| |

কেন্দুয়ায় ৯ম শ্রেণির ছাত্র খুন

মোঃ মহিউদ্দিন সরকার ঃ নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় গরু ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বল্লমের আঘাতে ইকবাল হোসেন নামে ৯ম শ্রেণির এক ছাত্র খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ২৫এপ্রিল সোমবার রাতে উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের চান্দলারা গ্রামে। নিহত ইকবাল রওশন ইজদানী একাডেমির ৯ম শ্রেণির ছাত্র এবং চান্দলারা গ্রামের সন্তোষ খাঁর পুত্র। কেন্দুয়া থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে গতকাল মঙ্গলবার সকালে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সার্কেল এসপি একেএম মামুন চিশ্তী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মুতাসিমুল ইসলাম, এসিল্যান্ট আঃ সালাম চৌধূরী, ওসি অভি রঞ্জন দেব, গড়াডোবা ইউপির নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বাবলু, রওশন ইজদানী একাডেমির সভাপতি সৈয়দুজ্জামান স্বপন এবং উক্ত একাডেমির শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ। এ ঘটনায় কয়েকটি বাড়ীঘরে হামলা ও ভাংচুর করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গেলে নিহত ইকবাল হোসেনের পিতা সন্তোষ খাঁ, মা সাজেদা, চাচী শামছুন্নাহার, চাচা আব্দুর রউফ খাঁ, আব্দুর রশিদ খাঁ এই প্রতিবেদককে জানান, সোমবার (২৫এপ্রিল) সকালে পার্শ্ববর্তী পূবাইল গ্রামের প্রতিবেশী বাড়ীর হাসিম উদ্দিনের ক্ষেতের ধান খাওয়ার অভিযোগে তাদের গরুর একটি বাছুরকে আটক করে নিয়ে যায় হাসিম উদ্দিনের বাড়ীতে। হাসিম উদ্দিনের ছেলেরা সারাদিন বাছুরটিকে বেঁেধ রাখে। সন্ধ্যার আগে ইকবাল হোসেন গিয়ে বাছুরটি নিয়ে আসতে থাকলে আমিন, বিপুল, আসাদ, ওয়াদুন, মিজান, সুমন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে ইকবাল হোসেনের উপর হামলা চালায়। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকেরা ইকবাল হোসেনের বুকে বল্লম বিদ্ধ করে। এতে মারাত্বক আহত ইকবালকে উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ১১টার দিকে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় দুলাল খাঁ ও আব্দুল লতিফ নামে আরোও দুইজন আহত হন। পরে দুলাল খাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া আলম, তারা মিয়াসহ এলাকার কয়েকজন জানান, পাশাপাশি গ্রামের মোড়ল গোষ্টির রোকন মিয়া ও খাঁ গোষ্টির সজিত খাঁ গত ২৩ এপ্রিল ইউপি নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী হন। এর মধ্যে রোকন মিয়া বিজয়ী হন এবং ইকবাল হোসেনের চাচাতো ভাই সজিত খাঁ পরাজিত হন। এ নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। এই হত্যার পেছনে নির্বাচনী জের থাকতে পারে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়ন রয়েছে।