| |

দেলদুয়ারে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থক-পুলিশ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হামলা, ভাংচুর, গুলি পুলিশ সহ আহত-২০

বিভাস কৃষ্ণ চৌধুরী: টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে গতকাল সোমবার সাড়ে ১০ টায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় উপজেলা চত্ত্বর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। কয়েক হাজার বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্র ভঙ্গ করতে পুলিশ ২০ রাউন্ড গুলি ও ৩টি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১০ জন পুলিশ সদস্য সহ ২০ জন আহত হয়। গুলি বিদ্ধ আহত একজনের অবস্থা আশঙ্কা জনক।
জানা যায়, আটিয়া ইউনিয়নের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী (স্বতন্ত্র) মো: সাজ্জাদ হোসেন আজাদ ভোট পুন:গণনার দাবীতে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ কর্মী সমর্থক নিয়ে মিছিল সহকারে সকাল সাড়ে ১০ টায় উপজেলা পরিষদ ভবন ঘেরাও করে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা মারমুখি হয়ে উঠলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পুলিশ সদস্যরা এক নারী কর্মীকে আঘাত করলে তারা পুলিশকে ধাওয়া করে। এসময় পুরুষ কর্মীরা পরিষদ ভবনের করিডরে ডুকে একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পরিষদের সামনে রাখা ১০/১২টি মোটর সাইকেল ভাংচুর চালায়। পুলিশ অবস্থা বেগতিক দেখে থানার ভিতরে আশ্রয় নেয়। এ সুযোগে বিক্ষুব্ধ জনতা গ্রীল ভেঙে ভিতরে ডুকে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তর ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। সেই সঙ্গে একদল নারী কর্মী উপজেলা নির্বাচন অফিসে হামলা চালায়। পরে পুলিশ সংঘবদ্ধ হয়ে থানা থেকে গুলি চালাতে চালাতে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ধাওয়া করে। সেই সঙ্গে ৩টি টিয়ারশেলও নিক্ষেপ করে। এ সময় গুলিবিদ্ধ ও পুলিশের লাঠির আঘাতে ১০ জন বিক্ষোভকারী ও অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরে টাঙ্গাইল থেকে দাঙ্গা পুলিশ ও র‌্যাব-১২ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
এ ব্যাপারে দেলদুয়ার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, এটা ১০ মিনিটের কারবার। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। টাঙ্গাইল থানা থেকে ফোর্স আসার আগেই আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছি। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
অগ্নিসংযোগ ও হামলা ঘটনা অস্বী^কার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন কবির বলেন, আমার উপজেলাতে কোন হামলাও হয়নি অগ্নিংযোগও হয়নি। সব ভালো আছে।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।