| |

কিশোরগঞ্জে অনন্যা পরিবহনে অনিয়ম । চরম ভোগান্তির শিকার বাস যাত্রীরা

নজরুল ইসলাম খায়রুল: বাসে কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা আসা যাওয়ার ভালো মাধ্যম বলে পরিচিত অনন্যা ক্লাসিক ও অনন্যা পরিবহনে অন্যরকম অনিয়ম অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী হয়রানী বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিনিয়ত বাসের চালক ও হেল্পার মহিলাসহ যাত্রী সাধারণের সাথে রুঢ় ব্যবহার করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ অনিয়ম ও যাত্রী হয়রানী চলছে অনন্যা পরিবহনে। এ পরিবহনের বাসগুলো কিশোরগঞ্জ থেকে ভালো ভাবে ছেড়ে গেলেও রাজেন্দ্রপুর বা গাজীপুর থেকে শুরু হয় লোকাল বাসের মতো যাত্রী উঠানামা। বাসের চালক ও হেল্পার প্রায় সময়ই যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। টিকেটের পেছনে থাকা নাম্বারে অভিগোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। গাজীপুর গিয়ে গ্যাস নেওয়ার নামে শুরু হয় সময় ক্ষেপন। গ্যাস নেওয়ার জন্য গাজীপুরে অনেকগুলো গ্যাস পাম্প থাকা সত্বেও দক্ষিণ সালনায় নির্ধারিত একটি গ্যাস পাম্প থেকে গ্যাস নেওয়া হয়। যেখানে গ্যাস ঢুকে খুবই ধীর গতিতে। অনেক সময় থাকে অতিরিক্ত গাড়ীর ভীড়। যে কারণে সেখান থেকে গ্যাস নিতে ব্যয় হয় এক থেকে দেড় ঘন্টা সময়। এতে যাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাজ নষ্ট হয়ে যায়। পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে।
অনেকগুলো গ্যাস পাম্প থাকতেও এখান থেকেই গ্যাস নিতে হবে কেন? অনন্যার বাস চালকদের এ প্রশ্ন করলে তারা উত্তর দেন, আমরা মালিকের নির্দেশে এখান থেকে গ্যাস নেই। মালিকরা এখান থেকে বাকি গ্যাস নেন। মাস শেষে গ্যাসের দাম দেন। এতে করে যাত্রীদের তো প্রচুর সময় নষ্ট হয় এটাকি ভাবা উচিত না? সাধারণ যাত্রীদের এ প্রশ্নের উত্তরে বাস চালকদের জবাব হলো, আমরা কি বলবো, অফিসে গিয়ে অভিযোগ করেন, টিকিটের পেছনে নাম্বার দেওয়া আছে, মালিকদের জানান, আমরা মালিকেদের চাকরি করি, আপনাদের (যাত্রী) চাকরি করি না।
অনন্যা ক্লাসিকের যাত্রী আমিনুল জানান, কদিন আগে কিশোরগঞ্জ থেকে পাকুন্দিয়ার যাওয়ার জন্য গাইটাল আন্ত বাস টার্মিনালের কাউন্টার মাস্টার রাসেলের কাছে টিকেটের জন্য যাই। তিনি পাকুন্দিয়ার টিকেট নেই বলে জানান। তাই নির্ধারিত ৫০ টাকা ভাড়া কাউন্টারে দিয়ে অনন্যা ক্লাসিকের ৮৩৪১ নাম্বার গাড়ীতে উঠি। পথিমধ্যে হেল্পার টিকেট আছে কি না জানতে চাইলে তিনি কাউন্টারে টাকা দিয়েছেন বলে জানান। এতে ওই হেল্পার ক্ষিপ্ত হয়ে বলে আপনাকে টিকেট ছাড়া গাড়ীতে উঠার জন্য অতিরিক্ত জরিমানা দিতে হবে। বিষয়টি চালককে জানালে তিনিও একই কথা বলেন এবং কাউন্টারে ফোন করে রাসেলের কাছে জানতে চাইলে কাউন্টার মাস্টার টাকার কথা অস্বীকার করেন এবং ১৩০ টাকা ভাড়া দিয়ে থানাঘাটে নামতে হবে বলে রেখে দেন। বিষয়টি ওই যাত্রী পরের দিন কাউন্টার মাস্টার রাসেলকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে মোবাইলে কেন অস্বীকার করেছিলেন জানতে চাইলে বলেন, এটি আমাদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কৌশল। আমি যদি টাকার কথা ওই দিন স্বীকার করতাম তবে ড্রাইভার আর টাকা রাখত না, আপনাকেও নামিয়ে দিত। এভাবেই কি তাহলে যাত্রীদেরকে হয়রানী করেন সে প্রশ্নের উত্তর আর মিলেনি। এদিকে টিকেটের গায়ে দেখা গেল কাটা ছিড়া। থানাঘাটের টিকেট চাইলে দেয় মঠখোলার টিকেট। এ টিকেটে ৫০ টাকা লিখা থাকলেও ৭০ টাকা ভাড়া আদায় করে। ভাড়ার টাকা জায়েজ করে নিতে টিকেটের উপড়ে হাতে লিখে দিলেন ৭০ টাকা।
আরেক যাত্রী জানান, কিশোরগঞ্জ থেকে পাকুন্দিয়ার থানাঘাটে যাওয়ার জন্য গাইটাল আন্ত বাস টার্মিনালের কাউন্টার মাস্টার রাসেলের কাছে টিকেটের জন্য যাই। এতে ১৩০ টাকা ভাড়া রেখে টিকেট দিলেন কাপাসিয়ার। থানাঘাটের টিকেট দিলেন না কেন বললে সে জানায় এখানে কোনো যাত্রীর টিকেট নেই। তবে সেখানে যাত্রী ওঠানামা করে কেন বললে সদুত্তর দিতে পারেননি।
এদিকে শনিবার অনন্যা ক্লাসিকের ৪৬৪৮ নাম্বার গাড়ীর এক যাত্রী জানান, কাউন্টার মাস্টার আমাকে টিকেট ছাড়া যেতে ৮০ টাকা ভাড়া দিলেই থানাঘাটে নামিয়ে দিবে। এ বিষয়ে গত কয়েক দিন যাবত ফেসবুকে তোলপার সৃষ্টি হয়েছে।
আমিন সাদী নামের আইডির একটি পোষ্টে খায়রুল ইসলাম লিখেন, ভাই আপনি বিষয়টা শ্রমিক নেতাদের জানান। জন সাধারণের উপকার হবে। স্বপন শুভ বলেন, যাত্রী হয়রানীকারীদের শাস্তি চাই। ভালো ট্রাফিক ওদের মুখোশ খুলে ফেলুন। রিপন বলেন, এ বাস সার্ভিস খুবই বাজে। এমদাদুল্লাহ্ বলেন, আমি অনন্যার নিয়মিত যাত্রী। প্রতিনিয়তই অনিয়মের শিকার হচ্ছি। ভালো গাড়ী নাই কি আর করবো। জুবায়ের আহমেদ বলেন, এরা যাত্রীদের সঙ্গে প্রায়ই খারাপ আচরণ করে। আজহার ইসলাম বলেন, যাত্রীদের সাথে প্রতারণা মেনে নেওয়া যায় না। মিজানুর রহমান বলেন, এসব বাসে মহিলা যাত্রীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে প্রায়ই। যেখানে সেখানে যাত্রী ওঠানামা করে।
জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে অনন্যা ক্লাসিকের বিষয়ে কড়া মন্তব্য করে বলেন, অনন্যা ক্লাসিকের এসব কাউন্টার নিয়ন্ত্রণ করেন কাপাসিয়া ও ঢাকার পরিবহন মালিকরা। তাই সেখানে আমরা ভূমিকা নিতে পারি না। তবে অনন্যা পরিবহনের বিষয়ে যেকোনো সমস্যা হলে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।