| |

বাংলাদেশ ব্যাংকের ল্যাপটপ ক্রয় করে নিরাপত্তাহীনতায় স্কুল শিক্ষিকা, তোলপাড়

গফরগাঁও প্রতিনিধি ঃ ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের এক স্কুল শিক্ষিকা বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তার কাছ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি ল্যাপটপ ক্রয় করে নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন। ল্যাপটপটি ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও তার লোকজন স্কুল শিক্ষিকাকে নানা রকম ক্ষতি করাসহ প্রাননাশের হুমকি দিচ্ছে, প্রতিদিন রাতে সন্ত্রাসী লোকজন তার বাড়িতে হানা দিচ্ছে। স্কুল শিক্ষিকা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কিংবা গফরগাঁও থানা পুলিশের কাছে ল্যাপটপটি বুঝিয়ে দিতে চাইলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং থানা পুলিশ এর বিপরীতে কোন প্রমানপত্র দিতে রাজী হচ্ছে না। এ ঘটনায় গফরগাঁওয়ে তোলপাড় চলছে।
জানা গেছে, গফরগাঁওয়ের খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত সিনিয়র শিক্ষকা রহিমা খাতুন গত বছরের ১২ মে তারিখে তার পূর্ব পরিচিত ও তার গ্রামের পাশ^বর্তী রৌহা গ্রামের বাসিন্দা বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর সচিবালয়ের ( সচিব বিভাগ) উপ-মহাব্যবস্থাপক মোঃ আব্দুস সাত্তারের কাছ থেকে একটি পুরাতন ল্যাপটপ ক্রয় করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোঃ আব্দুস সাত্তার স্কুল শিক্ষিকা রহিমা খাতুনের কাছে ল্যপটপটি বিক্রয় করার সময় ল্যাপটপটি যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ তথ্যটি গোপন রাখে। এ সময় রহিমা খাতুন বারবার তাগাদা দিয়েও আব্দুস সাত্তারের কাছ থেকে কোন ক্রয় রশিদ আদায় করতে পারেনি। এর আগে রহিমা খাতুন ও তার আত্বীয় স্বজন এমএলএম কোম্পানী প্যারাডক্সের কাছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা প্রতারিত হয়ে ওই টাকাগুলো উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোঃ আব্দুস সাত্তারের শরণাপন্ন হয়। এই সময় আব্দুস সাত্তার টাকা উদ্ধারের কথা বলে রহিমা খাতুন ও তার আত্বীয় স্বজনের কাছ থেকে খরচ বাবদ ৫ লাখ টাকা নেয়। উপায়ন্তর না পেয়ে রহিমা খাতুন টাকা উদ্ধার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর সচিবালয়ের ( সচিব বিভাগ) উপ-মহাব্যবস্থাপক মোঃ আব্দুস সাত্তারের প্রতারণার প্রতিকার চেয়ে অর্থমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন । রহিমা খাতুনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১০ মার্চ অর্থ মন্ত্রনালয় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনুনাগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের এইচআরডি বিভাগের ব্যবস্থাপক মাঈন উদ্দিন আহমেদকে। তদন্তকালে রহিমা খাতুন জানতে পারেন মোঃ আব্দুস সাত্তারের কাছ থেকে ক্রয় করা ল্যাপটপটি বাংলাদেশ ব্যাংকের। সে এটি ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের আরও ল্যাপটপ সে বিক্রি করে দিযেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা ফাঁস হয়ে যাবার পর গত এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে মোঃ আব্দুস সাত্তার ও তার লোকজন রহিমা খাতুনের কাছ থেকে এ ল্যাপটপটি নেওয়ার জন্য বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিন রাতে সন্ত্রাসী লোকজন রহিমা খাতুনের গফরগাঁও পৌর শহরের পুখুরয়িা রোডের বাসায় গিয়ে ল্যাপটপটি ফেরত দিতে বলছে। এ ল্যাপটপটি ফেরত না দিলে রহিমা খাতুনকে প্রাননাশের হুমকি দিচ্ছে।
এ ঘটনায় রহিমা খাতুন ৮ এপ্রিল গফরগাঁও থানায় একটি জিডি করে। রহিমা খাতুন এই ল্যাপটপটি বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তকারি কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন আহমেদ কিংবা গফরগাঁও থানার ওসি তোফাজ্জেল হোসেনের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে এর বিপরীতে বুঝিযে দেওয়ার রশিদ চাইলে তারা তা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে। রহিমা খাতুনও ল্যাপটপটি বুঝিয়ে দিতে পারেনি।
রহিমা খাতুন জানায়, যেহেতু ল্যাপটপটি বাংলাদেশ ব্যাংকের এবং ল্যাপটপের বিক্রেতা মোঃ আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে অনেক বড় বড় অভিযোগ শোনা যাচ্ছে সে কারনে যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও যথাযথ নিয়ম অনুসরন না করে ল্যাপটপ দেওয়া আাইন সন্মত হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তকারী কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন আহমেদ জানায়, ঘন ঘন বিদেশ যাওয়া সহ অনেক বিষয়ে এ ব্যাংকের গর্ভণর সচিব বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মোঃ আব্দুস সাত্তারের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তার শাখার ব্যবস্থাপক তার কাছে থাকা ব্যাংকের ল্যাপটপগুলো ফেরত দিতে বললে সে ফেরত দিতে পারেনি।