| |

ঝিনাইগাতী হাসপাতালে খুঁড়িয়ে চলছে স্বাস্থ্য সেবা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রোগীরা

ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি : শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনাসহ নানা কারণে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে স্বাস্থ্য সেবা। ফলে এ উপজেলার রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ উপজেলার প্রায় ২ লাখ লোকের চিকিৎসা ভরসাস্থল ৩১ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রতিদিন এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা লাভের আশায় শতশত রোগী ভীড় করে। কিন্তু চিকিৎসা সেবা ও ওষুধপত্র তো দূরের…. কথা চিকিৎসকেরও দেখা মেলেনা রোগীদের ভাগ্যে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে শূণ্য হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে রোগীদের। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার থাকার কথা ১৭ জন। কাগজে-কলমে কর্মরত আছেন ৮ জন। কিন্তু বাস্তবে নেই। নানা অজুহাতে কর্মস্থলের বাইরে অবস্থান করছেন তারা। মাঝেমধ্যে ২/১ জন চিকিৎসকের দেখা মিললেও তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ। রোগীদের অভিযোগ, এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুরো মাস চিকিৎসকের দেখা না মিললেও মাসের শেষে বেতন-ভাতা উত্তোলনের সময় আবির্ভাব ঘটে তাদের। আবাসিক মেডিকেল অফিসারদের কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ থাকলেও প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ অন্যান্যদের ক্ষেত্রে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তা মানা হচ্ছে না। জরুরী বিভাগে ২৪ ঘণ্টা ১ জন মেডিকেল অফিসার দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও এখানে তা মানা হয় না। ফলে রোগীদের চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। চিকিৎসকদের কর্মস্থলে দু’বছর থাকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ঘোষণা এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানা হচ্ছে না। এ উপজেলাবাসীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে কয়েক মাস পূর্বে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭ জন চিকিৎসক দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র নির্দেশ চিকিৎসকদের প্রতিটি কর্মস্থলে ২ বছর থাকতে হবে। কিন্তু এ নির্দেশ উপেক্ষা করে নানাভাবে তয়-তদবিরের মাধ্যমে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের সুবিধা জনক স্থানে চলে যান। বর্তমানে চিকিৎসক শূণ্য হয়ে পড়েছে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বিভিন্ন স্থান থেকে চিকিৎসক এনে এবং চিকিৎসা সহকারীদের মাধ্যমে জোড়াতালি দিয়ে চালাতে হচ্ছে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স। দীর্ঘদিন ধরে আরএমও ও ষ্টোরকিপারের পদ দু’টি শূণ্য রয়েছে। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশন থিয়েটার থাকলেও চিকিৎসকের কর্তব্যে অবহেলার কারনে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। ব্যবহারের অভাবে অপারেশন থিয়েটারের অবস্থা জরাজীর্ণ। এক্সরে মেশিনটি বিকল থাকায় অপারেটর বসে বসে বেতন-ভাতা নিচ্ছেন। এক্সরে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দূর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। ৪ জন ঝাড়–দার ও ১ জন মালি কর্মরত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ। তারা নিয়মিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন না রেখে ২/১ জন মহিলাকে দিয়ে দায়সাড়া গোছের কাজ সাড়িয়ে নিচ্ছেন। আর বসে বসে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন তারা। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ল্যাবরোটরী’র ২টি পদের মধ্যে রয়েছেন ১ জন। ফলে শুধু ম্যালেরিয়া ব্যতীত অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয় রোগীদের বাইরে থেকে। জরুরী বিভাগে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি বিশুদ্ধ করণ মেশিন নেই। ২ জন নিরাপত্তা প্রহরীর পদ শূণ্য থাকায় রাতে মাদক সেবীদের আড্ডা খানায় পরিণত হয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগেন রোগীরা। ২ জন মশালচী’র পদ শূণ্য থাকায় রোগীদের খাবার পরিবেশনে জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। নার্সদের ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালনের নিয়ম থাকলেও রোগীদের প্রয়োজনে দেখা মিলেনা নার্সদের। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে কর্তব্যে অবহেলা ও রোগীদের সাথে অসাদাচরণের অভিযোগ। এ্যাম্বুলেন্স চালককে সঠিক সময়ে পাওয়া যায় না। তার বিরুদ্ধে রয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভবণ ও আবাসিক ভবণগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা। দরজা-জানালা ভাঙ্গা ও ছাদ চুয়ে পানি পরে। প্রায় প্রতি বছরই এ সব ভবণগুলো সংস্কারের নামে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম জয় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি সবেমাত্র যোগদান করেছি। ইতিমধ্যেই কর্তব্যে অবহেলার কারনে চিকিৎসকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারণ দর্শানোসহ তাদের কাছে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।