| |

ভালুকায় মাদরাসা শিক্ষককে গাজাঁ ব্যবসায়ী বানিয়ে আটকের চেষ্টা, পুলিশসহ আহত ৮

স্টাফ রির্পোটার : ময়মনসিংহের ভালুকায় এক নিরীহ মাদরাসা শিক্ষককে গাঁজা ব্যবসায়ী সাজিয়ে আটক করে থানায় নিয়ে যওয়ার সময় জনরোষের শিকার হয়েছেন সাদা পোষাকদারী দুই পুলিশ। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় অন্তত ৭জন আহত হন। গত রোববার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনীয়া ইউনিয়নের গোয়ারী মুক্তির বাজারে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, গত রোববার ঘটনার রাত ৮টার দিকে মুক্তির বাজারের আলফাজ উদ্দিনের ঔষধের দোকানে বসে কথা বলছিলেন গোয়ারী আমুনাটি পাড়া গ্রামের আব্দুল করিম ফকিরের ছেলে ভালুকা খারুয়ালী বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী শিক্ষক মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান। ওই সময় সাদা পোষাকধারী ভালুকা মডেল থানার এএসআই আবুল মুনসুর খান ও কনষ্টেবল রঞ্জু ওই বাজারের আলফাজ উদ্দিনের দোকানে যান এবং কথা বলার জন্য মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানকে ডেকে আনেন। ওই সময় একজন পুলিশ সদ্য উঠে যাওয়া মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানের চেয়ারের নীচ থেকে একটি পুটলা তুলে তাতে গাঁজা রয়েছে উল্লেখ করে মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানকে অভিযুক্ত করে তার হাতে হাতকড়া পড়িয়ে দেয়। ওই সময় স্থানীয় সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বার ফিরুজা খাতুন ও সাদেক হোসেন শোভা মেম্বারসহ এলাকার লোকজন মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান একজন ভাল মানুষ উল্লেখ করে তাকে থানায় না নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু পুলিশ তাদের কথা না শোনে মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানকে সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় তুলে নিয়ে যেতে চাইলে এলাকাবাসী এএসআই মুনসুর ও কনস্টেবল রঞ্জুর উপর চড়াও হয়। ওই সময় অবস্থা বেগতিক দেখে এএসআই মুনসুর ঘটনাস্থল থেকে সটকে গিয়ে থানায় খবর দেয়। পরে ভালুকা মডেল থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে বেধরক লাঠি চার্জ করে ঘটনা নিয়ন্ত্রনে আনে এবং কনস্টেবল রঞ্জুকে উদ্ধার করে। পরে এএসআই মনসুর খান ও কনস্টেবল রঞ্জুকে ভালুকা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদিকে, স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত মেম্বার সাদেক হোসেন শোভাকে হাসপাতালে প্রেরণ করে। ওই সময় পুলিশের এলোপাথারি লাঠির আঘাতে দোকানদারসহ অন্তত ৭জন আহত হন।
ঘটনার শিকার মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান জানান, মাগরিবের নামাজের পর আলফাজ ডাক্তারের ঔষুধের দোকানে বসে কথা বলার সময় সাদা পোষাকে থাকা পুলিশ তাকে অহেতুক মাদক বিক্রির অভিযোগে হাতকরা পড়িয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় দোকানদারগন প্রতিবাদ করেন এবং পরে পুলিশের সাথে এলাকাবাসির অপ্রিতকর ঘটনা ঘটে। মুক্তির বাজারের দোকানীরা জানান, ঘটনার সময় পুলিশ তাদের দোকানপাটে হামলা চালিয়ে লোকজনকে ব্যাপক মারধোর করেছে।
ভালুকা খারুয়ালী বালিকা দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান একজন আদর্শ শিক্ষক। গাঁজাতো দুরের কথা তিনি ধুমপানও করেন না। ভালুকা হাসপাতালের আরএমও জানান, ভালুকা মডেল থানার একজন এসআই ও একজন কনস্টেবল গত রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভালুকা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে তারা রাতেই ছুটি নিয়ে চলে যান। ভালুকা মডেল থানার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, নামের মিস্টেকের কারণে এই ঘটনাটি ঘটেছে এবং বিষয়টি মিমাংসা করার চেষ্টা চলছে।