২ বছর আগে কর্মস্থলেই মারা যায়। অপর ছেলে দুলাল প্রতিবন্ধী। বিয়েসাধি করে আলাদা ঘর সংসার করছে। তার সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। এদিকে বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া জুলেখা বেগমের জটর জ্বালা মেটাতে ভিক্ষাবৃত্তি করতে হয়। ২০ সেপ্টেম্বর জুলেখা বেগম ভিক্ষাবৃত্তির জন্যে ঝিনাইগাতী প্রেসক্লাবে আসে। এ সময় সাংবাদিকদের সাথে তার জীবনের দুঃখ, কষ্ট আর দুুর্দশার কথা গুলো বলেন। কথা বলতে গিয়ে সে বারবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছিল। জুলেখা বেগম জানায়, তার মাথা গুজার কুড়ে ঘরটি দীর্ঘদিন থেকে বিধ্বস্ত। টাকা-পয়সার অভাবে তা মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারি-বেসরকারি কোন সাহায্য সহযোগীতা জুটেনি তার ভাগ্যে। তার অভিযোগ একটি বিধবা কার্ডের জন্যে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন কাজ হয়নি। বর্তমানে অনাহারে-অর্ধহারে কাটছে জুলেখার দিন। অভিজ্ঞ মহলের মতে, জুলেখা’র ভাগ্যে আদৌ জুটবে কি ১টি বয়স্কভাতা’র কার্ড? জুলেখার নামে বয়স্ক ভাতা’র কার্ডের ব্যাপারে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জয়নাল আবেদীন খান’র সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তার যে বয়স হয়েছে কার্ডের কোন প্রয়োজন নেই। সে এখন মারাই যাবে।