| |

গ্রামের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে না পারলে রাজনীতি করা অর্থহীন : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “গ্রামের অর্থনীতিকে যদি আমরা শক্তিশালী করতে না পারি, গ্রামের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা যদি বৃদ্ধি করতে না পারি, তাহলে আমাদের রাজনীতি করার কোনো অর্থই থাকে না।”
গতকাল রোববার নিজের কার্যালয়ে সরকারের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমরা এটাই সব সময় চিন্তা করি যে, আমাদের উন্নয়ন তখনই সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারব, যদি উন্নয়নের ছেঁয়া গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছায়। আর সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অর্থনৈতিক নীতিমালা গ্রহণ করেছে।”
শেখ হাসিনা বেলন, আমাদের দলের রাজনীতির লক্ষ্যই হচ্ছে সমাজের নিম্ন স্তরে পড়ে থাকা দরিদ্র, খেটে খাওয়া, শ্রমজীবী মানুষের সার্বিক উন্নয়ন। সেই সাথে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান ও আয়-বৈষম্য হ্রাস করা। কাজেই আমাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা, মিশন-ভিশন কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন এবং বাস্তবায়নের যে ফলাফল সেটা যেন একেবারে তৃণমূল মানুষের কাছে পৌঁছায়- আমরা সেটাই নিশ্চিত করতে চাই।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মধ্যমেয়াদী বাজেট কাঠামো ঘোষণায় বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির উল্লেখ ছিল। এবার দ্বিতীয়বারের মত এ চুক্তি হল।
একটি মন্ত্রণালয় বছরব্যাপী কী কী কাজ করবে- তারই লিখিত চুক্তি এটি। পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে বছর শেষে তার মূল্যায়নও করা হবে।
এ চুক্তি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টরা আরও আন্তরিক হবেন এবং অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছনো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ করে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। বিশ্বসভায় আমরা মাথা উঁচু করে চলতে চাই। কারও কাছে ভিক্ষা করে, হাত পেতে নয়।”
২০০৮ এর নির্বাচনের আগে রূপকল্প-২০২১ ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ; যাতে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার প্রতিশ্র“তি রয়েছে।
সে প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লক্ষ্য স্থির রেখে আমরা উন্নয়নের যে গতিধারা সূচনা করেছিলাম; তারপরে বাংলাদেশ কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য জনগণের সেবা করা। আমরা সরকার গঠন করেই ঘোষণা দিয়েছিলাম, শুধু শাসক হিসেবে নয়, সেবক হিসেবে আমরা কাজ করব। জনগণের সেবক।”
উন্নয়নের জন্য পাঁচ বছর ‘খুব অল্প সময়’ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের গতি ধরে রাখার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, এখানে আপনারা যারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, আপনাদেরই কিন্তু দ্বায়িত্ব রয়েছে এই গতিটাকে ধরে রাখা। হয়তো সরকার আসবে সরকার বদলাবে। কিন্তু তারপরেও যদি এই গতিধারা ধরে রেখে এগিয়ে নিতে পারেন, তাহলে দেশের মানুষ লাভবান হবে।
কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ যেহেতু পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেহেতু তাদের মধ্যে কাজের সমন্বয় প্রয়োজন।
বাজেটে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, সে অনুপাতে ফল যাতে পাওয়া যায়- সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্বব্যাপী মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশ ‘সবক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক’ অগ্রগতি অর্জন করেছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, সেই মর্যাদা ধরে রাখতে হলে ‘আরও কাজ’ করা দরকার।
তিনি বেলন, আমাদের হাতে আর তিন বছর আছে। তারপর নির্বাচন। তখন জনগণ যাকে ভোট দেয় তারা ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু এই তিন বছরের মধ্যেই আমরা বাংলাদেশকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে যেতে চাই, যাতে এই বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কখনো কেউ খেলতে না পারে। বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ যেন আর কখনও শোষিত-বঞ্চিত না হয়।