| |

সবুজ বাংলা বালিকা দাখিল মাদ্রাসার বেহাল দশা, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

বিভাস কৃষ্ণ চৌধুরী: টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বোয়ালী সবুজ বাংলা বালিকা দাখিল মাদ্রাসার শ্রেণি কক্ষ সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। এছাড়া মাদ্রাসা চত্ত্বরের মধ্যে মসজিদটির অবস্থাও অত্যান্ত লাজুক। মাদ্রাসার পূর্ব পাশের চারটি শ্রেণি কক্ষ বিশিষ্ট টিনসেট ঘরটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ভেঙ্গে যাবার উপক্রম হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা আতঙ্কে রয়েছে। ফলে পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত উপজেলার বোয়ালী বাজার থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। এখানে দীর্ঘদিন যাবত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলামিক শিক্ষায় শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। মাদ্রাসায় যাতায়াতের রাস্তাগুলো একেবাড়েই চলাচলের অযোগ্য। শুকনো মৌসুমে ধুলোই ধুসর হয়ে য়ায় আবার বর্ষা মৌসুম এলেই শুরু হয় থকথরক কাঁদা। কাঁদামাক্ত এই রাস্তা দিয়েই প্রতিদিন ছাত্র-ছাত্রী সহ হাজরো লোকের চলাচল।
ছাত্রীদের কাছে তাদের সমস্যার কথা জানতে চাইলে তারা জানায়, শ্রেণি কক্ষ, নামাজ খানা, ব্রেঞ্চ, বৈদ্যুতিক পাখা, নিরপদ পানির ব্যবস্থা এবং যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন দরকার বলে দাবি করেন। সালমা নামের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ব্যথিত কন্ঠে বলেন, মঙ্গলবার মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে রাস্তায় প্রচন্ড কাঁদায় আমার জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। পরে আমি ওই দিন আর ক্লাস না করেই বাড়ি ফিওে যাই।
মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ফজলুল হক রতন বলেন, বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত, অবহেলিত মাদ্রাসাটিতে শিক্ষার ফলাফলের দিকে বরাবরই ভাল অবস্থানে রয়েছে। এ বছরে ইবতেদায়ী সমাপনিতে ১৪ জনের বৃত্তি প্রাপ্তি এবং শতভাগ পাশ যা সখীপুরে সেরা সাফল্য। কিন্তুু মাদ্রাসার অবকাঠামোসহ বিভিন্ন সমস্যা থাকায় পাঠদান ব্যহত হচ্ছে।
মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন জানান, উপজেলার এক মাত্র এমপিও ভুক্ত ইসলামি নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রামের নারীদের মধ্যে ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষা দেওয়া হয় যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরো জানান , মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত সরকারি অনুদানের তেমন কোন চিহ্ন নেই। আমরা বরাবর মাদ্রাসার উন্নয়নের দাবী করলেও এখনও কোন অনুদান পাইনি।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ইব্রাহিম খন্দকার জানান, উপজেলা সদর থেকে এ মাদ্রাসাটি প্রায় ৮ কিলোমিটার দক্ষিন-পূর্ব দিকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত। নারীদের শিক্ষা বিস্তারে মাদ্রাসাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এখানে ২ শতাধিক ছাত্রীসহ প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী লেখা পড়া করছে। তিনি মাদ্র্সার শ্রেণি কক্ষ,যাতায়াতের রাস্তা,মসজিদ, ছাত্রীদের নামাজ খানা, ব্রেঞ্চ সহ নানা সমস্যা প্রতিকারের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।