| |

ফুলপুরে এক যুবককে নির্যাতনের পর চিতায় পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা

ফুলপুর সংবাদদাতা : ফুলপুরে চুর সন্দেহে এক যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের পর চিতায় পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, নগুয়া বাজারের স্টুডিও ব্যবসায়ী রিয়াদের দোকানের কম্পিউটারসহ অন্যান্য মালামাল চুরে যায়। ফকিরের কথামত চুর সন্দেহে রিয়াদ ও তার লোকজন ২৫ এপ্রিল সকালে নগুয়া গ্রামের হোসেন আলীর পুত্র ফরহাদ হোসেনকে (২৫) ছনকান্দা বাজারে ডেকে নিয়ে আটক করে। পরে তাকে কম্পিউটার উদ্ধারের নামে দিনভর আটক রেখে চালায় মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বর নির্যাতন। একই ভাবে জাহাঙ্গীর নামে অপর এক দোকান কর্মচারীকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করতে চাইলে তার পরিবারের লোকজন এসে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। ফরহাদ হোসেনকে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খেলার মাঠ ও শ্বশান ঘাটে আটক রেখে লাঠি পেটার পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন জায়গায় সিগারেটের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ক্ষতের সৃষ্টি করে। এছাড়া সাহাপাড়াস্থ শ্বশান খলায় উপর ও নিচে লাকড়ি দিয়ে ফরহাদকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় অজ্ঞাত এক মহিলা দেখে ফেলায় প্রাণে রক্ষা পায় ফরহাদ। ফরহাদ হোসেনের পিতা জানান, নির্যাতনের সময় রিয়াদ তাকে বিষয়টি ফোনে জানিয়েছে। তিনি ফরহাদকে সন্দেহের কারন জানতে চাইলে রিয়াদ জানিয়েছে ফকিরের কথামত ৬জনকে সন্দেহের তালিকায় নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বর্তমানে সে ফরহাদকে ছাড়তে চাইলেও সাথের লোকেরা ছাড়তে চাইছেনা। এ কথা শুনে তিনি ছেলের জন্য ঢাকার কাজ ছেড়ে গভীর রাতে ফুলপুর এসেছেন। এক পর্যায়ে পরিবারের লোকজন ফরহাদ হোসেনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ফুলপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে নির্যাতনের স্বীকার ফরহাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং নির্যাতনের যন্ত্রণায় ছটফট করছে। এ ঘটনায় ফরহাদ হোসেনের পিতা বাদি হয়ে রিয়াদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ফুলপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ফরহাদ হোসেন জানান, কম্পিউটার মেরামতের কথা বলে ফোনে ডেকে নিয়ে রিয়াদ ও তার লোকজন আমাকে আটক করে এবং কম্পিউটার চুরির অপবাদ দিয়ে দিনভর অমানসিক নির্যাতন চালায়। আমার সাথে থাকা ৪০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল সেট নিয়ে যায়। আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং এক পর্যায়ে শ্বশানে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে। আমার উপর নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি ও বিচার দাবি করছি।